ভারতে শিশু যৌন নিপীড়নের বর্তমান অবস্থা | বিশ্ব | DW | 30.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

ভারতে শিশু যৌন নিপীড়নের বর্তমান অবস্থা

বিশ্বের ১৯ শতাংশ শিশুর বাস ভারতবর্ষে৷ যে দেশগুলোতে শিশুরা সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তার মধ্যে ভারত অন্যতম৷ কীভাবে এর মোকাবিলা সম্ভব?

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারত উত্তাল হয়েছিল আট বছরের শিশু আসিফার ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে৷ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ, সমাবেশ হয়েছিল৷

কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এর বেশ কিছু বছর আগে থেকেই ভারতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা, যার কারণ হতে পারে ২০১২ সালের নতুন আইন৷

২০১২ সালের আগে যৌন নির্যাতনের শিকার হিসাবে শিশুদের জন্য কোনো বিশেষ আইন ছিল না৷ শুধু তাই নয়, যৌন নির্যাতনের বেশ কিছু ধরন, যা শিশু নির্যাতনের সমান, তার কোনো অন্তর্ভুক্তি তৎকালীন আইনে না থাকায় এ বিষয়ে পুলিশের তৎপরতাও ছিল কম৷

২০১২ সালের নভেম্বরে শিশু নির্যাতন আইন প্রণয়ন করা হলে দেখা যায় যে, শিশু ধর্ষণের প্রতিবেদনের সংখ্যা তার পরের বছরে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে৷ লিঙ্গ-নিরপেক্ষ এই নতুন আইনের আওতায় শিশু নির্যাতন ছাড়াও অন্যান্য ধরনের নির্যাতনও রয়েছে৷

বর্তমানে, ভারতে শিশু যৌন নির্যাতন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার ঘটনা রিপোর্ট না করাও অপরাধতুল্য৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশু যৌন নির্যাতনের হার বর্তমানে যা অনুমান করা হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি৷

২০০৭ সালে ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয় একটি জরিপ করেছিল, যেখানে ভারতের ১৩টি রাজ্যের সতেরো হাজারেরও বেশি শিশুর প্রতিক্রিয়া রেকর্ড করা হয়৷

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি (৫৩ দশমিক ২ শতাংশ) জানায়, তারা এক বা একাধিকবার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে৷

এশিয়ায় সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের ২০১৩ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ভারতে ৪৮,০০০ শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে৷ একই সময়ের মধ্যে আগের চেয়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পায় শিশু ধর্ষণ৷

তবুও ভারতে শিশু নির্যাতনের বিষয়ে রয়েছে সামাজিক অস্বস্তি বা ‘ট্যাবু'৷ সাধারণ স্কুলে পড়া শিশুদের পাশাপাশি পথশিশু, বিশেষ প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মানো শিশু ও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু শ্রমিকেরা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে৷

নতুন আইন অনুসারে, শিশু যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিচার কাজ এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা উচিত৷ কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটে না৷

বিশেষ করে যেখানে অপরাধী হয় পরিবারের সদস্য বা শিশুর পরিচিত কোনো ব্যক্তি, অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ সে ক্ষেত্রে অনেক বেশি থাকে৷ পরিবারের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে এমন অনেক অভিযোগ রয়ে যায় অলিখিত৷

যৌন শিক্ষার সাথে কলঙ্ক জড়িত থাকায় বাবা-মায়েরাও এ সম্পর্কে বাড়িতে কথা বলতে লজ্জা পান৷ পশ্চিমা দুনিয়ায় এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা হলেও ভারতের মতো দেশগুলোতে শিশুদের সাথে স্বাভাবিক যৌনক্রিয়া নিয়ে অভিভাবকেরা খোলাখুলিভাবে কথা বলেন না৷

Shabnam Surita Dana

শবনম সুরিতা, ডয়চে ভেলে

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই বাধা কাটিয়ে উঠতে বাবা-মায়ের সাথে শিশুর সম্পর্ক হতে হবে বন্ধুর মতো, যাতে তারা নিজেদের সুরক্ষিত করতে শেখে৷ তাদের বোঝাতে হবে ‘খারাপ স্পর্শ' ও ‘খারাপ দৃষ্টি'-র সংজ্ঞা৷

সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি শিশু যৌন নির্যাতন, নিপীড়ন এবং ধর্ষণের জন্য ‘কঠোর শাস্তি' চেয়েছে৷ এতদিন শিশু ধর্ষণের আওতায় শুধু মেয়েরা থাকলেও ‘শিশু' শব্দটি পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে তাতে ছেলেদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷

কিন্তু কেবলমাত্র আইন দিয়ে ঠেকানো যাবে না শিশুদের যৌন হয়রানি, যা ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে জ্বলন্ত সমস্যাগুলির অন্যতম৷

সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান – সর্বত্র ঘটতে থাকা শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হতে পারে সচেতনতা বৃদ্ধি৷ অপরাধী যেহেতু যে কেউ হতে পারে, সুতরাং প্রস্তুতিও হতে হবে সার্বিক ও সার্বক্ষণিক৷

বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রণালী নির্ধারণ করা দরকার, যা শিক্ষকেরা স্কুলে শিশুদের এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ব্যবহার করতে পারেন৷ পাশাপাশি দরকার রাষ্ট্রের আইন বাস্তবায়ন ও সঠিক প্রচার৷ এই উদ্যোগের জন্য নাগরিক সমাজের সমর্থন ও ন্যায়বিচার, শিক্ষা, শিশু কল্যাণ বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলিতে দৃঢ় কণ্ঠ প্রয়োজন৷

তবেই কমবে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন