ভুয়া খবরে আসল পত্রিকা! | বিশ্ব | DW | 18.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ভুয়া খবরে আসল পত্রিকা!

ভুয়া খবর বা ফেক নিউজের ব্যাপারে আমাদের সবারই কম-বেশি ধারণা আছে৷ কিন্তু এবারের বিষয়টি বেশ অভিনব৷ একটি পত্রিকার মাস্টহেড ব্যবহার করে, একই মেকআপ ব্যবহার করে সেই পত্রিকার নামে একটি ভুয়া খবর প্রচার৷ আর এটা হয়েছে বাংলাদেশে৷

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অষ্ট্রেলিয়া যান ১৩ অক্টোবর রাতে৷ আর পরিস্থিতির কারণেই পরের দিন তাঁর এই বিদেশ যাওয়ার খবর সব দৈনিক পত্রিকা গুরুত্ব দিয়ে ছাপে৷ ওই দিন বাংলাদেশের পাঠক প্রিয় দৈনিক প্রথম আলোর এই বিষয়ে সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘‘‘আমি বিব্রত', বিদেশ যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি'' আর এটা প্রধান শিরোনাম ছিল না৷ প্রথম পৃষ্ঠার অষ্টম কলামের শীর্ষ খবরটি ছাপা হয়৷

কিন্তু প্রথম আলো'র নামে যে খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, তার শিরোনাম হলো, ‘‘সরকারের চাপের মুখে প্রধান বিচারপতির দেশত্যাগ৷'' প্রথম আলোর মাস্টহেড ব্যবহার করে কম্পিউটারে মেকআপ করে প্রতারকরা ওই শিরোনাম প্রধান শিরোনাম করে তার স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়৷''

এনিয়ে ‘প্রথম আলো' একটি প্রতিবেদনও ছাপে, যার শিরোনাম ‘এটা ভুয়া খবর'৷ সেখানে ভুয়া এবং সঠিক পত্রিকার ছবিও দেয়া হয়৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘প্রথম আলোর ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর তারিখের ছাপা পত্রিকার প্রথম পাতার অনুরূপ একটি ভুয়া পাতার স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে৷ ওই স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, ‘সরকারের চাপের মুখে প্রধান বিচারপতির দেশত্যাগ' ও ‘প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকি!' শিরোনামে দুটি খবর সেখানে আছে৷ এর পাশে ‘ক্ষমতা দেখাল সরকার' শিরোনামে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের নামে একটি লেখা আছে৷ বাস্তবে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় এ ধরনের কোনো খবর বা ছবি প্রকাশিত হয়নি, এটা একেবারেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত৷'' 

অডিও শুনুন 01:07
এখন লাইভ
01:07 মিনিট

‘‘এই ধরণের প্রবণতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন’’

একই দিনে বাংলাদেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার'-এর ক্ষেত্রেও একই ধরণের ঘটনা ঘটেছে৷ পত্রিকাটির মাস্টহেড এবং গেটআপ মেকআপ-এর হবহু নকল করে প্রতারকরা প্রধান শিরোনাম করে ‘চিফ জাস্টিস এক্সপোজেস দ্য গভর্নমেন্ট', এ ডিজগ্রেস টু বাংলাদেশ' শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদনও দেখা যায় সেখানে৷ অথচ ওই দিন ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম ছিল ‘আই অ্যাম নট সিক'৷ ডেইলি স্টারও এই প্রতারণা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে৷ এবং পাশাপাশি আসল ও ভুয়া পত্রিকার ছবি ছেপেছে৷

পত্রিকাটির উপ সম্পাদক শাহরিয়ার খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবার ভুয়া নিউজ ছড়াতে নতুন এবং অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে৷ ডেইলি স্টার, প্রথম আলো বা সমকালের মতো পত্রিকার প্রিন্ট এডিশনের অনুরূপ ডিজাইনে ভুয়া নিউজ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে৷ কিন্তু এই কাজটি তেমন কার্যকর হয়নি৷ কারণ, এই ধরণের পত্রিকার যারা পাঠক, তারা এই ধরণের ভুয়া নিউজ বিশ্বাস করেন না৷ এবং তারা চেক করতে পারেন৷ ফলে যারা এটা করেছেন, তাদের আমার কাছে মনে হয়েছে স্টুপিড৷''

ডেইলি স্টার এই ঘটনায় থানায় মামলা করেছে৷ শাহরিয়ার খান জানান, ‘‘আমরা আশা করি কারা এই কাজ করেছে তা তদন্তে জানা যাবে৷''

মার্কিন নির্বাচনের সময় ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর বেশ আলোচনায় আসে৷ তখন ভুয়া নিউজ রীতিমতো শিল্পে রূপ নেয়৷ বাংলাদেশে ভুয়া খবরেরর মাধ্যমে গুজব ছাড়ানোর প্রবণতা আছে৷ সেটা করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে৷ শাহরিয়ার খান বলেন, ‘‘সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে গুজব ছড়ানো হয় তা ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে৷ যেমন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাওয়ার গুজব ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল৷'' 

অডিও শুনুন 02:36
এখন লাইভ
02:36 মিনিট

‘‘যারা এটা করেছেন, তাদের আমার কাছে মনে হয়েছে স্টুপিড’’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভুঁইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের নাম ও মাস্টহেড ব্যবহার করে এবার যে ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছে এটা একটা ভয়ংকর প্রবণতা৷ এটা ফৌজদারি অপরাধ৷ এই ধরণের প্রবণতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এখন ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে এসব ফেক নিউজ বা গুজব ছাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে৷''

আর ডেইলি স্টারের শাহরিয়ার খান বলেন, ‘‘এবার নতুন কৌশলে ভুয়া নিউজ ছড়িয়ে সুবিধা করতে না পারলেও এটা একটা সিগন্যাল৷ যারা এটা করেন, তারা নতুন নতুন কৌশল খোঁজেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও