ভারত-চীন সীমান্তের কাছে রাজনাথের অস্ত্রপুজো | বিশ্ব | DW | 26.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারত-চীন সীমান্তের কাছে রাজনাথের অস্ত্রপুজো

লাদাখ সীমান্তে চারশ মিটার দূরত্বে দাঁড়িয়ে ভারত এবং চীনের ট্যাঙ্ক। তারই মধ্যে সিকিমে চীন সীমান্তের কাছে অস্ত্রপুজো করলেন রাজনাথ সিং।

চীন নিয়ে ফের উত্তাপ ছড়ালেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত। রোববার দসেরা বা বিজয়া দশমী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের সেনা ঘাঁটি সুকনায় গিয়েছিলেন রাজনাথ। সেখানে নিয়মমাফিক অস্ত্রের পুজো করে তিনি আরো একবার চীনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্য দিকে, আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, চীন যে ভাবে সীমান্তে সাম্রাজ্যবাদী কার্যকলাপ ছড়াচ্ছে, তার যোগ্য জবাব দিচ্ছে ভারত। এই আবহেই সোমবার ভারতে পৌঁছচ্ছেন অ্যামেরিকার সচিব মাইক পম্পেও এবং মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকও চীন নিয়ে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে অ্যামেরিকা। এ দিকে ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর, পূর্ব লাদাখে এই মুহূর্তে দুই দেশের ট্যাঙ্কের মধ্যবর্তী দূরত্ব মাত্র চারশ মিটার। গত কিছু দিনে দুই দেশই আরো অস্ত্র সীমন্তে মজুত করেছে।

রোববার প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের সেনা ঘাঁটি এবং সেখান থেকে সিকিমে চীন সীমান্তে যাওয়ার কথা ছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে সেনার একটি ছাউনিতে তাঁর বিজয়া দশমীর অস্ত্র পুজো করার কথা ছিল। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় সেখানে তিনি পৌঁছতে পারেননি। চীন সীমান্তের এত কাছে গিয়ে অস্ত্রপুজো নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এ দিন রাজনাথ বলেছেন, ''ভারত শান্তির পক্ষে। কিন্তু চীন যে ভাবে আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছে, তার যোগ্য জবাব দিচ্ছেন ভারতীয় জওয়ানরা।'' রাজনাথের বক্তব্য, ভারত এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না। চীনকে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকতে দেয়নি দেশের সেনা। মাসখানেক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একই কথা বলেছিলেন। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন হয়েছিল। বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, চীন ভারতের সীমান্তে ঢুকে না পড়লে লাদাখে সংঘাত শুরু হয়েছে কেন?

বস্তুত সেই সুরই শোনা গিয়েছে বিজেপির উৎস আরএসএস-এর প্রধানের মুখেও। মোহন ভগবত রোববার বক্তৃতায় বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী চীন ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে। ভারত তার যোগ্য জবাব দিয়েছে। মোহন ভগবতের বক্তৃতার পরেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করে জানান, এত দিনে সত্য সামনে এলো। চীন যে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে, তা স্পষ্ট হলো।

লাদাখে ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত। এখনো দুই দেশের সেনা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। ভারতীয় সেনার সাবেক লেফটন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''সীমান্তের উত্তেজনা এতটুকু কমেনি বরং বেড়েছে। দুই দেশই সমস্ত আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার খুব কাছে নিয়ে গিয়ে রেখেছে।'' ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে পূর্ব লাদাখে ভারত এবং চীনের ট্যাঙ্কের মধ্যবর্তী দূরত্ব মাত্র চারশ মিটার। যা নজিরবিহীন। সেনাস্তরের একাধিক বৈঠকেও কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি। অরুণাচল এবং সিকিম সীমান্তেও রেড অ্যালার্ট রয়েছে। তারই মধ্যে সোমবার ভারতে আসছেন মার্কিন বিদেশ সচিব পম্পেও এবং প্রতিরক্ষাসচিব। রাজনাথ সিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁরা চীন নিয়ে বৈঠক করবেন। বস্তুত, অ্যামেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত একটি ব্লক তৈরি করে চীনের বিরুদ্ধে জোড়ালো সওয়াল তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। চীনও প্রথম থেকেই তার বিরোধিতা করে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে কারণ, সম্প্রতি চীন জানিয়েছে ভারতের অরুণাচল এবং লাদাখ কোনো অংশকেই তারা স্বীকৃতি দেয় না। ভারত এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনের সেনাকে যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকার পরামর্শও দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, মার্কিন সচিবদের সফরের পরে ভারত-চীন সীমান্তে সংঘাতের আবহাওয়া আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে উৎপলবাবুর ধারণা, অ্যামেরিকার সঙ্গে বৈঠকে সীমান্তে আলাদা কোনো প্রভাব পড়বে না। পরিস্থিতি যেমন আছে, তেমনই থাকবে।