​ভারতে রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট শিবিরে থাকতে হবে | বিশ্ব | DW | 05.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

​ভারতে রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট শিবিরে থাকতে হবে

অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বায়ো-মেট্রিক তথ্যসহ ব্যক্তিগত যাবতীয় বিবরণ নথিভুক্ত করতে রাজ্য সরকারগুলিকে  নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ তাঁদের নির্ধারিত শিবিরে রাখা এবং পরিচয়পত্র না দেওয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে৷

মোদী সরকার জম্মু-কাশ্মীরসহ বিভিন্ন রাজ্যকে এই মর্মে নির্দেশ পাঠিয়েছে যে,অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের রাখতে হবে রাজ্যগুলির এক্তিয়ারভুক্ত পূর্ব নির্ধারিত শিবিরে৷ সেইসঙ্গে নথিভুক্ত করতে হবে বায়ো-মেট্রিকসহ তাঁদের অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যবিবরণ৷ তবে তাঁদের আধার নম্বর কিংবা অন্য কোনো পরিচয়পত্র ইস্যু করা যাবে না৷ অদূর ভবিষ্যতে যদি তাঁদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হয়, তাহলে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে৷ এ কারণেই এসব নির্দেশ বলে সরকারি সূত্রে বলা হয়৷ এর প্রধান উদ্দেশ্য, নির্ধারিত শিবিরের বাইরে রোহিঙ্গারা যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে৷ রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক জঙ্গিবাদী মিশে রয়েছে এবং তারা নানা রকম অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে৷ ভারতের নিরাপত্তার দিক থেকেও তা আশংকার কারণ৷ গত শনিবার জারি করা কেন্দ্রের এই নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, এদের সঙ্গে বিদেশি কিছু জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগাসাজশ রয়েছে, যারা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছে এবং মিথ্যা তথ্যাদি দিয়ে ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড সংগ্রহ করেছে৷ অবৈধ অর্থ পাচার এবং অন্যান্য দেশবিরোধি কার্যকলাপে জড়িত আছে বলেও সরকারের কাছে খবর আছে৷ রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আবার জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকেছে৷

অডিও শুনুন 02:52
এখন লাইভ
02:52 মিনিট

‘বাংলাদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি নেই, যেটা এখন ভারতে আছে’

ভারতেররোহিঙ্গা শরণার্থীনীতি সম্পর্কে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা সংস্থার জেনারেল সেক্রেটারি ধীরাজ সেনগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বললেন, ভারত সরকার কি জানে না অন্য দেশের শরণার্থীরাও তো ভারতে আছে৷ বৌদ্ধ শরণার্থীদের ক্ষেত্রে তো তা মানা হচ্ছে না? অন্য দেশের শরণার্থীদের জন্য কাজ করেনি, এমন তো নয়৷ জাতিসংঘের গাইডলাইন নেই, এমন তো নয়৷ সেই মতোই কাজ করা উচিত৷ জঙ্গিদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নাম জড়ালে তাড়াতে সুবিধা হবে৷ কেউ আপত্তি করবে না৷ আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে ভারত বার্তা দিতে চাইছে যে, ভারত মিয়ানমারের পাশে আছে৷ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হলো, বাংলাদেশের একটা বড় এলাকা রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে৷ বাংলাদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি নেই, যেটা এখন ভারতে আছে৷ ধর্ম ছাড়া বিচারের মানদণ্ড নেই৷ মুসলিম হলেই সে ইসলামিক আর ইসলামিক হলেই জঙ্গিবাদের তকমা দিতে সুবিধা৷ জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসবাদের কোর্স চালু করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক৷ এটা অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ফল৷

গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা সংস্থার ধীরাজ সেনগুপ্তের মতে, উদ্বাস্তুদের পাকাপাকিভাবে থাকার কথা নয়৷ রোহিঙ্গারাও নিজের দেশে ফিরে যেতে চায়৷ ফিরে যাবার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশই বাড়ছে৷ ভারতেরও উচিত তাতে শামিল হওয়া৷ বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অভ্যন্তরীন সংঘর্ষ বাড়ছে৷ ফলে শরণার্থীদের সংখ্যাও বাড়ছে৷ জাতিসংঘ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না৷ কিছু দেশকেও দায়িত্ব নিতে হবে, ডয়চে ভেলেকে এমনটাই বললেন ধীরাজ সেনগুপ্ত৷

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে৷ এদের মধ্যে ৭০৯৬ জন আছে জম্মু-কাশ্মীরে, ৩০৫৯ জন আছে হায়দ্রাবাদে, ১১১৪ জন আছে হরিয়ানায়, ১২০০ আছে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে, ১০৬১ জন দিল্লিতে এবং ৪০০ জন রাজস্থানে৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর আছে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্তে দালাল চক্র সক্রিয়৷ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করার পর এই দালাল চক্র তাঁদের ভারতীয় ভুয়া পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করে দেয়৷ শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের কিছু এনজিও রোহিঙ্গা শিবিরে থাকার সুবিধা করে দেয়৷ গোয়েন্দা সূত্র থেকে আরো বলা হয়, কিছু কিছু রোহিঙ্গা যারা সবে অনুপ্রবেশ করেছে, তাঁরা দক্ষিণী রাজ্য কেরালা, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুতে ঢুকছে৷ তাঁদের গন্তব্যস্থল থেকে আন্দামান-নিকোবার দ্বীপপুঞ্জ এবং জম্মু পর্যন্ত ছড়িয়েছে৷ প্রশ্ন উঠেছে, রোহিঙ্গারা মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও কাশ্মীর উপত্যকায় না গিয়ে জম্মুতে কেন?

২০১৭ সালে কেন্দ্রের এই সতর্কবার্তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তা পৌঁছোয় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত৷ সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, এ বিষয়ে এক মানবিক অবস্থান নেওয়া দরকার৷ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে গণঅসন্তোষকালে রোহিঙ্গাদের হাতে বহু হিন্দু গ্রামবাসী নিহত হয়৷ সেই সঙ্গে পুলিশ চৌকিতেও হামলা চালায় রোহিঙ্গা জঙ্গি বাহিনী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)৷ তখন পালটা সেনা অভিযানে ঘরছাড়া হয় রোহিঙ্গারা৷ প্রায় সাত লাখরোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয়নেয় বাংলাদেশে৷ বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে জাতিসংঘ এটাকে অভিহিত করেছে ‘জাতিগত শুদ্ধিকরণ' বলে৷ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নতুন তদন্তে দেখা গেছে, ১০০ সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারকে হত্যা করা হয়৷ তাদের বেশির ভাগ শিশু৷ এইসব হিন্দু পরিবারকে অতীতে ব্রিটিশরা এনেছিল সস্তা মজুর হিসেবে৷ ইসলামিক দেশগুলিও এটাকে বলেছে ‘জাতিগত শুদ্ধিকরণ'৷ রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশে সৃষ্টি করেছে এক নতুন সংকট৷ প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীকে মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে৷ স্থায়ীভাবে এদের রাখা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়৷ নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এরসঙ্গে৷ মিয়ানমারে তাঁদের কিভাবে ফেরত পাঠানো যায়, সে বিষয়ে ঢাকা একাধিক বৈঠকে দিল্লির সহযোগিতা চেয়েছে৷ ভারত তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে৷ গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত ‘অপারেশন ইনসানিয়াত' অভিযানে তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য খাদ্য সামগ্রী, ওষুধপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী পাঠিয়েছে৷ পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন প্রদেশে আবাসন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নী প্রকল্প নির্মাণ হাতে নিয়েছে.  রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবার জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়