ভূস্বর্গ কাশ্মীর পরিবেশ দূষণের শিকার | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 09.07.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ভূস্বর্গ কাশ্মীর পরিবেশ দূষণের শিকার

কবি সুকান্তের একটি কবিতা আছে ভূস্বর্গ কাশ্মীর নিয়ে- ‘সেই বিশ্রী দম-আটকানো কুয়াশা আর নেই, নেই সেই একটানা তুষার-বৃষ্টি, হঠাৎ জেগে উঠেছে- সূর্যের ছোঁয়ায় চমকে উঠেছে ভূস্বর্গ৷’ কিন্তু এই কাশ্মীরের পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে৷

default

কাশ্মীরের সৌন্দর্য হুমকির মুখে

কাশ্মীরে পর্যটকদের কাছে এখনো হাউসবোটগুলো সবচেয়ে বড় আকর্ষণের বিষয়৷ স্বচ্ছ নীল রঙের পানিতে ভাসমান ঘর৷ পাশের পাহাড়ে শ্বেতশুভ্র বরফ৷ শুনশান রাত৷ সুন্দর ভোর৷ ‘নৌকা ঘরে' নিজের সময়৷ কি যে সুন্দর সেই দিন, রাত৷ সময় সেখানে কেটে যায় দ্রু৷ ভালো সময় নাকি চলে যায় দ্রুত, প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা কোনো নবদম্পতির মধুর মুহূর্তগুলো! ভারতশাসিত কাশ্মীরের হাউসবোটগুলো একরকম স্বপ্নের মতোই সুন্দর মনে হতো এক সময়৷ চলতি সময় নাকি এই অবস্থা বেশ পাল্টে গেছে৷ পুরোনো ঐতিহ্য আর আকর্ষণ হারিয়ে ফেলছে ডাল লেকের হাউস বোটগুলো৷ সঙ্গে যোগ হয়েছে দূষণ৷

বলা হচ্ছে, ডাল লেকের অন্যতম শোভা ছিল হাউসবোট, পরিবেশ দূষণের ফলে সেই ডাল লেকের অবস্থা আজ শোচনীয়৷ আর এই দূষণের কারণেই ভূস্বর্গ হিসেবে খ্যাত সেই বরফে ঢাকা কাশ্মীরকে এখন আর চেনাই যায় না৷ কাশ্মীরের বেশির ভাগ এলাকাই এখন দুর্গন্ধ আর আবর্জনায় ভরা৷ ঠিকঠাক মতো পানি নিষ্কাশনের অভাবে ডাল লেক এখন আবর্জনায় ভরে গেছে৷ পলিব্যাগে করে মৃত পশুপাখি ফেলে রাখা হয় এখানে-সেখানে৷

হাউসবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কর্মকর্তা মঞ্জুর ওয়াগনু ডাল লেককে দূষণমুক্ত করতে চান৷ তাঁর মতে, হাউসবোট ছাড়া ডাল লেকের সৌন্দর্য যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি এই হ্রদবিহীন হাউসবোটের সৌন্দর্যও অর্থহীন৷ তাই ভূস্বর্গ কাশ্মীরের প্রধান দুই আকর্ষণকেই বাঁচিয়ে রাখতে চান মঞ্জুর৷

তবে দূষণে যে ডাল লেক ছোট হয়ে আসছে, তা স্বীকার করেননি লেকস অ্যান্ড ওয়াটারওয়েস ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির প্রধান ইরফান ইয়াসিন৷ তিনি আশ্বাস দেন, আর কয়েক মাসের মধ্যেই হ্রদটিতে সব ধরনের সংস্কার করা হবে৷ লেকে বর্জ্য না ফেলার জন্যও তিনি মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন৷ তবে হাউসবোট শিল্প রক্ষায় অনেক দেরিতে পদক্ষেপ নিয়েছে কাশ্মীর সরকার৷ তবে এখন বেশির ভাগ হাউসবোটেরই জীর্ণ দশা৷ ৩০টিরও বেশি হাউসবোটের মালিক এখন তাঁদের লাইসেন্স বাতিল করতে চান৷ দারিদ্র্য ও অর্থাভাবের কারণেই তারা বোটগুলো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে৷ তাই অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে একসময় হয়তো পুরোপুরি হারিয়ে যাবে কাশ্মীরের হাউসবোট শিল্প৷

সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই পর্যটক প্রিয় কাশ্মীরের ডাল লেকের (হ্রদ) হাউসবোট৷ তবে এখন এই হাউসবোট শিল্প এখন হুমকির মুখে৷ এই শিল্পের প্রয়োজনীয় সংস্কার আর উন্নয়নও সম্ভব হচ্ছে না৷ তবে আশার কথা, কাশ্মীর সরকার হাউসবোট সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে৷ ‘বোট' শিল্পের উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার৷ সেই সঙ্গে পর্বতারোহীদের জন্য সুখবরও দিয়েছে তারা৷ জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো হিমালয় রাজ্য কাশ্মীরের একশ'টিরও বেশি পর্বতশৃঙ্গ বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে৷ কর্মকর্তারা বলেন, কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পে গতি আনতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ তাদের মতে, ৬০ শতাংশ কাশ্মীরিই পর্যটন শিল্পের ওপর জীবিকা নির্বাহ করে৷ ভারত সরকার যেসব পর্বত শৃঙ্গ বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য উন্মুক্ত করবে সেগুলোর বেশিরভাগই লাদাখের পূর্বাঞ্চলীয় কারাকোরাম পর্বতে অবস্থিত৷ এসব শৃঙ্গের উচ্চতা ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার আটশ' মিটার৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন