ভালুকের মতো কিডনি থাকলে মানুষের উপকার হতো | অন্বেষণ | DW | 16.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ভালুকের মতো কিডনি থাকলে মানুষের উপকার হতো

শারীরিক দিক থেকে মানুষ ও পশুর শরীরের সঙ্গে কি খুব বেশি পার্থক্য রয়েছে? বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ভালুকের শরীরে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে পেয়েছেন, যার রহস্য ভেদ করলে সম্ভবত মানুষেরও উপকার হতে পারে৷

স্টকহোমের চিড়িয়াখানায় বিশ্বের সেরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, কিডনি বিশেষজ্ঞ ও পশু চিকিৎসকরা মিলিত হয়েছেন৷ ভিয়েনার পশু চিকিৎসক ইওহানা পাইনার ও বোস্টনের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বারবারা ন্যাটারসন-হরোভিৎস ভালুকের গুণাগুণ দেখে মুগ্ধ৷

স্টকহোমের কিডনি বিশেষজ্ঞ পেটার স্টেনভিংকেলও সেই দলেই পড়েন৷ ভালুক হাইবারনেশন বা শীতকালীন ঘুমের সময় শুধু সন্তানের জন্মের পর তাকে স্তন্যদান করে না, প্রায় ছয় মাসের জন্য এই প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ না করেই থাকতে পারে৷ অথচ এর ফলে কিডনির কোনো রোগ হয় না৷ পশু চিকিৎসক হিসেবে ইওহানা পাইনার মনে করিয়ে দেন, ‘‘হাইবারনেশনের সময় ভালুকের অসাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়৷ যেমন পেশির ভর কমে না, শরীরে মূত্র তৈরি হয় না, হাড়গোড়ের ঘনত্ব দুর্বল হবার বদলে বরং শক্তিশালী হয়ে ওঠে৷ কিডনিরও কোনো ক্ষতি হয় না৷''

এর ফলে পেটার স্টেনভিংকেলের মতো কিডনি বিশেষজ্ঞদের কৌতূহল আরও বেড়ে গেছে৷ তিনি বলেন, ‘‘কিডনির ডাক্তার হিসেবে জানতে অবাক লাগে যে ভালুকের শরীরে কিডনি রোগীদের মতো কোনো জটিলতা দেখা যায় না৷ অস্টেওপোরোসিস, হাড়ের ক্ষয়ের কোনো লক্ষণ নেই৷ শুধু পেশির সামান্য ক্ষয় হয়৷ অ্যাথরোসক্লেরোসিসেরও কোনো চিহ্ন নেই৷ অথচ দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ থাকলে মানুষের মধ্যে এমনটা প্রায়ই দেখা যায়৷''

২০০৫ সালে বিষয়টি প্রথম চোখে পড়েছিল৷ লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের চিড়িয়াখানা এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে ডাক দেয়৷ তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকা বিভিন্ন প্রাণীর চিকিৎসা শুরু করেন৷ সে সময়ে চিড়িয়াখানার নিজস্ব পশু চিকিৎসক তাঁকে সরাসরি প্রাণীদের পরীক্ষা না করার অনুরোধ করেছিলেন৷ কারণ সে ক্ষেত্রে আচমকা মানসিক চাপের কারণে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে৷ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বারবারা ন্যাটারসন-হরোভিৎস বলেন, ‘‘বহু দশক ধরে প্রাণীদের ক্ষেত্রে ‘ক্যাপচার মাইয়োপ্যাথি' নিয়ে জল্পনাকল্পনা রয়েছে৷ নব্বইয়ের দশকের শেষে মানুষের ক্ষেত্রে এমন রোগ নির্ণয় করা হয়েছিল৷ অর্থাৎ অনেক দশক ধরে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ নষ্ট হয়েছে৷ কারণ আমরা নিজেদের পশু হিসেবে দেখি না৷ প্রাকৃতিক জগতে আমরা পশুদের মর্যাদা কমিয়ে দেই৷''তিনি একাই এমন আদানপ্রদানের সন্ধান করছেন না৷ পেটার স্টেনভিনকেল ও ইওহানা পাইনারও তাঁর সঙ্গে কিডনির রোগ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন৷ তাঁরা চিড়িয়াখানার ভালুক এবং প্রকৃতির কোলে মুক্ত ভালুকের কিডনি ও রক্ত পরীক্ষা করেছেন৷ তাঁরা জানতে পেরেছেন, যে মুক্ত ভালুকের খাদ্যাভ্যাস অন্যরকম হয়৷ চিড়িয়াখানার ভালুকের তুলনায় সেগুলির স্বাস্থ্যও বেশি ভালো থাকে৷ কিন্তু সব ভালুকেরই কিডনির অবস্থা মোটামুটি ভালো৷

সম্ভবত ভালুকের খাদ্যাভ্যাস এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে৷ সব ভালুকের অন্ত্রেই গবেষকরা খুবই স্বাস্থ্যকর গাট ফ্লোরা বা ব্যাকটেরিয়ার উন্নত বাস্তুসংস্থান খুঁজে পেয়েছেন৷ প্রায় ৮০ শতাংশ ভালুকই নিরামিষাশী৷ অর্থাৎ এই প্রাণী অনেক পরিমাণ ঘাসপাতা, উদ্ভিদের অংশ ও বেরি জাতীয় ফল খায়৷ পেটার স্টেনভিংকেল বলেন, ‘‘ভালুক বিশাল পরিমাণ খেতে পারে, প্রায় সবই খায়৷ তবে বিলবেরি ও লিংগনবেরি এই প্রাণীর প্রিয় খোরাক৷ বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ভালুক যে বিশাল পরিমাণ বেরি খায়, তার বিপাকীয় প্রভাব আছে বলে আমার ধারণা৷  অন্যান্য গবেষণা থেকে আমরা জানি, যে হাড়ের জন্য এটা উপকারী এবং এর ফলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়৷''

গ্রীষ্মের শেষ ভাগে ভালুক দিনে প্রায় দুই লাখ বেরি খায়৷ গবেষকদের ধারণা, বেরি ফলের লাল বা নীল রংয়ের জন্য অ্যান্থোসায়ান নামের যে পদার্থ দায়ী, সেটির কারণেই মুক্ত ভালুকদের কিডনির স্বাস্থ্য এত ভালো৷ সেই পদার্থ মানুষের হৃদযন্ত্র ও রক্ত সঞ্চালন সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ করতে পারে বলে ধারণা করা হয়৷

 

নিকোলেটা রেনৎস/এসবি 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন