ভারত ও ইসরায়েল এত কাছাকাছি আগে কখনো আসেনি | বিশ্ব | DW | 17.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত-ইসরায়েল

ভারত ও ইসরায়েল এত কাছাকাছি আগে কখনো আসেনি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখন ভারত সফরে৷ দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক হয়েছে৷ সই হয়েছে ৯টি সমঝোতা চুক্তি৷ বলা হচ্ছে, দুদেশের সম্পর্ক শুধু জেরুসালেম প্রশ্নে আটকে থাকতে পারে না৷

default

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের সময় তোলা ছবি

ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছরের মধ্যে উভয় দেশ একে অপরের এত কাছাকাছি এর আগে আর কখনো হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে৷ প্রচলিত কূটনৈতিক প্রোটোকলের সব বিধি ভেঙে নতুনদিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে গিয়ে যেভাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, সেটা যেন বন্ধুত্বের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়ালো৷ অনুরূপটা হয়েছিল গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন ইসরায়েল সফরে গিয়েছিলেন৷ সেখানেও মোদী-নেতানিয়াহুর আলিঙ্গন৷ একে অপরকে নাম ধরে ডাকা৷ গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী সস্ত্রীক নেতানিয়াহুকে নিজের বাসভবনে নৈশভোজে আমন্ত্রণ করা৷ এই আন্তরিকতা, এই শরীরী ভাষা শুধু দু'দেশের নয়, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কেও যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা৷ এই আন্তরিকতা ভবিষ্যত ঘনিষ্ট সম্পর্কের ইঙ্গিতবাহী৷

গত সোমবার দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পর সই হয় ব্যবসা বাণিজ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, সাইবার নিরাপত্তা, অপ্রচলিত বিদ্যুৎশক্তি, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সহযোগিতা, হোমিওপ্যাথি ওষুধপত্র, মহাকাশ বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র নির্মাণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমঝোতাপত্র৷ ভারতের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা আবার শুরু করার কথা বলা হয়৷ ভারতের তরফে বলা হয়, এ বিষয়ে ইসরায়েলের সব অসুবিধার সমাধানে ভারত রাজি, যাতে ভারতে ইসরায়েলের ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ মসৃণ হয়৷ বৈঠক শেষে উভয় প্রধানমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে দেন৷ তাতে সন্ত্রাস দমনে যে-কোনো পদক্ষেপ নেবার ওপর জোর দেওয়া হয়৷ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি একজন বিপ্লবী নেতা, যিনি ভারতে বিকাশের এক বিপ্লব ঘটিয়েছেন৷ 

জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানি করার প্রশ্নে জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিপক্ষে ভারতের ভোট দেবার প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, জেরুসালেম নিয়ে একটা ভোটে দু'দেশের সম্পর্ক বদলে যাবে না৷ এর বাইরে অনেক সহযোগিতার সুযোগ আছে৷ উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংক্রান্ত চিরাচরিত নীতি-অবস্থানে ভারত অবিচল থাকে৷ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে বলা হয়, ভারত ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা অবিলম্বে আবার শুরু করা দরকার৷ দরকার আলোচনার মাধ্যমে উভয়পক্ষের গ্রহণযোগ্য একটা সমাধান৷ প্রতিনিধি পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে জেরুসালেম ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়৷ তেল আবিব জানে, মোদী খুব শিগগিরই পশ্চিম এশিয়া সফরে যাচ্ছেন এবং ফিলিস্তিনের রামাল্লাতেও যাবেন৷ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটা ভারসাম্য নীতি বজায় রেখে চলেছে দিল্লি৷ 

মঙ্গলবার সকালে নতুনদিল্লি এসে পৌঁছেন ২০০৮ সালের ২৬শে নভেম্বরের মুম্বাই সন্ত্রাসের প্রত্যক্ষদর্শী মোশে হলসবার্গ৷ সেই অভিশপ্ত দিনে হলসবার্গের বয়স ছিল মাত্র দু'বছর৷ ছিল মা-বাবার কোলে৷ মুম্বাইয়ের নরিম্যান হাউসে৷ সন্ত্রাসী হামলায় মা-বাবা মারা যায়৷ নানী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চাটিকে কোনোমতে বাঁচায়৷ আজ সে ১১ বছরের কিশোর৷ প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ইসরায়েল সফরে হলসবার্গকে ভারতে আসতে বলেছিলেন৷ মুম্বাইয়ের নরিম্যান হাউসে আগামী বৃহস্পতিবার ঐ কিশোর ২৬-১১-র সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের একটি স্মৃতি ফলকের আবরণ উন্মোচন করবে৷ ২৬-১১-র কথা উঠতেই কিশোরের মনে পড়ে, ঐ বিল্ডিংয়েই তাঁর মা-বাবা তাঁকে শেষ চুম্বনটি দিয়েছিল৷ 

নতুনদিল্লিতে পৌঁছে নেতানিয়াহু তিন মূর্তি মার্গের স্মারক বেদীতে সস্ত্রীক শ্রদ্ধা নিবেদন করেন৷ এই রাস্তার নতুন নামকরণ হয় ‘তিন মূর্তি হাইফা মার্গ'৷ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইসরায়েলের হাইফা শহরটিকে মুক্ত করতে লড়াই করেছিল ভারতীয় সেনারা৷ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসেছেন শ' খানেক ইসরায়েলি কোম্পানির ১৩০ সদস্যের এক বাণিজ্য প্রতিনিধিদল৷ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আগ্রার তাজমহল দেখে যাবেন মুম্বাই এবং মোদীর রাজ্য গুজরাটে৷

অডিও শুনুন 02:28
এখন লাইভ
02:28 মিনিট

‘ভারত-ইসরায়েল বন্ধুত্ব বাস্তববাদী চিন্তার ফসল’

ভারত ও ইসরায়েলের এই গলাগলির কি বিশেষ কোনো তাৎপর্য আছে? উত্তরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানি প্রতীপ চট্টোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বললেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ট সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে ভারতের সৌহার্দের প্রতিফলন৷ দ্বিতীয়ত,  ভারত একটা শক্তিধর রাষ্ট্র হয়ে ওঠার দিকে ক্রমশ এগোচ্ছে, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ভারত এককালে যেসব সামরিক সহায়তা পেতো, এখন সেটা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মতো দেশ থেকে পেতে চাইছে দিল্লি৷ ফলে এটাকে ভারতের পররাষ্ট্র নীতির দিক থেকে এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা যেতে পারে৷ তবে এরদিকে হয়ত ভারতের নেহেরুপন্থি এবং বামপন্থি দলগুলি ভারত তার পররাষ্ট্র নীতির স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলছে এবং সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে বলে আঙ্গুল তুলতে পারে৷ কিন্তু মনে রাখতে হবে, তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখতে গেলে ভারত-ইসরায়েল বন্ধুত্ব বাস্তববাদী চিন্তার ফসল এবং সেটা হবারই কথা, ডয়চে ভেলেকে বললেন অধ্যাপক প্রতীপ চট্টোপাধ্যায়৷

ইসরায়েলের ফিলিস্তিন নীতির বিরুদ্ধে ভারতের বামপন্থি দলগুলি ইন্ডিয়া গেটের কাছে প্রতিবাদ জানায়৷ সিপিআই নেতা ডি. রাজা বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল করে রাখার ইসরায়েলি নীতির বিরোধী৷ তাঁরা জাতিসংঘের প্রস্তাবিত দুই রাষ্ট্র গঠনের সমর্থক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন