ভারতে সি কিউকাম্বার সংরক্ষণের অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 14.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ভারতে সি কিউকাম্বার সংরক্ষণের অভিনব উদ্যোগ

দেখতে শসার মতো হলেও সি কিউকাম্বার এক সামুদ্রিক প্রাণী৷ সমুদ্রের ইকোসিস্টেম রক্ষায় এর অবদান কম নয়৷ বিপুল চাহিদার কারণে হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে বাঘ ও হাতির পর্যায়ে সুরক্ষা পাচ্ছে সি কিউকাম্বার৷

শুধু ভারতের প্রায় দক্ষিণতম প্রান্তে মণ্ডপম নামের স্থানীয় জেলেদের গ্রাম নয়, দেশের বাকি অংশ এবং প্রতিবেশী দেশ চীনেও অদ্ভুত এক জীবের পরিচিতি বাড়ছে৷

সি কিউকাম্বার নামের এই জীব ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে৷ সংরক্ষণবাদীরা এই সামুদ্রিক প্রাণী সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করছেন৷ ভারতীয় বন্যপ্রাণী ইনস্টিটিউটের গবেষক রুক্মিণী শেখর এই প্রাণীর গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, ‘‘সি কিউকাম্বারকে সমুদ্রে কেঁচো বলা হয়৷ ঠিক যেভাবে কেঁচো চাষির বন্ধু হিসেবে পরিচিত৷ সি কিউকাম্বার সমুদ্রে সেই ভূমিকা পালন করে, অর্থাৎ সেখানকার মাটি আরও উর্বর করে তোলে৷ সেটা সমুদ্রের নীচের মাটিতে সামুদ্রিক ঘাসের মতো জীবের জন্য উপকারী৷ এমনকি উপরে পানির স্তম্ভেরও ভালো হয়৷''

গত চার বছর ধরে বন বিভাগের স্থানীয় রেঞ্জ অফিসার এস সতীশ সি কিউকাম্বার সংরক্ষণের ব্রত নিয়েছেন৷ ইকোলজির ক্ষেত্রে এই প্রাণীর গুরুত্বের জন্যই তিনি এমনটা করছেন৷ সতীশ বলেন, ‘‘সি কিউকাম্বারের মল অ্যালকালাইন বা ক্ষারীয় প্রকৃতির৷ ফলে সেটি সমুদ্রের নীচের মাটির বেড়ে চলা অ্যাসিডিটি কমিয়ে দেয়৷

ভিডিও দেখুন 05:02

ভারতে সি কিউকাম্বার সংরক্ষণ

সেই প্রক্রিয়ার ফলে নীচের প্রবাল প্রাচীরও ব্লিচিংয়ের প্রভাব থেকে বেঁচে যায়৷ কোরাল রিফ সুস্থ থাকলে আশেপাশের মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়াও ভালো থাকে৷ অর্থাৎ সমুদ্রে সি কিউকাম্বার সমৃদ্ধ থাকলে তবেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাছের জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব৷''

চাহিদা বাড়ার পর থেকেই সি কিউকাম্বার হুমকির মুখে পড়েছে৷ বিশেষ করে চীনে এর বিপুল চাহিদা রয়েছে৷ শুকনো সি কিউকাম্বার অত্যন্ত জনপ্রিয় পদ, সেটিকে অ্যাফ্রোডিজিয়াক বা কামোদ্দীপক হিসেবেও গণ্য করা হয়৷ ফলে গত পাঁচ বছরে ভারতে এই প্রাণীর চোরাশিকার ১৩ গুণ বেড়ে গেছে৷ এস সতীশ এ বিষয়ে বলেন, ‘‘অনেক তরুণ এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল৷ বড় চোরাচালানকারীরা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল৷ তাদের বলা হচ্ছিল, বড়জোর পাঁচ-দশদিন জেলে থাকতে হবে৷ তারপর ছাড়া পেলে কেস তুলে নেওয়া হবে৷ কিন্তু বন বিভাগের সচেতনতা অভিযানের মাধ্যমে আমরা আবার স্পষ্ট করে বলেছি যে, এই কাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ শাস্তির মাত্রা বাঘ বা হাতির চোরাশিকারের মতো হতে পারে৷''

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় সি কিউকাম্বার তফসিল ১ তালিকার অন্তর্গত পড়ে৷ অর্থাৎ এমন অপরাধের শাস্তি হিসেবে দুই লাখ ভারতীয় টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং জেলও হতে পারে৷ বনবিভাগের কর্মকর্তারা চোরাচালান রুখতে নিয়মিত টহল দেন এবং গ্রামের মানুষকে এমন অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে সচেতন করেন৷

ধরা পড়ার পর কয়েকজন প্রাক্তন চোরাশিকারীর যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমনই এক ব্যক্তি নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘একবার পোচিং করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলাম৷ আমাকে বলা হয়েছিল, তিন থেকে সাত বছর জেল হবে৷ সমাজের বয়স্ক মানুষরা তখন স্থির করলেন, বেআইনি কাজ করা ভুল৷ তাই আমরা শুধু মাছ ও কাঁকড়া ধরার সিদ্ধান্ত নিলাম৷ জালে সি কিউকাম্বার ধরা পড়লেও আমরা আবার পানিতে ছেড়ে দেই৷''

কিন্তু জেলেদের এই সম্প্রদায়ের পক্ষে বিষয়টা মেনে নেওয়া সহজ হয়নি৷ কারণ তারা বহু যুগ ধরে নিজস্ব চাহিদা মেটাতে সি কিউকাম্বার ধরতেন৷ ২০০১ সালে নিষেধাজ্ঞার ফলে তাঁদের জীবিকার উপর প্রভাব পড়েছে৷ জেলে ও গ্রামের মোড়ল হিসেবে কে মুরুগেসন মনে করেন, ‘‘বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে সি কিউকাম্বার ধরার অনুমতি থাকলেও জেলেরা বেঁচে যেত৷ দক্ষিণে থোটুকুড়ি থেকে শুরু করে উত্তরে রামেশ্বরম পর্যন্ত ডুবুরিদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে৷ মাঝেমধ্যে তারা চারটি করে সি কিউকাম্বার ধরার সুযোগ দিলে দু'শো টাকা দরে সেগুলি বিক্রি করতে পারতো৷ তখন প্রয়োজনীয় খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল৷''

সি কিউকাম্বারকে কেন্দ্র করে জটিল এক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে৷ সতীশের মতো ফরেস্ট অফিসাররা চোরাশিকারীদের উপর নজর রেখে এই প্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে উপকূলবর্তী সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের পক্ষে টিকে থাকা সহজ হবে৷ তখন স্থানীয় মৎসজীবীরা আবার নিজেদের জীবিকা ফিরে পাবেন৷

কাটেরিন গিলোন/এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়