ভারতে ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি | বিশ্ব | DW | 08.01.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি

ভারতের নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, মধ্য-এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলেছে ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রক্রিয়া৷ আগামী মাস থেকে শুরু হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের শলাপরামর্শ৷

ভারতের মতো জনবহুল একটি গণতান্ত্রিক দেশে সাধারণ নির্বাচনের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এক এলাহি ব্যাপার৷ দেশে বর্তমানে ভোটদাতার সংখ্যা ৭৮ কোটির বেশি৷ তার জন্য দরকার আট লাখ বুথ এবং ১৫ লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন৷ নির্বাচিত করবেন সংসদের নিম্নকক্ষ ষোড়শ লোকসভার ৫৪৩ জন সাংসদ৷ সংসদের বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৪ সালের ৩০শে মে৷ পয়লা জুন থেকে শুরু হবে নতুন সংসদের অধিবেশন৷ সেজন্য প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে মধ্য এপ্রিল এবং শেষদফার ভোট তথা গোটা ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ করতে হবে মে মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে৷ এই নির্বাচনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে দশ হাজার কোটি টাকার বেশি৷

Indien Wahlkampf Narendra Modi

নরেন্দ্র মোদী

নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্বে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে ব্যাপক শলাপরামর্শ শুরু হবে আগামী মাস থেকে – এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ভি.এস সম্পথ৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়া খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে রেলওয়ে ও অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে৷ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর দরকার হবে, তার ব্যবস্থা করবে স্বরাষ্ট্র দপ্তর৷ আধা-সামরিক বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা হলে তারপর স্থির হবে ভোটপর্ব পাঁচ দফায় নাকি ছয় দফায় হবে৷ যেসব রাজ্যে একাধিক পর্যায়ে ভোট নেয়া হবে তার মধ্যে আছে উত্তর প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গ৷

Indiens Premierminister Manmohan Singh am 3.1.2014

মোদী প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের পক্ষে বিপদ: মনমোহন সিং

ঐসব রাজ্যে তিন অথবা চার দফায় ভোট হোতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে আভাস দেয়া হয়েছে৷ প্রথম দফার ভোটগ্রহণের চার সপ্তাহ আগে নির্বচনি বিজ্ঞপ্তি জারি করার সঙ্গে সঙ্গে বলবৎ হবে নির্বাচনি বিধি৷ সরকার জনকল্যাণমূলক নতুন কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারবে না৷

নিবাচনি নির্ঘণ্ট চূড়ান্ত করার আগে নির্বাচন কমিশনকে খতিয়ে দেখতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আন্তঃরাজ্য চলাচল, ভোটের সাজসরঞ্জাম এবং উপকরণ, পরিবহন, স্কুল-কলেজের পরীক্ষাসূচি এবং বলাবাহুল্য ভোটার তালিকা সংশোধন৷ ২০১৪ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কয়েক কোটি নতুন ভোটার যাঁরা সদ্য ভোটাধিকার পেয়েছেন, তাঁদের নাম তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা৷ ভোটার তালিকা ‘আপ-টু-ডেট' করতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে৷

রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত রাজ্য মিলিয়ে মোট ৩৫টি রাজ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জাতীয় ও আঞ্চলিক দল মিলিয়ে ১৪টি দল৷ উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ুর ডিএমকে দল কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যাবে না জানিয়েছে৷ নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ করে বিজেপি সংসদায় নির্বচনে কোমর বেঁধেছে৷ তেমনি রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখে কংগ্রেস নেমেছে নির্বাচনি প্রচারে৷ কে হবেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? মোদী নাকি রাহুল? যাঁরা মোদী বিরোধী তাঁরা আতঙ্কিত৷ ভাবছেন, মোদী এলে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ঘটবে৷ অথচ মোদীর বিকল্প হিসেবে রাহুলের ওপর অনেকেই ভরসা রাখতে পারছেন না৷ কারণ সরকার পরিচালনায় মোদী দক্ষ, রাজনীতিতে সিদ্ধ৷ অন্যদিকে রাহুল সরকার চালাননি, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা শূন্য৷ নতুন রাজনৈতিক দল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অঘটন পটিয়সী আম আদমি পার্টি সংসদের অন্তত ১০০টি আসনে প্রার্থী বলে বলে শোনা যাচ্ছে৷

সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে হবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িষা ও সিকিম বিধানসভার ভোট৷ নির্বাচন কমিশন অপেক্ষা করছে সরকার কবে সংসদের শেষ অধিবেশন ডাকে স্বল্পকালনীন ব্যয় বরাদ্দ, অর্থাৎ ‘ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট' পাশ করাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন