ভিন জাতে প্রেম, সাজা গণধর্ষণ! | বিশ্ব | DW | 24.08.2020

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

ভিন জাতে প্রেম, সাজা গণধর্ষণ!

রক্ষণশীল উত্তর ভারতে যে ঘটনা প্রায়ই ঘটে, তাই এবার পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী সমাজে৷ আদিবাসী নয় এমন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ায় নিগৃহিত হলেন এক আদিবাসী মহিলা৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়৷ আদিবাসী সমাজের মেয়ে হয়েও একজন অ–আদিবাসী যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় গাছে বেঁধে মারধর করা হল প্রেমিক যুগলকে৷ গভীর রাতে স্থানীয় ক্লাবের পাঁচ যুবক এর পর ওই মহিলাকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করল৷ পরদিন সকালে গ্রামে সালিশি সভা বসিয়ে মহিলার ১০ হাজার টাকা এবং যুবকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হল৷ নিগৃহিতা মহিলা এর পর থানায় গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ জানানোয় বীরভূমের মহম্মদবাজার এলাকার ঘটনাটি নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে৷
অথচ যে সম্পর্ককে ‘অবৈধ’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে স্থানীয় সাঁওতাল সমাজ, তা আপাতদৃষ্টিতে নেহাতই স্বাভাবিক এক ঘটনা৷ বছর তিরিশের ওই মহিলার স্বামী মারা গিয়েছেন কয়েক বছর আগে৷ দুটি সন্তান নিয়ে মহিলা একাই থাকেন৷ স্থানীয় একটি শাখা ব্যাঙ্কের কর্মী পার্থ সাহার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ সেটাই ভাল চোখে দেখেনি তাঁর গ্রামের মাথারা৷ তাই যথাবিহিত শাস্তি দেওয়া হয়েছে৷ যদিও গণধর্ষণ করাটা অন্যায় হয়েছে বলে মনে করছে এখন অনেকেই৷ কিন্তু এক বাঙালি যুবকের সঙ্গে এক সাঁওতাল মহিলার সম্পর্কটা যে ‘অবৈধ’এই ধারণা থেকে এখনও কেউ নড়েনি৷ ওদিকে অভিযুক্তদের পরিবারের দাবি, গণধর্ষণ হয়নি৷ কিন্তু সিউড়ি জেলা হাসপাতালে নিগৃহিতার ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে৷ মহিলার ইন–ক্যামেরা জবানবন্দিও নথিভুক্ত হয়েছে৷ তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে জলপা হাঁসদা ও তাম্বর মরান্ডি নামে দু'জনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ৷ এছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছে মহিলা যে গ্রামের বাসিন্দা, সেখানকার মোড়ল৷ আদালত তাদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেছে৷

কেউ ইন্ধন জুগিয়েছে এখান থেকে!: রবিন সরেন, আদিবাসী গাঁওতা নেতা

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছিল, আদিবাসী গাঁওতা নেতা রবিন সরেন–এর উদ্যোগেই নিগৃহিতা মহিলা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান৷ কিন্তু এই খবরে সম্ভবত গ্রামে এবং সাঁওতাল সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে৷ কারণ রবিন সরেন ডয়চে ভেলে–কে জানালেন, ‘‘এই জায়গাটায় আমার আপত্তি, যেটা লিখেছে, যে আমার উদ্যোগেই (নিগৃহিতা) থানায় অভিযোগ করেছে৷ এই কথাটা একটু অন্যভাবে যেটা হচ্ছে, মহিলা থানায় আগে গিয়েছিল৷ আমি যখন সেটা জানতে পারি, মহিলার সঙ্গে কথা বলি৷ আমি বলি, যে হ্যাঁ, এটা (অভিযোগ) ঠিক৷ তুমি এটা করে নাও৷ (কিন্তু, মহিলা) নিজের উদ্যোগ নিয়েই গেছে৷ মানে থানাতে নিজেই গেছে৷ আমি গ্রাম থেকে নিয়ে গেছি, এরকম ব্যাপারটা নয়৷’’
কিন্তু এই অস্বস্তির জায়গাটা বোঝা গেলেও, যেটা বোঝা যাচ্ছে না যে একজন নিঃসঙ্গ মহিলা যদি নিজের সমাজের বাইরে সম্পর্ক গড়েনই, তা হলে সমাজের মাথাদের আপত্তি কেন!রবিন সরেন–কে সরাসরি প্রশ্নটা করা হয়েছিল৷ তাঁর জবাবে বোঝা গেল, পুরুষটি আদিবাসী সমাজের কেউ নয়, এটাই আপত্তির কারণ৷ তিনি বললেন, ‘‘আপত্তির কথাটা আমি বলব না, কিন্তু যেটা হয়েছে, আদিবাসী সমাজে অ–আদিবাসীর ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সেক্ষেত্রে কেউ ইন্ধন জুগিয়েছে এখান থেকে, যে আদিবাসী মহিলা কেন একজন অ–আদিবাসীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে...এই সব হাবিজাবি, অমুক তমুক, যা হয় আর কী!’’
বীরভূমের মহম্মদবাজারের চরিচা পঞ্চায়েত এলাকার আদিবাসী গ্রামটি এখন মনে করছে, পুলিশ ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিক৷ নিগৃহিতা মহিলা গ্রামে ফিরলে তাঁকে থাকতেও দেওয়া হবে৷ কিন্তু অ–আদিবাসী কারও সঙ্গে একজন আদিবাসী মহিলার সম্পর্ক গড়ায় যে অবৈধতার প্রশ্ন, তার নিষ্পত্তি হচ্ছে না৷ বরং যে মনোভাবের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আবারও এরকম ‘অবৈধ'ঘটনা ঘটলে সালিশি সভা এবং জরিমানাই হবে বিধান৷

গতবছর অক্টোবরের ছবিঘরটি দেখুন..

নির্বাচিত প্রতিবেদন