‘ভারত ভাঙনের সভাপতি হিসেবে নন্দিত হবেন মোদী’ | আলাপ | DW | 16.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘ভারত ভাঙনের সভাপতি হিসেবে নন্দিত হবেন মোদী’

কাশ্মীর অস্থিরতা নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেন সমাজ বিশ্লেষক সলিমুল্লাহ খান৷ কাশ্মিরীদের সম্মতি ছাড়া ‘বিশেষ মর্যাদা' প্রত্যাহার ওই জনপদে কখনো শান্তি ফেরাবে না বলে মনে করেন এই তাত্ত্বিক৷

ডয়চেভেলেকাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বা বিজপেরি মূল রাজনীতি কি?

সলিমুল্লাহ খান: নরেন্দ্র মোদী বা বিজেপির রাজনীতি-যা-ই বলি না কেন, এটা পুরানো রাজনীতি৷ ভারতভাগের আগে থেকেই এই রাজনীতি ছিল৷ এটার সঙ্গে যাঁরা আছে, তাঁরা আসলে অখণ্ড ভারত চায়৷ এর মানে হলো, এখনও তাঁরা মনে করেন পাকিস্তান, বাংলাদেশকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেবেন৷ এটা তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতি৷ সেই কথা তাঁরা পরিষ্কার করে বলেছে নানা সময়ে৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, যিনি হিন্দু মহাসভার সভাপতি ছিলেন, কংগ্রেসের মধ্যে যেসকল রাজনীতিবিদেরা ছিলেন, যেমন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল--তাঁদের বিভিন্ন  বক্তব্যের সময় সেটা বোঝা গেছে৷

ওই সময় লড়াই হয়েছে, সেই লড়াইয়ের ফলে দেশভাগ হয়েছে৷ সেই ভাগটা তাঁরা মেনে নিয়েছিলেন এরকম একটা আশায় যে, ভবিষ্যতে সবাই আবার তাঁদের সাথে যোগ হবে৷ সবিনয়ে বলি, গোটা রাজনীতিটাই একটা ভুল দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত৷ গোটা তত্ত্বটাই গোড়াতে ভুল৷ ভারত একটা জাতি নয়৷ ভারতীয় জাতি বলে কোনো জাতি নেই৷ কখনো ছিলো না৷ ভারত হচ্ছে বিভিন্ন জাতির সমন্বয়ে একটা মহাদেশ৷ যেমন ধরা যাক, ইউরোপীয় বলে কোনো জাতি নেই৷ নানা সময় ফরাসীরা, জার্মানরা যুদ্ধ করেছে৷ ইংরেজরা জার্মানদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে৷ পরে তাঁরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন করেছে৷ তারপরেও কেউ বলে না ইউরোপ একটা জাতি৷ বলতে পারেন, ইউরোপ একটা মহাদেশ, একটা মহাজাতি৷ ভারতও তাই৷ ভারতের সঙ্গে ইউরোপ তুলনীয়৷ সেখানে নানা জাতির যে স্বাধীনতার দাবি, সেটাই ঐতিহাসিকভাবে বাস্তব দাবি৷ শুধুমাত্র ইংরেজরা সারা ভারতকে এক জায়গায় এনেছিল কিছু দেশীয় রাজ্য বাদ দিয়ে৷ ভারত একটা সাম্রাজ্য পেয়েছিল মোঘলদের অধীনে৷ তাঁরও আগে হর্ষবর্ধন বা অশোক পর্যন্ত যান, একটা সাম্রাজ্য দেখা যায়৷ তাকে তো জাতি বলে না৷ জাতি ধারণাটি হচ্ছে আধুনিককালের ধারণা৷ গত চার/পাঁচশো বছরের ধারণা৷ তখন ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য ছিল, মুঘল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারি হয়েছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য৷ এখন তার উত্তরাধিকারী হয়েছে ভারতীয় সাম্রাজ্য৷ কিন্তু তাঁরা সাম্রাজ্য না বলে একটা জাতি বলে চালাতে চাচ্ছে৷ এটিই হচ্ছে গণ্ডগোলের মূল উৎস৷ বলতে পারেন, এটা একটি তাত্ত্বিক প্রশ্ন৷ কিন্তু আমি বলবো এটি ইতিহাসের প্রশ্ন৷ ভারত কখনো এক জাতি ছিলো না৷ ভারত উপমহাদেশ হচ্ছে নানা জাতির সমন্বয়ে, মাঝে মাঝে সাম্রাজ্য হয়েছে, মাঝে মাঝে স্বাধীন রাজ্যগুলি শাসিত হয়েছে৷ ভারতে সেই অর্থে কখনো গণতন্ত্রও ছিলো না৷

অডিও শুনুন 15:36

‘কাশ্মীরের জনগণের ইচ্ছে আছে কি না প্রশ্নটা ভারত চলছে না’

উপমহাদেশকে আমরা দক্ষিণ এশিয়া বলি, এখানে শ্রীলঙ্কা কেন আলাদা দেশ? নেপাল কেন আলাদা দেশ? এখনও পর্যন্ত ভুটান কেন আলাদা দেশ? পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ কেন আলাদা দেশ হয়েছে৷ সেই একই যুক্তিতে কাশ্মীর তো আলাদা দেশ ছিলোই৷ কাশ্মীর ১৯৪৭ সালে ভারতের সঙ্গে যোগ দিয়েছে একটা ফাঁড়ায় পড়ে৷ সেই ফাঁড়াটা আর ব্যাখ্যা করার দরকরা নেই৷ সেটাকে বেঁধে রাখার জন্য ভারতের সঙ্গে তাঁরা একটা চুক্তিতে প্রবেশ করেছিলো৷ ভারত ইউনিয়নের সঙ্গে কাশ্মীরের চুক্তিটি ছিলো, যেটাকে আমরা ৩৭০ ধারা, ৩৫ (ক) ধারা বলি৷ এখন যাঁরা এটা দাবি করতে চাচ্ছেন, তাঁরা সেই ইতিহাসকে অস্বীকার করছেন৷ মানে তাঁরা একটা ঝুঁকি নিচ্ছেন৷ ঝুঁকিটা কি? তাঁরা কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে একীভূত করে ফেলবেন৷ অর্থাৎ সেই চুক্তিকে তাঁরা লংঘন করবেন৷ তাঁরা খেয়াল করছেন না, এই চুক্তি লংঘন করলে তাঁরা কাশ্মীরের নেহায়েত দখলদার শক্তিতে পরিণত হলেন৷ এটা মেহবুবা মুফতি বলেছেন, এটা কংগ্রেস নেতা চিদাম্বরম বলেছেন৷ আমার আবিস্কারের কিছু নাই৷ অর্থাৎ কাশ্মীরকে অখণ্ড ভারতের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার উল্টা পিঠ হলো, কাশ্মীরকে দখল করে রাখা৷ কাশ্মীরের জনগণের ইচ্ছে আছে কি নেই, সেই প্রশ্নটা ভারত তুলছে না৷

কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের ভবিষ্যত কোন দিকে যাচ্ছে?

১৯৪৭সালের পর থেকে জাতিসংঘে এই প্রশ্নটা উঠেছিল যে, একসময় কাশ্মীরে গণভোট হবে৷ গণভোট না হোক, অন্তত ৩৭০ ধারা অনুসারে কাশ্মীরের যে প্রাদেশিক সভা, তার যে আইনসভা বা পার্লামেন্ট তার অনুমোদন নিতে হবে, যদি এই চুক্তি বাতিল করতে হয়৷ চুক্তি কখনো একতরফা বাতিল করা যায় না৷ কিন্তু ভারত এটা করছে, গায়ের জোরে৷ স্বীকার করি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে৷ কাশ্মীরের জনসংখ্যা খুব কম, এক কোটিরও কম৷ ভারতের জনসংখ্যা ১৩০ কোটি৷ অনেকে এটিকে গণতন্ত্র বলে, কিন্তু এটি গণতন্ত্র নয়৷ অর্থাৎ কাজটা শক্তি দিয়ে করা নাকি সম্মতি নিয়ে করা-এই প্রশ্নটা আসলে, কাজটি গণতান্ত্রিক নয়৷ আমি মনে করি এটা শুধু উপমহাদেশে নয়, ভারতেও দীর্ঘ অশান্তি তৈরি করবে৷ আমি সোজা কথায় বলবো, এটা ভারতীয় ইউনিয়নের ভাঙনের পথকে এগিয়ে নিয়ে গেল৷ নরেন্দ্র মোদী সেদিক থেকে ভারত ভাঙনের সভাপতি হিসেবে নন্দিত হবেন ভবিষ্যতে৷

আমার মনে হচ্ছে, কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না৷ ধরেন, ভারত তার সামরিক শক্তির জোরে অথবা সংখ্যা গরিষ্ঠতার জোরে এবং ভারতের প্রচার মাধ্যমের ( সামরিক বাহিনীর চেয়েও এখন শক্তিশালী) জোরে কাশ্মীরকে তারা রেখে দিল পায়ের নিচে চাপিয়ে৷ তারপর ধরেন, কাশ্মীরে বাইরে থেকে জনবসতি স্থাপনে সেটেলার নিয়ে গেল৷ এটা ইতিহাসের অনেক পরীক্ষিত ব্যাপার৷ আলজেরিয়াতে দেখেছেন ফরাসিরা কতো লোক নিয়ে গেছিল৷ তাঁদের ভাষায় বলছি, তাঁরা সেখানে প্রায় ১০/১২ লক্ষ লোক নিয়ে গেছিল-ফ্রান্স থেকে, ইটালি থেকে ইউরোপের দরিদ্র জনবসতি থেকে৷ কিন্তু সেটা কি আলজেরিয়াকে শান্ত করেছিল? আমার মনে হয়, কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না এ পদ্ধতিতে৷

এ ঘটনা পাকিস্তান ও চীনকে কিভাবে আক্রান্ত করছে?

পাকিস্তান এখানে একটি পার্টি৷ কথা হচ্ছে পাকিস্তান একটা খারাপ পার্টি৷ সেটা ভারতকে ভালো করে তোলে না৷ ভারত বার বার পাকিস্তানের দোহাই দিয়ে নিজের আচরণের বৈধতা নিষ্পন্ন করার চেষ্টা করছে৷ পাকিস্তানও দাবি করেছে কাশ্মীর, ভারতও দাবি করেছে কাশ্মীর৷ আর কাশ্মীরে ‘কাশ্মীরিয়াত' বলে একটা ব্যাপার আছে, তাঁরা কাশ্মীর দাবি করেছে৷ যেমন ধরুন, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময়, বাংলাদেশকে ভারত উস্কানি দিচ্ছে একথা পাকিস্তান প্রচার করেছে৷ কিন্তু সত্যটা অন্তত পৃথিবীতে এখন পরিস্কার হয়েছে৷ বাংলাদেশের জনগণ না চাইলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না৷ সুতরাং কাশ্মীরের জনগণ কি চায়, সেটা আমাদের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত৷ ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা শত্রু হিসেবে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুকে ব্যবহার করবে এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার৷

চীনের অভিযোগ ভারত তার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করছে৷ এটা কিভাবেচীনের সমর্থন নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে যেতে  চায়  কিস্তান৷ ফলাফল কি  হতে পারে?

কাশ্মীরের পাশে তিনটি বৃহৎ শক্তি৷ চীন ১৯৬৪ সালে নিউক্লিয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে৷ অন্যরা তো তাকে বাধা দিতে পারেনি৷ ভারত অর্জন করেছে, পাকিস্তান অর্জন করেছে৷ তার মানে তিনটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ কাশ্মীরের চারপাশে৷ এটা কি আমাদের জন্য খুব শান্তির খবর হলো? পারমাণবিক শক্তি জিনিসটাই সারা পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক৷ আমার বক্তব্য হলো, এখানে চীনের ঐতিহাসিক দাবি আছে৷  যেটাকে আমরা বাংলায় বলি অক্ষয় চীন৷ কাশ্মীরের তিন ভাগের একভাগ তো চীনই দখল করে রেখেছে ১৯৬২ সাল থেকে৷ ভারতের একজন নেতা অমিত শাহ তো বলেছেনই, তারা চিনের কাছ থেকে ফেরৎ নেবে৷ গোটা কাশ্মীর তাঁরা নেবে, চীন যেটা দখল করে রেখেছে সেটাও ফেরৎ নেবে৷ এখানেই চীন তার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাতের কথা বলছে৷

এই অস্থিরতা গোটা দক্ষিণ এশিয়া তথা আঞ্চলিক রাজনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলবে?

আমি তিন দেশের দাবি নিয়ে বলছি৷ দাবি নিয়ে বিরোধ আছে৷ সেই বিরোধ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে পদ্ধতিও আছে মীমাংসা করার৷ যুদ্ধ একমাত্র পদ্ধতি নয়৷ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর প্রত্যেক জাতি অঙ্গীকার করেছে, সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যুদ্ধকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবো না৷ এখন ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, সেটা আমাদের কারো জন্য সুখকর নয়৷ আমরা যুদ্ধ চাই না৷ কিন্তু একই সাথে জনগনের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনো একটি জাতিকে দখল করে রাখা ঠিক নয়, আসলে রাখা যায় না৷

গত কয়েক দশকের রাজনীতিতে দেখা যায়, কোনো একটা ছুঁতো পেলেই পশ্চিমারা হস্তক্ষেপ করে বসে৷ইরাকআফগানিস্তানলিবিয়াসিরিয়া-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ৷  রকমকোনো আশঙ্কা আছে কি না?

জাতিসংঘ যে দলিলগুলো বহন করেছে, একটা হচ্ছে ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা৷ সেই দলিলের ১৮ বছর পরে আরো দুটি প্রোটোকল গৃহিত হয়েছে৷ এই দুটোকে আমরা কোর অংশ হিসেবে মনে করি৷ সেখানে রাজনৈতিক দলিলের ২০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সমস্যা সমাধানের জন্য যুদ্ধের প্রচার করা যাবে না৷ সকলেই তাতে অঙ্গীকার করেন৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনেকদিন তাতে স্বাক্ষর করেনি৷ তারা মনে করেছে যে, সমস্যা সমাধানে যুদ্ধ তাদের কাছে একটা বিকল্প হিসেবে শেষ তুরুপের তাসের মতো হাতে থাকবে৷

আমার কথা হচ্ছে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর যুদ্ধ কোনোটা বন্ধ ছিলো? মহাযুদ্ধ হয়নি৷ স্থানীয় যুদ্ধ তো হয়েছে৷ ভিয়েতনামে কি হয়েছিলো? ঘোষণা ছাড়াই যুদ্ধ করেছে৷ আলজেরিয়াতে ফরাসিরা আট বছর যে যুদ্ধ চালিয়েছে, কিন্তু সেটাকে তারা আইনগতভাবে যুদ্ধ বলে স্বীকার করেনি৷ বলেছে সেটা পুলিশ অপারেশন৷

যখন দুটো রাষ্ট্র সংঘর্ষে জড়ায়, তখন সেটাকে যুদ্ধ বলে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি৷ এভাবেই ইরাক, ইরানের প্রসঙ্গে যদি আসি, ইরানের ওপর একটা যুদ্ধের খড়গ ঝুলে আছে৷ ইরাকের ব্যাপারটাও আমরা সকলে জানি৷ প্রক্সি ওয়ার যেটা বলে, এটাই হচ্ছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর উদাহরণ৷

বর্তমানে আমার মনে হয় যে, কাশ্মীরে যে শক্তিগুলো জড়িত আছে চীন, ভারত ও পাকিস্তান-তারা সবাই পারমাণবিক শক্তিধর৷ পশ্চিমারা এখানে লড়বে, তবে সরাসরি নয়৷ তারা লড়বে এখানে প্রক্সির মাধ্যমে৷ এখানে একটা কথা আছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গ যুদ্ধ করার মতো শক্তি আর কোনো আঞ্চলিক শক্তির নেই৷ পাকিস্তান যদি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করে থাকে, তবে যৌক্তিকভাবে পাকিস্তান পরাজিত হয়েছে, অথবা ড্র হয়েছে৷ যতোই আস্ফালন করুক না কেন, যুদ্ধ দিয়ে এটা মীমাংসা হবে না৷ আমার প্রার্থনা, যেন যুদ্ধ না হয়৷ কারণ যুদ্ধ কারো জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না৷

কিন্তু আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যদি তাদের দায়িত্ব পালন করে, এখন ভারতের কংগ্রেসসহ অন্যরা যে দাবিটি করছে কাশ্মীরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে, আমার মনে হয় আর পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে না৷ এর একটা হেস্ত নেস্ত হবে৷ কাশ্মীর হয় ভারতের অঙ্গীভূত হয়ে যাবে, সিকিমের মতো৷

সিকিমকেও কিছু আঞ্চলিক অধিকার দেয়া হয়েছে৷ নাগাল্যান্ড মিজোরামসহ অনেক এলাকার মধ্যে এই বিশেষ অধিকার আছে, তাহলে কাশ্মীরে বিলুপ্ত হবে কেন৷ যদিও আমি মনে করি এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি৷

এবং কাশ্মীর প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান-

বাংলাদেশ হয়তো এ বিষয়ে চুপচাপ থাকার নীতি নিয়েছে৷ নৈতিকভাবে এটি খুব একটা মহান নীতি নয়, আদর্শ নীতি নয়৷ কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান যে মিত্রতা ভারতের সাথে, সেটা এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে চুপ থাকতে বাধ্য করছে৷

বাংলাদেশের ঘোষিত নীতি হচ্ছে, বাংলাদেশ নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করবে৷ বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ জোটের অংশ হবে না৷ বাংলাদেশ এখানে কোনো পক্ষে যোগ দেবে না৷ বাংলাদেশ কারো সাথে সামরিক নীতিতে, সামরিক বন্ধনে আবদ্ধ নয়৷ মনে রাখতে হবে পাকিস্তান আমল থেকে আমাদের যে রাজনৈতিক নীতি ছিলো, সেটা হলো জোট নিরপেক্ষতা৷ আমি মনে করি বাংলাদেশ এখনো সেই নীতিতে অটল আছে৷ এবং থাকা উচিত৷ মানে সম্ভাব্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিরপেক্ষই থাকবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন