ভোটের হাওয়ায় বিজয় দিবস | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ভোটের হাওয়ায় বিজয় দিবস

এ মাসের শেষেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন৷ ফলে এবারের বিজয় দিবসও পেয়েছে একটু অন্যরকম গুরুত্ব৷ জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাজনৈতিক নেতারা যেমন ভোটের কথা বলেছেন, সাধারণ মানুষও বলেছেন নির্বাচনে প্রত্যাশার কথা৷

সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ছাড়াও রাজধানীতে ছিল বিজয় দিবসের র‌্যালিসহ নানা আয়োজন৷ প্রার্থীরাও বিজয় দিবসে চালিয়েছেন নির্বাচনী প্রচারণা৷

ভোরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়৷ এরপর রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

‘জামায়াত' প্রশ্নে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এক সাংবাদিককে ‘দেখে নেয়ার' হুমকি দিলেও একই প্রসঙ্গে এদিন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্ববায়ক ড. কামাল হোসেন ছিলেন কৌশলী৷ সরাসরি জামায়াত বিষয়ে কোনো উত্তর না দিলেও, জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পর ড. কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘দেশে এখন জবরদস্তি লাঠিয়াল বাহিনীর শাসন চলছে৷ স্বাধীন দেশে এগুলো মেনে নেওয়া যায় না৷ ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে এই লাঠিয়াল বাহিনীর মোকাবেলা করতে হবে৷''

ড. কামাল বলেন, ‘‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে৷ তাদের উদ্দেশ্য ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা৷ তারা যে স্বপ্ন দেখেছে সেই আইনের শাসন, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জীবনের নিরাপত্তা, সেগুলো আমাদের সংবিধানের মূল চার নীতিতেও আছে৷ সেই নীতিগুলো সামনে রেখে তারা জীবন দিয়েছে৷ আমরাও দেশকে সেইভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবো৷''

তিনি আরো  বলেন, ‘‘দেশে স্বাধীনতা এলেও এখনও মানুষের মুক্তি আসেনি৷ মানুষের মুক্তির জন্য আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে৷''

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘দেশে এখনো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি৷ অথচ নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি৷ আমাদের প্রার্থীদের গুলি করা হচ্ছে৷ প্রচারের মাঠ থেকে কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে৷ দেশে একটি প্রহসনের নির্বাচন করার চেষ্টা চলছে৷ নির্বাচন কমিশন মেরুদন্ডহীন৷ নির্বাচনের লড়াইয়ের সাথে কারাবন্দি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তির আন্দোলন চলবে৷''

এদিকে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফেনীতে বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘নীল নকশা অনুযায়ী ঐক্যফ্রন্ট নিজেরা নিজেদের ওপর হামলা করে সরকারের ওপর এবং আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে৷ জনগণ তাদের এই চক্রান্ত বুঝতে পেরেছে৷ আগামী ৩০ ডিসেম্বর নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের জনগণ আবার সমুচিত জবাব দেবে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা নিশ্চিত পরাজয় জেনে অপশক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তারা জনগণের পক্ষ থেকে সাড়া না পেয়ে নিজেরা উসকানিমূলক তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে৷ এতে সরকারের বা আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই৷''

অডিও শুনুন 03:57

‘নিরপেক্ষ মানুষ পাওয়া কঠিন, রাজনীতিও ধর্মের দখলে চলে গেছে’

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন মুক্তিযোদ্ধাদের এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘আমি তখন কিশোর ছিলাম৷ কিন্তু অবুঝ ছিলাম না৷ যারা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আমাদের মা বোনদের ইজ্জত তুলে দিয়েছিল- তাদের বাড়িতে, গাড়িতে লাল সবুজের পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত করা হয়েছে৷ নতুন প্রজন্মের একজন সদস্য হিসেবে লজ্জায় আমার বুক ফেটে যায়৷''

ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিজয় দিবসের নানা অনুষ্ঠানে ৩০ ডিসেম্বর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে৷ বলা হয়েছে সবাই যেন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন৷ একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতানাবিরোধী কোনো দল ও প্রার্থীকে ভোট না দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে৷

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা চত্বরে বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘‘জামায়াত, জঙ্গি ও সব খুনিদের ঠিকানা এখন বিএনপি৷ তাই বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতা ও রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত৷''

ঢাকায় বিএনপি বিজয় দিবসের র‌্যালি করেছে৷ আর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের উদ্যোগে ঢাকাসহ সারাদেশে বিজয় মঞ্চ করে বিজয় উৎসব শুরু হয়েছে৷

অডিও শুনুন 01:30

‘আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসুক’

এবারে বিজয়ের মাসে নির্বাচন আলাদা কোনো গুরুত্ব বহন করে কিনা সেই প্রশ্ন ছিল মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আফসান চৌধুরীর কাছে৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে ভালো, উন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশ আছে৷ তবে মুক্তিযুদ্ধে মানুষ যখন গেছে অতকিছু চিন্তা করে সে যায়নি৷ সে দেশকে স্বাধীন করতে গিয়েছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের যে অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে তা আমরা কাটিয়ে উঠেছি৷ অর্থনীতি এগিয়েছে৷ কিন্তু সামাজিক যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটানো যায়নি৷ রাজাকাররা ছিল  নিম্নবিত্ত৷ কিন্তু শান্তি কমিটিতে যারা ছিল তারা ছিল প্রভাবশালী৷ রাজাকারদের হয়তো বিচার করা গেছে৷ কিন্তু শান্তি কমিটির লোকজনের বিচার হয়নি৷ লুটপাটের বিচার হয়নি৷ আর যারা লুটপাট করেছে তারা সংখ্যায় কম৷ আমরা এখন দেখছি  বাংলাদেশে লুটপাট বহাল আছে৷ দখলের রাজনীতি কায়েম হয়েছে৷ নিরপেক্ষ মানুষ পাওয়া কঠিন৷ যে কোনো না কোনো পক্ষ নিচ্ছে৷ রাজনীতিও ধর্মের দখলে চলে গেছে৷''

শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসুক৷ জামায়াত-বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট এখন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি৷ তারা ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হবে৷ শহীদদের আত্মা কষ্ট পাবে৷ তাই এবার বিজয় দিবসে আমাদের শপথ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে৷ সে লক্ষেই আমরা কাজ করছি৷''

অডিও শুনুন 01:12

‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চাই’

এদিকে বিজয় দিবসে ড. কামাল হোসেনকে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গ ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে স্মারক লিপি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী৷ বিকেলে তারা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তার বাসায় দেখা করে এই স্মারকলিপি দেন৷ তাদের একজন মাজহারুল কবির শাওন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমরা ড. কামাল হোসেকে বলেছি আপনি সংবিধান প্রণেতাদের একজন৷ সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা আছে৷ আপনি এবং আপনার দল গণফোরামে যারা আছেন তারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি৷ কিন্তু আপনাদের সাথে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াত নির্বাচন করছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি৷ তাদেরকে ত্যাগ করুন৷ আর যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকারী তাদেরও সঙ্গ ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছি৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এই বিজয় দিবসে আমার মত আরো অনেক তরুণ ভোটারের প্রত্যাশা স্বাধীনতবিরোধীদের যেন কেউ ভোট না দেন৷ আমরা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চাই৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন