ভিন্ন এক স্বাধীনতা দিবস | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 26.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ভিন্ন এক স্বাধীনতা দিবস

হচ্ছে না পুষ্পস্তবক অর্পণ, নেই কুচকাওয়াজের আয়োজন, বাতিল সভা-সমাবেশ৷ করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের যে ঢেউ তুলেছে তা বাংলাদেশেও পৌঁছেছে৷

পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার ‍অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেওয়ার ৪৯তম বার্ষিকীতে স্বাধীনতা দিবস ভিন্ন আঙ্গিকে এসেছে বাংলাদেশে৷ অথচ কত পরিকল্পনাই নেওয়া হয়েছিল৷ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরে এবার স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন আরো আড়ম্বরভাবে পালন হওয়ার কথা ছিল৷

কিন্তু ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের পর দ্রুত পালটায় পরিস্থিতি, বদলাতে হয় পরিকল্পনা৷ উৎসব আয়োজনের পরিবর্তে শুরু হয় অন্যরকম যুদ্ধ প্রস্তুতি৷

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধের একমাত্র উপায় জনসমাগম এড়িয়ে চলা৷ প্রায় এক বছর ধরে নানা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণের পরও তাই শেষ মুহূর্তে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষের উদযাপন অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করেন, স্থগিত করা হয় মুজিব শতবর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠান৷

ভয়াবহ সংক্রামক ব্যাধি কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে একে একে আসা নানা ঘোষণার মধ্যে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আকার সীমিত করার ঘোষণাও আসে৷

গত ২১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বঙ্গভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করেন৷ স্বাধীনতা পদক বিতরণ অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়৷

২৫ মার্চের ভয়াল কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ বাঙ্গালির ওপর অস্ত্রহাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত শহীদদের স্মরণ করেন শেখ হাসিনা৷

একই সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘‘জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আমরা এবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ভিন্নভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷''

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘জনসমাগম হয় এমন সব ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি৷ এই মুহূর্তে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা৷''

গত ৪৯ বছরে এবারই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এমন কাটছাঁট করতে হলো৷

DW-Mitarbeiterin Shamima Nasrin

শামীমা নাসরিন, ডয়চে ভেলে

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বুধবার পর্যন্ত ৩৯ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে৷ যাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন এবং সাতজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন৷

সারাবিশ্বে ১৭৩টি দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে৷ এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার, আক্রান্ত সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষ৷ প্রতিদিনই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা যেমন দ্রুত গতিতে বাড়ছে, তেমনি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও৷

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার পরই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়৷ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর অসংখ্য বলিদানের পর আসে স্বাধীনতা, হার মানে পাকিস্তানি বাহিনী৷ বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে নতুন এক দেশের জন্ম হয়৷

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বর্তমান পরিস্থিতিকেও যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন প্রধানমন্ত্রী৷

বুধবারে ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘করোনা ভাইরাস মোকাবিলাও একটি যুদ্ধ৷ এ যুদ্ধে আপনারা ঘরে থাকুন৷ এখন আপনাদের দায়িত্ব ঘরে থাকা৷ আমরা সকল প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হব৷''

‘‘আপনারা স্বাস্থ্য উপদেশ মেনে চলুন৷ ভিড় এড়ান, বিদেশ থেকে যারা এসেছেন তারা হোম কোয়ারান্টিনে থাকুন, নির্দেশনা মেনে চলুন৷ ঘরে নামাজ পড়ুন, অন্য ধর্মের মানুষরাও ঘরে থেকে প্রার্থনা করুন৷''

করোনার বিস্তার রোধে বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশে ১০ দিনের ছুটি শুরু হয়েছে৷ জনগণকে ঘরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসের ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ‍পাঁচ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন৷ যদিও হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান এই ছুটির আওতায় পড়বে না৷ সীমিত আকারে ব্যাংকও খোলা থাকবে৷

২৬ মার্চ থেকে দেশজুড়ে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে৷ স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে সারা দেশে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে৷

শোষকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা বাঙালি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধেও একদিন জয় ছিনিয়ে আনবে৷

এসএনএল/এডিকে

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন