ভুয়া ওয়ারেন্ট চক্রে আদালতের লোকও! | বিশ্ব | DW | 14.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ভুয়া ওয়ারেন্ট চক্রে আদালতের লোকও!

বাংলাদেশে ভুয়া ওয়ারেন্টের একটি চক্র গড়ে উঠেছে৷ এর সাথে আদালতের কিছু কর্মচারী জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ এর মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছে নিরপরাধ মানুষ৷ ভুয়া ওয়ারেন্টের ফেরে হাজতবাসও করেছেন অনেকে৷

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ঢাকার সিএমএম আদালতে ১০টি ভুয়া ওয়ারেন্ট ধরা পড়ে৷ এসব ওয়ারেন্টের কারণে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতেও আনা হয়৷ কিন্তু মামলার কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ পরে আদালত প্রতিটি ওয়ারেন্টের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানাকে তদন্ত করে প্রতারক ও জালিয়াত চক্রকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়৷

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার মজুমদার এই ভুয়া ওয়ারেন্টগুলো নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন৷ তিনি জানান, ‘‘প্রতিটি ওয়ারেন্টেই বিচারকের নাম, ওয়ারেন্টের নম্বর, সিল মোহর, ডেসপাস নম্বর সবই আছে৷ আর এই ওয়ারেন্ট যখন থানায় যায় তখন তাদের বোঝার উপায় থাকে না যে, আসল না ভুয়া৷’’

তিনি বলেন, ‘‘এটা স্পষ্ট যে আদালতের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারী জড়িত না থাকলে এত নিখুঁতভাবে ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করা সম্ভব নয়৷ আইনজীবী সহকারীদেরও কেউ কেউ এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন৷’’

অডিও শুনুন 03:11

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ভুয়া ওয়ারেন্ট ব্যবহার করা হয়: প্রশান্ত কুমার

ভুয়া ওয়ারেন্টের এই চক্র শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের আদালতেই সক্রিয়৷ এমনকি হয়রানি করতে এক জেলার মানুষের বিরুদ্ধে আরেক জেলার আদালতের নামে ভুয়া ওয়ারেন্ট পাঠানো হয়৷ গত জুলাই মাসে এই ধরনের ওয়ারেন্টে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দুই ভাই হারুন পাটোয়ারী ও স্বপন পাটোয়ারীকে ১৪দিন কারাগারে থাকতে হয়৷ বান্দরবন জেলা আদালতের নামে পাঠানো একটি ভুয়া ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে কচুয়া থানা পুলিশকে তারা গ্রেপ্তার করেছিল৷ তাদের চাচাতো ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, ‘‘গ্রেপ্তারের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়৷ এরপর বান্দরবন আদলতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় মামলার যে সূত্র দেয়া হয়েছে সেই মামলা আদৌ হয়নি৷ পরে বান্দরবন আদালত থেকে চাঁদপুর আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হলে তারা ছাড়া পান৷ আর এই প্রক্রিয়ায় তাদের ১৪দিন কারাগারে থাকতে হয়৷’’

প্রশান্ত কুমার মজুমদার জানান, ‘‘ঢাকার সিএমএম আদালতের নামে যে ১০টি ভুয়া ওয়ারেন্ট পাঠানো হয় তার একটি ছিলো কুমিল্লার বরুরার মিজানুর রাহমানের বিরুদ্ধে৷ ভুয়া মামলাটি দেখানো হয় কেরানীগঞ্জে৷ তাকে জমিজমার বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ ওই ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে এলাকা ছাড়া করেছিল৷’’

তিনি বলেন, ‘‘প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এইসব ভুয়া ওয়ারেন্ট ব্যবহার করা হয়৷ আর চক্রগুলো অর্থের বিনিময়ে ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করে দেয়৷’’

অডিও শুনুন 02:06

এর সঙ্গে আদালতের কেউ না কেউ জড়িত: আব্দুল্লাহ আবু

কচুয়ার দুই ভাইয়ের ভুয়া ওয়ারেন্টে হাজতবাসের মতো আরো অনেক ঘটনা আছে৷ গত ৩০ জানুয়ারিতে নিলফামারীর রাশিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ ওয়ারেন্টটি ছিলো ঢাকার সিএমএম আদালতের নামে৷ কিন্তু পরে দেখা যায় সেটি ভুয়া৷ রাশিদুলের নামে কোনো মামলাই নেই৷ কিন্তু তারপরও তাকে ১২ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে৷

আইনজীবীরা জানান, ‘‘এইরকম ভুয়া ওয়ারেন্ট সারাদেশ থেকেই পাওয়া যায় এবং সংখ্যাও অনেক৷ এটা আদালতের জন্য একটি সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আর শত শত নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন৷’’

ঢাকার সিএমএম কোর্টের চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘‘এই ভুয়া ওয়ারেন্ট একটা বড় সমস্যা৷ আর এটা এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে৷ তবে এর সঙ্গে আদালতের কেউ না কেউ জড়িত৷ কারণ ওয়ারেন্টের যে ফর্ম তা কিন্তু অরিজিন্যাল৷ আর এটা বিজি প্রেস ছাড়া অন্য কোথাও ছাপারও সুযোগ নেই৷ এই বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখলে চক্রকে চিহ্নিত করা সম্ভব৷’’

তিনি ভুয়া ওয়ারেন্ট থেকে রেহাই পেতে ওয়ারেন্ট যাচাইয়ের বিধান চালুর সুপারিশ করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘কোনো আদালত থেকে কোনো থানায় ওয়ারেন্ট গেলে তা যদি সংশ্লিষ্ট আদালতে যাচাই করে তামিলের বিধান করা হয় তাহলে ভুয়া ওয়ারেন্ট ধরা পড়ে যাবে তামিলের আগেই৷ এতে সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে রেহাই পাবেন৷’’

এপ্রিল মাসের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন