‘ভেন্যুর অভাবে ঢাকায় ওপেন কনসার্ট বন্ধ হয়ে গেছে′ | আলাপ | DW | 26.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘ভেন্যুর অভাবে ঢাকায় ওপেন কনসার্ট বন্ধ হয়ে গেছে'

এখনো ওপেন কনসার্টে জড়ো হয় হাজারো মানুষ৷ তারপরও সঙ্কট আছে, আছে সমস্যা এবং সম্ভাবনাও৷ সব বিষয় নিয়েই ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)-র সাধারণ সম্পাদক শেখ মনিরুল আলম টিপু৷

ডয়চে ভেলে: এক দশক আগেও বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতের জয়জয়কার ছিল, হঠাৎ করে ছন্দপতন কেন?

 শেখ মনিরুল আলম টিপু : ১০/১৫ বছর আগে ব্যান্ড মিউজিক নিয়ে যে উন্মাদনা ছিল, সেটা এখন যে নেই, সেটা বলা যাবে না৷ এখনো আছে ভালোভাবেই৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু পরিবর্তন হয়েছে৷ তখন যে স্টুডেন্ট ছিল, এখন তো তিনি স্টুডেন্ট নেই, কর্মজীবি৷ বিভিন্ন পেশায় জড়িত হয়ে গেছে৷ এখন যারা স্টুডেন্ট, তাদের ওখানে কিন্তু এখন আমরা যাচ্ছি৷ সেখানে ভালো সাড়া পাচ্ছি৷ এবার যদি কনসার্টের কথা বলি, সেটা তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে৷ ভেন্যু স্বল্পতার কারণে৷ ওপেন কনসাটের জন্য আগে কমলাপুর স্টেডিয়াম, আর্মি স্টেডিয়াম, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হতো৷ এখন এসব মাঠ পাওয়া যাচ্ছে না৷ স্পন্সর, আয়োজকরা আগ্রহী, শিল্পীরা তো বটেই৷ ভেন্যুর কারণে ওটা সেভাবে হচ্ছে না৷ ঢাকার বাইরে কম-বেশি হচ্ছে, কিন্তু ঢাকার ভেতরে হচ্ছে না৷ সিকিউরিটির কারণে অনেক সময় অনুমতি দেয়া হচ্ছে না৷

তরুণরা কি এখনো আগের মতো ব্যান্ড শোনে?

 আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাচ্ছি, স্কুল-কলেজে যাচ্ছি, ফ্যাশন শো-তে যাচ্ছি, সেখানে তো ভালো সাড়া পাচ্ছি৷ তা না হলে তো তারা আমাদের ডাকতো না৷ তবে এটা বলবো, সঠিকভাবে ব্যান্ড মিউজিকের চর্চা না হলে তরুণ প্রজন্ম আগ্রহটা হারিয়ে ফেলবে৷ বিশ্বব্যাপী যে মিউজিকের উন্নতি হচ্ছে, আমাদের সেভাবে উন্নতি করতে হবে৷ নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে হলে অন্য ব্যান্ড দলগুলোকেও উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হবে৷

অডিও শুনুন 09:18
এখন লাইভ
09:18 মিনিট

‘ভেন্যুর অভাবে ঢাকায় ওপেন কনসার্ট বন্ধ হয়ে গেছে'

বাংলাদেশে কতগুলো ব্যান্ড দল আছে?

 কতগুলো ব্যান্ড দল আছে, সেটা বলা যাবে না, তবে বামবার সদস্য আছে ২৭ জন বা ২৭টি দল৷

এর মধ্যে মানসম্মত দল আছে কয়টি?

বামবাতে যারা আছে, তারা সবাই মানসম্মত৷ একটা স্টান্ডার্ড ছাড়া বামবার সদস্য হওয়া যায় না৷ বামবার বাইরেও বেশ কিছু ভালো ব্যান্ড আছে৷ আপনি যদি ওভাবে ভাবেন, তাহলে পাবেন না৷ তবে আমরা উন্নতি করছি, একটু সময় লাগবে৷

বলা হয়, আপনাদের গানে সুরের চেয়ে যন্ত্রই বেশি প্রাধান্য পায়৷ এটা কি ঠিক?

ব্যান্ড মিউজিকটা হলো টিম ওয়ার্ক৷ এখানে সবাই মিলে একটা সংমিশ্রনে একটা প্রোডাকশন বের হয়৷ অন্য গানগুলোকে সাউন্ড কম্পোজিশন যেভাবে হয়, ব্যান্ডে সেভাবে হয় না৷ এটা একটু ভিন্ন৷ সেই কারণে আপনি বলতে পারেন, মিউজিকের আধিক্য হয়৷ এটা প্রয়োজনের খাতিরেই হয়, অ্যারেঞ্জমেন্টের খাতিরেই হয়৷ এটা আমূলক সাধারণত হয় না৷ 

বাংলাদেশে বছরে ব্যান্ডের গানের কতগুলো সিডি বের হচ্ছে?

অনেকদিন ধরে সিডি হচ্ছে না৷ সিডির মার্কেটই নেই৷ আগে ঈদে, নতুন বছরে সিডি হতো৷ এখন সেভাবে হয় না৷ আগে তো ঈদে ৩০০ সিডি হতো৷

নারীদের অংশগ্রহণ কেমন?

না, আমাদের দেশে সেভাবে নেই

 কোন ব্যান্ড দলের প্রধান নারী?

 কোনো নারী যদি ব্যান্ড দল বানান, তাহলে সেটা হতে পারে৷ এটা আমি ঠিকভাবে জানি না৷ যেমন, মেহেরিন করেছিল তার নামে৷ আরো কয়েকজন করেছিল তাদের নামে৷ এখন তাদের কী অবস্থা আমি জানি না৷

ব্যান্ডে কি দেশীয় ঐতিহ্য ফুটে ওঠে?

একেকটা ব্যান্ড একেক ধরনের মিউজিক করে৷ কেউ ফোক, কেউ রক, কেউ হার্ডরক করে৷ যে যে ধরনের মিউজিক করে, সে তার কম্পোজিশন সেভাবে তৈরি করে৷

দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ব্যান্ড সঙ্গীতের কি কোনো পার্থক্য আছে?

ব্যান্ড তো দেশীয় সংস্কৃতিরই অংশ৷ ব্যান্ডে কয়েকজন মিলে কাজ করছে, এটা একটা টিম ওয়ার্ক৷ এখানে একেকজন একেক ধরনের ইনস্ট্রুমেন্ট বাজায়৷ কে কী ধরনের মিউজিক করবে, সে সেই ধরনের ইনস্ট্রুমেন্ট নিয়ে কাজ করবে৷ এটা তার টেষ্টের উপর নির্ভর করে৷

ব্যান্ড সংগীতের মাধ্যমে পশ্চিমা ধাচের সংস্কৃতি দেশে ঢুকে পড়ছে, এমন অভিযোগ কতটা ঠিক?

আমরা তো ওয়েস্টার্ন মিউজিক ফলো করি, শুনি৷ সেটার ছাপ তো আমাদের মধ্যে থাকবেই৷ কারণ, ওখান থেকে আমরা শিখি, জানি, বুঝি৷ শুধু পশ্চিমা নয়, ইস্টার্ণ, ইস্টর্ণ ক্লাসিক্যাল বা ওখানকার যে রাগ আছে, সেটা আমরা শেখার বা বোঝার চেষ্টা করি৷ যখন আপনি ওগুলো নিয়ে চর্চা করবেন, তখন আপনার মিউজিকে সেটার প্রতিফলন হবে৷ এটা অভিযোগ করলে হবে না, যার যেটা ভালো লাগে সে সেটা শুনছে৷

ব্যান্ড দলগুলো মূলত কোন ধরনের শ্রোতাদের টার্গেট করে গড়ে উঠছে?

মিউজিক তো মিউজিকই৷ একেবারে টিএনজার থেকে শুরু করে বড়রাও শুনবে৷ সবারই টার্গেট থাকে ছোট-বড় সবার, যার আমার গান ভালো লাগবে৷ গানগুলো আসলে বয়স চিন্তা করে করা হয় না৷ ভালো গান করাটাই হলো মূল উদ্দেশ্য৷ আমাদের চিন্তা থাকে আপনি এখন যে গান করছেন, সেটা যেন ২০-৩০ বছর পরও মানুষ শোনে৷

বিদেশি ব্যান্ডের জনপ্রিয়তা দেখা যায় সব শ্রেণিতেই৷আমাদের দেশে ব্যান্ড দলগুলো কি সব শ্রেণির মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারছে?

আমাদের দেশে তো ব্যান্ড মিউজিক শুরু হলো কিছুদিন আগে৷ হুট করেই তো কারো কাছে এটা ভালো না-ও লাগতে পারে৷ এক প্রজন্ম না করলেও হয়ত পরের প্রজন্ম এটাকে ভালোভাবে নিচ্ছে৷ এর জন্য সময় লাগবে৷ আমরা তো এটা শুরু করেছি, আমরা দেখেছি আগের প্রজন্ম এটা পছন্দ না করলেও পরের প্রজন্ম এটা পছন্দ করছে৷  

যদি বিদেশি ব্যান্ডের সঙ্গে আপনাদের তুলনা করতে বলি, তাহলে আপনি কি বলবেন?

তুলনা করা ঠিক হবে না, আমরা চেষ্টা করছি৷ আমরাও হার্ড মিউজিক করার চেষ্টা করছি৷ আমরা নিজেদের ইন্টারন্যাশনাল লেভেলের মনে করি, সেই মানের কাজ করার চেষ্টা করি৷ আসলে পশ্চিমা বলেন আর ইস্টার্নই বলেন, যেখানেই ভালো কাজ হবে, সেটাই ভালো৷ ভালো তো সব সময়ই ভালো৷

আপনিও কি মনে করেন ভেন্যুর অভাবেই কনসার্ট বন্ধ হয়ে গেছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন