‌ভিনদেশে বাঁচাল অ্যাপ | বিশ্ব | DW | 12.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পশ্চিমবঙ্গ

‌ভিনদেশে বাঁচাল অ্যাপ

জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া গিয়ে কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের একদল শ্রমিক৷ কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধি আর ন্যাশনাল অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটির তৎপরতা বাঁচিয়ে দিল তাঁদের৷

পশ্চিমবঙ্গের দুই যুবক, সঞ্জয় মল্লিক এবং জুলফিকার আলি মন্ডল, তাঁদের মতো আরও ৩০ জনের সঙ্গে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করার জন্য৷ উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গোপালনগরের এক দালাল মারফৎ তাঁদের এই কাজ জুটেছিল৷ কিন্তু গলদ ছিল গোড়াতেই৷ এঁদের সবাইকে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ট্যুরিস্ট ভিসাতে, যে ভিসায় বিদেশে কাজ করার অধিকার থাকে না৷ মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পরই এঁদের সবার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল৷ থাকতে দেওয়া হয়েছিল একটাই ঘরে, গবাদি পশুর মতো গাদাগাদি করে৷ দু'বেলা ঠিকমত খেতে দেওয়া হতো না৷ অসুস্থ হয়ে পড়লে ন্যুনতম চিকিৎসার সুযোগ ছিল না৷ এবং যেহেতু পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে রাখা হয়েছিল, কাজ ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ারও উপায় ছিল না কোনো৷

ঘটনা হচ্ছে, বেশি মজুরি পাওয়ার আশায় দালালচক্রের মাধ্যমে দেশ ছেড়ে বিদেশে কাজের জন্য গিয়ে এমন সমস্যায় পড়া বাঙালি যুবকদের জন্য কোনো নতুন ঘটনা নয়৷ বিশেষত অদক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে, যারা অভিবাসী শ্রমিকদের আইনি অধিকার সম্পর্কে ততটা সচেতন নন৷ তাঁদের সামনে কেবল থাকে প্রচুর উপার্জন করে দেশে টাকা পাঠানোর হাতছানি, যে স্বপ্নের সঙ্গে কঠিন বাস্তবের বিস্তর গরমিল থাকে৷ মূলত মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে গিয়ে এমন সংকটে পড়ার কথা হামেশাই জানা যায়৷ সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় গিয়ে আটকে পড়া বাঙালি নির্মাণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটত, কিন্তু বাঁচিয়ে দিল ওঁদের উপস্থিত বুদ্ধি ন্যাশনাল অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটি (‌এনএটিসি) নামে এক এনজিও‌-র একটি অ্যাপ৷ এ বছরই চালু হয়েছে এই মোবাইল অ্যাপটি, যাতে আদম চোরাচালান চক্রের খপ্পরে পড়লে সাহায্য চেয়ে বিপদ বার্তা পাঠানোর সুযোগ আছে৷

সঞ্জয় মল্লিক এবং জুলফিকার আলি মন্ডল এই অ্যাপ মারফতই নিজেদের বিপন্নতার কথা জানান এবং তাঁদেরকে উদ্ধারের কাতর আর্জি জানান৷ সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয় এনএটিসি এবং বিষয়টি জানায় ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে, প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে, সেই সঙ্গে ভারতে মালয়েশিয়ার কনসুলেট জেনারেলকেও৷ মালয়েশিয়ায় ওই বাঙালি শ্রমিকদের নিয়োগকারী ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করেন এনএটিসি-র জাতীয় সভাপতি ড. জিন্নার আলি৷ সরাসরি চাপ দিয়ে বলেন, অবিলম্বে ওই দুই বিপন্ন শ্রমিকের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে৷ নয়ত মালয়েশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে এই বিষয়টি আলোচনার জন্য উঠবে৷ সম্ভবত তার আগেই ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক যোগাযোগ করেছিল মালয়েশিয়ার সঙ্গে, কারণ সঞ্জয় মল্লিক রবিবার দেশে ফিরে এসে জানিয়েছেন, তাঁকে হঠাতই ডেকে নিয়ে গিয়ে হাতে পাসপোর্ট এবং বিমানের টিকিট ধরিয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়৷ সেসময় তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘‌তুই কোথায় কী বলেছিস, কী নিউজে দেখিয়েছিস, যে মালয়েশিয়া সরকার তোকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে!‌’

অডিও শুনুন 01:05
এখন লাইভ
01:05 মিনিট

‘এমপ্লয়মেন্ট ভিসা না থাকলে বিদেশে কাজের কোনো সুযোগ নেই’

সঞ্জয়ের মতো আরও অনেকে এখনও আটকে আছেন মালয়েশিয়ায়৷ মোট সংখ্যাটা প্রথমে ৩২ জানা গেলেও, এখন জানা যাচ্ছে ৫৯ জন৷ তাঁদের সবার অবস্থা সঞ্জয়ের মতোই৷ ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন ড. জিন্নার আলি৷ কিন্তু এমন ঘটনা তো প্রায়ই ঘটে৷ একজন শ্রমিক কীভাবে জানবেন যে তিনি পাচার চক্রের হাতে পড়ছেন কিনা?‌ ড. আলি জানাচ্ছেন, প্রথমত, এমপ্লয়মেন্ট ভিসা দরকার৷ সেই ভিসা না থাকলে বিদেশে কাজের কোনো সুযোগ নেই৷ কাজেই সেটা নিশ্চিত করতে হবে৷ দ্বিতীয়ত, যে কোম্পানি নিয়ে যাচ্ছে, তাদের অস্তিত্ব একবার যাচাই করা দরকার৷ ‘‌‘‌আর একটা জিনিস আমি সবাইকে বলব,’’ বলছেন ড. জিন্নার আলি৷ তাঁর কথায়, ‘‘‌কাজ করতে যাওয়ার আগে যে কোম্পানি নিয়ে যাচ্ছে, যে এজেন্ট নিয়ে যাচ্ছে, তাদের সম্পর্কে একটু খোঁজখবর নিন৷ যদি খোঁজখবর নিতে সমস্যা হয়, আমাদের ন্যাশনাল অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটির যে অ্যাপ আছে, সেখানে আপনারা মেসেজ করুন৷ আমরা যাচাই করে দেব৷’’

বস্তুত এই অ্যাপের সুবাদেই কিছুদিন আগে ইরানে গহনা শিল্পে কাজ করতে যাওয়া ১২ জন বাঙালি কর্মীকে একই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করেছে ড. আলির এই এনজিও৷ ওঁরা সমস্ত অভিবাসী শ্রমিককে উৎসাহিত করছেন এই অ্যাপ গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে সঙ্গে রাখার৷ বিপদের দিনের বন্ধুর মতো৷

২০১৬ সালের মে মাসের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন