ভেড়ার পালের বিচরণে সাহায্য করছে জিপিএস প্রযুক্তি | অন্বেষণ | DW | 05.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পরিবেশ

ভেড়ার পালের বিচরণে সাহায্য করছে জিপিএস প্রযুক্তি

পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রযুক্তির প্রয়োগের নানা দৃষ্টান্তের অভাব নেই৷ কিন্তু ভেড়ার পাল যে ঘাসজমি উর্বর রাখতে ও জীববৈচিত্র্য অক্ষত রাখতে কত বড় অবদান রাখে, সে বিষয়ে ধারণা কম৷ জার্মানির মেষপালকরা তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন৷

জার্মানিতে আরও বেশি মেষপালক হাল ছেড়ে দিচ্ছেন৷ লুক্সেমবুর্গ সীমান্তে ভালেনডর্ফ এলাকায় এই প্রবণতার পরিচয় পাওয়া যায়৷ গ্যুন্টার স্যার্কুস জার্মানির হাতে গোনা প্রায় ৯০০ মেষপালকদের একজন৷ ভেড়ার পাল নিয়ে তিনি মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ান৷ তাঁর মতে, এই সব ভেড়া পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, বেশিরভাগ মানুষ যে বিষয়ে সচেতন নয়৷ তাদের চরে বেড়ানোর বৈশিষ্ট্য ঘাসের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত সহায়ক৷ এভাবে ঘাসজমির সংরক্ষণ করা যায়৷ গ্যুন্টার বলেন, ‘‘শুধু এই এলাকাই ধরুন৷ আমরা যদি এখানে আমাদের ভেড়াদের চরতে না দিতাম, ঘাসজমির দ্রুত অবনতি ঘটতো৷ চারিদিক এমন গর্তে ভরে যেত৷ মাঠ আর তার পরিবেশগত ভূমিকা পালন করতে পারতো না৷ এখানে ভূগর্ভস্থ পানিতে ক্ষতিকারক পদার্থ আটকাতে আর কোনো ছাঁকনি নেই, ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ ও কার্বন জমা রাখার ব্যবস্থা নেই৷''

মাত্রাতিরিক্ত কৃষিকাজ এবং রাস্তাঘাট বা বসতি নির্মাণের কারণে অনেক ঘাসজমি ও জঙ্গল সাফ করা হয়েছে৷ কিন্তু ভেড়ার পাল এই সব বিচ্ছিন্ন বায়োটোপের মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে৷ ভেড়া মাটির উপর দিয়ে চলার সময় তার লোম স্পঞ্জের মতো পোকামাকড় ও বীজ শুষে নেয়৷ মাত্র এক পাল ভেড়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গেলে হাজার হাজার পোকামাকড় ও বীজ ছড়িয়ে দেয়৷ গ্যুন্টার স্যার্কুস বলেন, ‘‘আমরা এ সব জায়গা আর খালি রাখি না৷ পোকামাকড় ও বীজ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়াতে না দিলে এই সব বিচ্ছিন্ন জীবজগত জিনগত কারণে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে যাবে৷''

ভিডিও দেখুন 04:26

জীববৈচিত্র্য অক্ষত রাখতে জিপিএস প্রযুক্তি

কাছের শহর নয়স্টাট-এর তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ভেড়ার পরিবেশগত গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন৷ আকাশ ও স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি, রাডার ও জমি নথিকরণ সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা ভেড়াদের আদর্শ রুট বা যাত্রাপথ শনাক্ত করতে বিশেষ সফটওয়্যার সৃষ্টি করেছেন৷ অ্যাগ্রিকোলডি ইনস্টিটিউটের ড. মাটিয়াস ট্রাপ বলেন, ‘‘এই কম্পিউটার সিস্টেম অনেকটা ন্যাভিগেশন সিস্টেমের মতো কাজ করে৷ তবে গুগলে আপনি শুধু গাড়ি বা পথিকের জন্য আদর্শ রুট বাছতে পারেন৷ ২০ থেকে ২৫টি আলাদা বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ভেড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নির্ণয় করা হয়৷ এই জিও ইনফর্মেশন সিস্টেমের সাহায্যে আপনি স্বাধীনভাবে ভেড়ার যাত্রাপথ স্থির করতে পারেন৷ এটিকে ইন্টেলিজেন্ট রুটিং বলা যেতে পারে৷''

মেষপালকরা নতুন এই কম্পিউটার সফটওয়্যারকে স্বাগত জানিয়েছেন৷ ভেড়াদের জন্যও এটা সুখবর বটে, কারণ এখন তারা আরও বেশি খোরাক পাচ্ছে৷ এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই অনেক নতুন ঘাসজমি খুঁজে পাওয়া গেছে৷

দেশের অন্য প্রান্তে প্রতিবাদকারীদের আশা, এই বৈজ্ঞানিক উন্নতি রাজনৈতিক স্তরেও নতুন করে ভাবনাচিন্তার সূত্রপাত ঘটাবে৷ মেষপালকরা নিশ্চিত, যে তাঁদের পেশা মোটেই সেকেলে হয়ে যায়নি৷ বার্লিন-ব্রান্ডেনবুর্গ ভেড়াপালন সমিতির ক্নুট কুচনিক মনে করেন, ‘‘জার্মানি তথা বাকি বিশ্বে ঐতিহ্যগত মেষপালনের ভবিষ্যৎ আছে বৈকি৷ এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ আমাদের পেশা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন৷ আগেও অনেক সংকট সামলেছি৷ আমাদের বরং প্রশ্ন করা উচিত, আমাদের ছাড়া প্রকৃতির ভবিষ্যৎ কী হবে?''

জার্মানির ক্ষেত্রে যা সত্য, তা বিশ্বের অন্য সেই সব প্রান্তের জন্যও খাটে, যেখানে চিরাচরিত মেষপালকদের ভাবমূর্তি তেমন উজ্জ্বল নয় এবং প্রথাগত চাষিদের সঙ্গে তাদের সংঘাত লেগেই রয়েছে৷ অথচ তাদের ভেড়ার পাল ঘাসজমি সবুজ ও তরতাজা রাখতে সাহায্য করে৷

স্টেফান ম্যোল/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন