ভার্চুয়াল জগতে অমর নোত্র দাম | বিশ্ব | DW | 13.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ভার্চুয়াল জগতে অমর নোত্র দাম

প্যারিসের নোত্র দাম গির্জায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল, কিছুই চিরস্থায়ী নয়৷ সেই স্থাপনাকে আবার জীবন্ত করে তুলেছেন এক চলচ্চিত্র পরিচালক৷ ভার্চুয়াল পর্যটক হিসেবে সেই গির্জায় হেঁটে বেড়ানো যাচ্ছে৷

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে প্যারিসের বিখ্যাত নোত্র দাম গির্জায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল৷

চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে ক্লোয়ে রশারোই ও ভিক্টর আগুলঁ সেই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই বিশ্বখ্যাত এই গির্জা সম্পর্কে একটি তথ্যচিত্রের জন্য শুটিংয়ের কাজ শেষ করেছিলেন৷ ক্লোয়ে বলেন, ‘‘অগ্নিকাণ্ডের পর আমরা বুঝেছিলাম যে, আমাদের তোলা ভিডিও এবার অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে উঠেছে৷ আমরা নোত্র দামের ইতিহাসের এমন এক মুহূর্ত ধারণ করেছি, যা আবার মানুষকে ফিরিয়ে দিতে পারি৷ ইউরোপ, অ্যামেরিকা, এশিয়া, প্যারিস – নোত্র দামকে ঘিরে সব জায়গার মানুষেরই স্মৃতি রয়েছে৷''

ধ্বংসের আগে ও অগ্নিকাণ্ডের পরে তোলা ছবি দিয়ে তাঁরা ‘রিবিল্ডিং নোত্র দাম' নামের দ্বিতীয় একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছেন৷ পুনর্গঠনের বিষয়টিও তাতে উঠে এসেছে৷ গির্জার ভেতরের এমন ছবি এর আগে কখনো তোলা হয়নি৷ প্রযোজক হিসেবে ভিক্টর আগুলঁ বলেন, ‘‘এই ছবি সত্যি অনবদ্য, কারণ ভারচুয়াল রিয়ালিটি প্রক্রিয়ায় সে সব তোলা হয়েছে৷ অর্থাৎ ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাংগেল, হাই রেজোলিউশন ও থ্রিডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে৷ ফলে ডান ও বাম চোখের জন্য আলাদা ছবি সৃষ্টি হয়েছে৷ দেখলে মনে হবে যেন সশরীরে সেখানে উপস্থিত রয়েছি৷''

ভারচুয়াল রিয়ালিটি চশমার সাহায্যে ১৬ মিনিটের এই চলচ্চিত্রে ডুবে যাওয়া যায়৷ এমনকি সেন্সরের কল্যাণে গির্জার মধ্যে ইচ্ছামতো হাঁটাচলা করা যায়৷ বাস্তবে সেই অভিজ্ঞতার আর কোনো সুযোগ নেই৷ দর্শকদের জন্য নোত্র দাম গির্জার দরজা বন্ধ রয়েছে৷ আগুলঁ মনে করিয়ে দেন, ‘‘পর্যটকদের দ্রষ্টব্য এই স্থান প্রতি বছর নানা ধর্মের লাখ লাখ মানুষকে আকর্ষণ করেছে৷ ফ্রান্সের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক এই গির্জা৷ সে কারণে চলচ্চিত্রে গির্জার সেই গুরুত্ব তুলে ধরা আমাদের কাছে জরুরি ছিল৷''

‘রিবিল্ডিং নোত্র দাম' ছবির টিম গির্জার ধ্বংসস্তূপে ছবি তোলার বিরল অনুমতি পেয়েছিল৷ কয়েকটি জায়গায় মাত্র এক জনের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ মানুষ নয়, রোবট ক্যামেরা সেই দায়িত্ব পালন করেছে৷ কারণ, ভাঙা অংশ ও সিসার উচ্চ মাত্রা মানুষের জন্য বড়ই বিপজ্জনক৷ ক্লোয়ে রশারোই সেই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা এই রোবট কাজে লাগিয়ে বিশাল গর্তের ঠিক নীচে ক্যাথিড্রালের মাঝখানে পৌঁছতে পেরেছি৷ রোবট ছাড়া সেটা সম্ভবই হতো না৷ সত্যি ভাগ্য ভালো ছিল৷ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পৌঁছানো সত্ত্বেও আমি নিজে গর্তের নীচে যেতে পারতাম না৷ তবে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মাধ্যমে আমি সেখানে দাঁড়াতে পেরেছি৷'' 

গোটা বিশ্বে দর্শকরা বাসায় বসেই এই ছবি দেখতে পারেন৷ সঠিক প্রযুক্তি নিয়ে সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায় থাকতে পেরে পরিচালক হিসেবে ক্লোয়ে রশারোই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন৷ ক্লোয়ে বলেন, ‘‘আগুন লাগার পর আমাদের সবারই উপলব্ধি হলো যে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়৷ এমনকি এত প্রাচীন ও প্যারিসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এক ভবনও উধাও হয়ে যেতে পারে! তবে নোত্র দামের আত্মা এখনো অটুট রয়েছে৷ তাই এই গির্জার পুনর্গঠন ও আগের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সম্পর্কে আমি আশাবাদী৷''

তবে সেই কাজ শেষ করতে সম্ভবত অনেক বছর সময় লাগবে৷ ততদিন অপেক্ষা করতে না চাইলে ভার্চুয়াল পর্যটক হিসেবে নোত্র দাম গির্জা ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে৷

গ্যোনা কেটেলস/এসবি

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন