ভালো লেখায় ক্রিকেটাররা খুশি হন, সমালোচনায় বিরক্ত | বিশ্ব | DW | 29.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

ভালো লেখায় ক্রিকেটাররা খুশি হন, সমালোচনায় বিরক্ত

প্রাতিষ্ঠানিক গণমাধ্যমের চেয়েও সামাজিক মাধ্যমে ক্রিকেটের খবর দ্রুত ছড়ায়৷ গুজব-গুঞ্জন ডালপালা মেলে ভুল বার্তাও দেয়৷ মিডিয়াতে কোনো নিউজ হলে জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারই বলেছেন, ‘‘কই ফেসবুকে তো দেখলাম না৷''

ফেসবুককে বার্তা পাওয়ার একটা মাধ্যম হিসেবে নিয়েছেন বেশিরভাগ ক্রিকেটার৷ তবে অনেক সময় সামাজিক মাধ্যম ক্রিকেটারদের জীবন দুর্বিসহ করে তোলে৷ সমালোচনার ঝড় উঠে ফেসবুকে৷ নেতিবাচক লেখা নিয়ে ক্রিকেটাদের বেশিরভাগই বিরক্ত হন৷ ইতিবাচক লেখা নিয়ে কারও কোনো আপত্তি নেই৷

সাকিব আল হাসানের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরের ফেসবুক পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়৷ সাধারণ মানুষ থেকে ক্রিকেটার সবাই জেনে গেলেন কী লিখেছেন শিশির৷ পরোক্ষভাবে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি আর ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে আক্রমণ করে লেখা পোস্ট৷ আক্রমণ পালটা আক্রমণ চলতে থাকল৷ শিশিরের পোস্ট দেখে সাকিব ভক্তরা খুশি হলেও মাশরাফি ও তামিম অনুসারীরা বেজার৷ মন্তব্যের ঘরে গিয়ে তারাও দুকথা লিখে দেন৷

এক সাংবাদিককে ফোন করে হতাশা প্রকাশ করেন মাশরাফি৷ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, লেখা, পালটা লেখা চলে দিনভর৷

সামাজিক মাধ্যমে ক্রিকেট এবং ক্রিকেটারদের নিয়ে এরকম হাজারো লেখা পোস্ট হয়৷ যার বেশিরভাগই ক্রিকেটাররা দেখেন না বা দেখা সম্ভব হয় না৷ তবে ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলো ইচ্ছের বিরুদ্ধেও দেখতে হয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনরাই ইনবক্স করে সংশ্লিষ্ট মানুষটিকে জানিয়ে দেন৷ পরিবারের সদস্যদের হতাশা অনুভব করে ক্রিকেটাররা আহত হন, প্রতিক্রিয়া জানান গণমাধ্যমের সামনে এসে৷

বেশিরভাগ ক্রিকেটারই সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যকে ভালোভাবে নেন না৷ সংবাদ সম্মেলন বা সাক্ষাৎকারে বিষয়টি প্রকাশও করেন তারা৷ সমালোচনায় খেলোয়াড়রা যে মনোক্ষুন্ন এবং হতাশ সেটা উঠে আসে ব্রিফিংয়ে৷ 

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশ দল হেরে গেলে আশাহত হয়ে সমর্থকরা ফেসবুকে নিজেদের মতামত তুলে ধরার পাশাপাশি ক্রিকেটারদেরও আক্রমণ করতে থাকেন৷ মাহমুদউল্লাহদের সেটা ভালো লাগেনি৷ ক্রিকেটাররা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই বিষয়গুলো জেনেছেন৷

বাছাই পর্বে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে খেলা শেষের সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান অধিনায়ক৷ সমালোচনার জবাবে টাইগার দলপতি বলেছিলেন, ‘‘এভাবে সমালোচনা করা ঠিক না৷ ফেসবুকে মানুষ যেভাবে সমালোচনা করছে সেগুলো আমাদের পরিবারের সদস্যদের আহত করে৷'' তিনিই আবার বলছেন, ‘‘ফেসবুকে যা লেখা হয় সেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই৷ খারাপ খেললে মানুষ লেখবেই৷ আমাদের চেষ্টা করতে হবে এসব জিনিস থেকে দূরে থাকার৷''

বাংলাদেশে ফেসবুক খুবই শক্তিশালী একটি মাধ্যম৷ বেশিরভাগ মানুষের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে৷ ক্রিকেটাররা ফেসবুকে ভালোভাবেই আছেন৷ সাকিব, মাশরাফি, তামিমসহ জাতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারের অফিসিয়াল ফেসবুক পাতা রয়েছে৷ নিজের ভেরিফাইড পেজে ভক্তসমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন তারা৷ ফ্যান-ফলোয়ার দেখে বিচার করেন নিজের জনপ্রিয়তা৷ ভক্তরাও প্রিয় খেলোয়াড়ের সমর্থনে পেজ খোলেন৷ সাকিবিয়ান, মাশরাফিয়ান এরকম আরও অনেক নাম পাওয়া যাবে৷

সামাজিক মাধ্যমে লেখা এবং দর্শকদের মন্তব্য নিয়ে সাকিবের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই৷ যতবারই তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে ঠান্ডা মাথায় বলেছেন, ‘‘সামাজিক মাধ্যম মানুষের মত প্রকাশের জায়গায়৷ স্বল্প শিক্ষিত থেকে উচ্চ শিক্ষিত প্রায় সবার ফেসবুকে আছে৷ তাই ফেসবুকের মন্তব্য বা পোস্ট থেকে কোনো কিছু বিচার করা ঠিক হবে না৷ যে যেভাবে একটি বিষয়কে দেখেন সেভাবে নিজের মত প্রকাশ করেন৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী লেখা হলো সেগুলো আমাকে স্পর্শ করে না৷ মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে পারে না৷ বরং এসবকে আমি ভালোভাবেই দেখি৷ আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে মানুষ কী ভাবে সেটা অন্তত জানতে পারি৷''

জাতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই সাকিবের মতো নন৷ সামাজিক মাধ্যমের লেখা বা মন্তব্য তাদের স্পর্শ করে৷ পারিবারিক জীবন এবং মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলে৷ ইমরুল কায়েস ভালো না খেলায় ফেসবুকে একটি গ্রপ তৈরি হয়েছিল ‘ইমরুল ব্রো' নামে৷ যেখানে ইমরুলকে নিয়ে রসিকতা করা হতো৷ বিষয়টি এত বেশি বিরক্তির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে বাঁহাতি এ ওপেনারকে কেউ ব্রো বললেই বিরক্ত হতেন৷ সাংবাদিকদের মুখের ওপর বলেছেনও, ‘‘আমাকে ব্রো বলবেন না৷''

ফেসবুকে ইমরুলের অ্যাকাউন্ট আছে৷ তিনি প্রতিক্রিয়া দেখেন, বিরক্ত হন আবার আবেগেও ভাসেন৷ বাঁহাতি এ ওপেনারের কাছে সামাজিক মাধ্যমের লেখা হলো, ‘‘ভালো, তবে মানুষ বেশি বেশি করে৷ মাঝে মাঝে সীমা ছাড়িয়ে যায়৷ রয়েসয়ে মন্তব্য করলে ভালো হতো৷''

মুশফিকুর রহিম তার ভেরিফাইড পেজে বার্তা দেন৷ ক্রিকেটের বাইরের অনেক বিষয় নিয়ে লেখেনও৷ ফেসবুকে মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে মন খারাপ হলেও প্রকাশ করতে চান না তিনি৷ বরং ফলোয়ার বাড়াতে পছন্দ করেন৷

মাশরাফি নিজেই ফেসবুকের নিয়মিত লেখক৷ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের হারের কারণ হিসেবে লিটন কুমার দাসের ক্যাচ ফেলা ও মাহমুদউল্লাহর ভুল নেতৃত্ব নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া পরখ করে দেখেছেন তিনি৷ অনানুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে নড়াইল এক্সপ্রেস লেখা নিয়ে কখনও সখনো অসন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেননি৷

Journalist Mohammad Sekander Ali

আলী সেকান্দার, ক্রীড়া সাংবাদিক

বৃহস্পতিবার নুরুল হাসানের কাছে ফেসবুকে সমর্থকদের সমালোচনা করা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পোর্টিংলি উত্তর দেন এভাবে, ‘‘খারাপ খেললে মানুষ সমালোচনা করবেই৷ ভালো খেললে এই মানুষগুলোই প্রশংসা করে৷ খুশি হয়ে ভালো ভালো পোস্ট দেয়৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনাকে অতটা বড় করে দেখার কিছু নেই৷''

রুবলে হোসেন তার পেজে সুন্দর সুন্দর স্ট্যাটাস দেন৷ বিশাল সংখ্যক ফলোয়ার তার৷ ফেসবুকের সমালোচনা খারাপ লাগে না তার কাছে, ‘‘কেউ তো ভুল লেখে না৷ আমরা খারাপ খেললে সেটা লেখে৷ ভুল করলে তা নিয়েও লেখে৷ তবে সমস্যা হলো আমাদের দেশের মানুষ ব্যক্তিগত আক্রমণ বেশি করে৷ ওই জায়গায় আমার আপত্তি আছে৷ আমরা তো জেতার জন্যই খেলি৷ ক্রিকেট ১১ জনের খেলা৷ একজন বোলার বা ব্যাটসম্যান ইচ্ছে করে তো খারাপ করে না৷ কিন্তু মানুষ সেটা বুঝতে চেষ্টা করে না৷ তারা মনে করে রুবেলের কারণে হারছে৷ এভাবে লেখা হলে কিছু করারও নেই৷ পাবলিক ফিগার হলে তো লেখা হবেই৷ সবাইকে নিয়ে তো মানুষ লেখে না৷ ঠান্ডা মাথায় একটু চিন্তা করলে নেতিবাচক লেখা হলেও খারাপ লাগবে না৷''

একটা জিনিস পরিষ্কার ক্রিকেটাররাও অনুসারীদের মাধ্যমে নিজেকে যাচাই করার চেষ্টা করেন৷ ফেসবুক ফলোয়ারদের সমর্থন থেকে কেউ কেউ নিজেকে জাতীয় দলে দেখতে চান৷ জাতীয় দল নির্বাচকদের সঙ্গে এনিয়ে কথাও বলেন৷ কিছুদিন আগেই একজন ক্রিকেটার এক নির্বাচককে বলেছিলেন, ‘‘ফেসবুকে দেখেন সবাই আমাকে জাতীয় দলে দেখতে চায়৷ আমি পারফর্ম না করলে তারা তো লিখত না৷ আমাকে দলে নিতে আপনাদের আপত্তি কোথায়৷'' এ থেকে বোঝা যায় ক্রিকেটারদের বেশিরভাগই ফেসবুকের লেখা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকেন৷ মাঠের পারফরম্যান্সের মতোই ভালো লেখা হলে তারা খুশি হন, সমালোচনা হলে বিরক্ত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়