‘ভেনেজুয়েলা থেকে দূরে সৈকতে অবসর কাটান মাদুরো′ | বিশ্ব | DW | 01.02.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভেনেজুয়েলা

‘ভেনেজুয়েলা থেকে দূরে সৈকতে অবসর কাটান মাদুরো'

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাদুরো ও তাঁর উপদেষ্টাদের নির্বাসনে চলে যাবার ডাক দিয়েছেন৷ ইইউ পার্লামেন্ট গুইয়াদোকে স্বীকৃতি দিয়ে মাদুরোর উপর চাপ বাড়িয়ে দিলো৷

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরো জোরালো হচ্ছে৷ তবে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোর মধ্যে কেউই নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত নন৷ আন্তর্জাতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে এখনো গুয়াইদোর পাল্লাভারী৷ এমনকি তিনি মাদুরোর মদতকারী দুই প্রধান দেশ রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছেন বলে দাবি করেন৷ তাঁর মতে, মাদুরোকে ছেড়ে বিরোধী শক্তির প্রতি সমর্থন দেখালে ভেনেজুয়েলায় এই দুই দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকবে৷

সোমবার মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পর সে দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতি আরো চাপের মুখে পড়েছে৷ এই অবস্থায় মাদুরো সরকার মরিয়া হয়ে রাশিয়া, চীন ও অন্যান্য দেশের কাছে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ পেট্রোলিয়াম ও দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা সোনা বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠছে৷ সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সোনা বিক্রির পরিকলল্পনার খবর প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স৷ মার্কিন প্রশাসন সব দেশের উদ্দেশ্যে এমন লেনদেন সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে৷ ভেনেজুয়েলা থেকে সোনা পাচার করলে সেই দেশের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চাপানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন৷

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট হুয়ান গুইয়াদোকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় মাদুরোর উপর চাপ আরো বেড়ে গেল৷ এর আগে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেন মাদুরোর উদ্দেশ্যে আগামী সপ্তাহান্তের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘোষণার ডাক দিয়েছিল৷ মাদুরো নিজেও বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন৷ আগাম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনে তাঁর আপত্তি না থাকলেও নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন৷

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও বিশেষ দূত ইদ্রিস জাজাইরি ভেনেজুয়েলার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছেন৷ তাঁর মতে, কোনো সার্বভৌম দেশে সরকার পরিবর্তনের প্রচাষ্টার ক্ষেত্রে সামরিক বা অর্থনৈতিক জোর খাটানো উচিত নয়৷ এর ফলে মারাত্মক মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন৷

মাদুরোর উপর চাপ আরো বাড়াতে মার্কিন প্রশাসন তাঁকে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইয়াদোর ক্ষমার প্রস্তাব মেনে নেবার ডাক দিয়েছে৷ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন এক টুইট বার্তায় মাদুরোকে দেশ ছেড়ে চলে যাবার প্রচ্ছন্ন প্রস্তাব দেন৷ তিনি লেখেন, ‘‘নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর প্রধান উপদেষ্টারা ভেনেজুয়েলা থেকে দূরে কোনো সৈকতে দীর্ঘ, শান্তিপূর্ণ অবসর জীবনযাপন করছেন, তিনি এমনটাই দেখতে চান৷'' তাঁর মতে, মাদুরোর দ্রুত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত৷ উল্লেখ্য, গুইয়াদো মাদুরো প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত যে-কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব দিয়েছেন৷

এদিকে হুয়ান গুইয়াদো মাদুরো প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেন৷ দেশের এলিট নিরাপত্তা বাহিনী এফএইএস-এর সদস্যরা বৃহস্পতিবার তাঁর বাসভবনে এসে তাঁর পরিবারকে শাসিয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন