ভোটের আগে ফের গোর্খাল্যান্ড নিয়ে মোদী-মমতা দ্বন্দ্ব | বিশ্ব | DW | 05.10.2020

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভোটের আগে ফের গোর্খাল্যান্ড নিয়ে মোদী-মমতা দ্বন্দ্ব

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে বৈঠক ডাকল মোদী সরকার। তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক।

যে কোনো ভোটের আগেই নিয়ম করে কিছু বিষয় ওঠেই। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও উঠল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষেণ রেড্ডি বুধবার দিল্লিতে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে তিনি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অফিসাররা থাকবেন, সেই সঙ্গে ডাকা হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতিকে। এই বৈঠক নিয়েই আলোড়ন শুরু হয়েছে রাজ্যে।

গোর্খাল্যান্ডের দাবিটা পুরনো। স্বাধীনতার আগে থেকে এই দাবি উঠেছে। দাবিটা হলো, দার্জিলিং-এর পাহাড়ি এলাকাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বের করে নতুন রাজ্য করতে হবে। তার নাম হবে গোর্খাল্যান্ড। ১৯৮৬ সাল থেকে সুবাস ঘিসিং-এর জিএনএলএফ গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সহিংস আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮৮ সালে গঠিত হয় দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল। ঘিসিং প্রধান হন। ২০০৭ সালে উত্থান বিমল গুরুং ও তাঁর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার। এখন এই আন্দোলনের নেতৃত্বে তিনি ও তাঁর সংগঠন। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিয়োগও আছে। বিজেপির সঙ্গে তাঁর জোটও আছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যয় সরকার ঠিক করেছে, রাজ্য থেকে কোনো অফিসার ওই বৈঠকে যোগ দেবেন না। কারণ, রাজ্যের জেলাশাসক পর্যায়ের অফিসারদের সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার বৈঠকে ডাকতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুসারে, তাঁদের রাজ্য সরকারের মাধ্যমে ডাকতে হয়। এই ধরনের বৈঠকে রাজ্য সরকারের তরফে কে কে যোগ দেবেন তা ঠিক করবে রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নয়।

এই সময়ে এ ভাবে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে মোদী সরকারের উদ্যোগের পিছনে রাজনীতি আছে বলে মনে করছে তৃণমূল। দলের সাংসদ, রাজ্যসভার নেতা ও জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়েন ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''এই বৈঠক নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। বিজেপি সমানে দেশকে গণতন্ত্র থেকে স্বৈরতন্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। ওরা তো সংবিধানকে আবার নতুন করে লিখতে চাইছে।''

যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে ডয়চে ভেলেকে রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি রাজু বন্দ্যোপধ্যায় বলেছেন, ''মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান না দার্জিলিং সমস্যার সমাধান হোক। মোদী সরকার চায়। সে জন্যই তারা বৈঠক ডেকেছে। আলোচনা ছাড়া সমাধানের পথ নেই। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সমাধান চান না বলেই রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের পাঠাচ্ছেন না।''

তৃণমূলের প্রশ্ন, নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় কেটে গেছে। এতদিন কেন বৈঠকের কথা মনে পড়ল না? আর সংবিধান ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা মেনে কেন বৈঠক ডাকা হলো না? কী করে অফিসারদের সরাসরি ডাকল মোদী সরকার? এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য আলাদা। উদ্দেশ্য হলো রাজনীতি করা। দার্জিলিং শান্ত সেটা তারা মেনে নিতে পারছে না।

তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''আমি প্রশাসনের অঙ্গ নই, তাই প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বলতে পারব না। আমি সাধারণ নাগরিক হিসাবে একটা কথা বলতে চাই। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং পলাতক এবং অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে ভয়াবহ সব অভিযোগ আছে। তাঁকে কী করে ডেকে পাঠাতে পারে কেন্দ্র?''

গোর্খা নেতা বিনয় তামাং আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। আর বিমল গুরুংরা বিজেপি-র সঙ্গে। এ বার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি আসন গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ের তিনটি আসনের গুরুত্ব কম নয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সে জন্যই দার্জিলিং নিয়ে আবার নড়াচড়া শুরু হয়েছে। বিজেপি তাদের ঘোষণাপত্রে এক সময় গোর্খাল্যান্ডের কথা বলেছিল। সে জন্যই এখন একটু নাড়াচড়া না করলে লোকের কাছে বার্তা দেয়া যাবে না। সে জন্যই আবার গোর্খাল্যান্ডের বিষয়টি উঠল। তাঁরা মনে করছেন, দুই পক্ষই তাই ভোটের আগে নিজের মতো করে বার্তা দিচ্ছে।