ভারতে মাওবাদীদের হাতে এখনও পণবন্দি ওড়িষার জেলা কালেক্টর | বিশ্ব | DW | 18.02.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে মাওবাদীদের হাতে এখনও পণবন্দি ওড়িষার জেলা কালেক্টর

মাওবাদীদের হাতে পণবন্দি মালকানগিরির জেলা কালেক্টর ও একজন ইঞ্জিনীয়ারের মুক্তির এখনও কোন কিনারা হয়নি৷ যদিও মাওবাদীদের প্রধান শর্ত মেনে ওড়িষা সরকার রাজ্যে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান বন্ধ রেখেছে৷

default

ফাইল ফটো

ওড়িষার উপজাতি প্রধান মালকানগিরির জেলা কালেক্টর আর.ভি কৃষ্ণা ও ইঞ্জিনিয়ার পবিত্র মাঝি এখনও মাওবাদীদের হাতে পণবন্দি৷কীভাবে তাঁদের মুক্ত করা যায়, তা নিয়ে ভুবনেশ্বরে চলেছে পুলিশ প্রশাসনের জরুরি বৈঠক৷ সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক চিঠিতে ওড়িষা-অন্ধ্রপ্রদেশ সীমান্তের আঞ্চলিক মাওবাদী কমিটি জানিয়েছে মালকানগিরির কালেক্টর গতবছর তাদের সভা করতে না দেয়ার জন্য তাঁকে অপহরণ করা হয়৷ কালেক্টরের মুক্তির জন্য পাঁচটি শর্ত দেয়া হয়৷ এক, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সব রকম অভিযান বন্ধ রাখা৷ দুই, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধৃত মাওবাদীদের মুক্তি৷ তিন,নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তাদের ক্যাডারদের মৃত্যুর বিচারবিভাগীয় তদন্ত৷ চার, উপজাতি এলাকায় খনিজ সম্পদ আহরণে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে সরকারের চুক্তি রদ৷ পাঁচ, নিহত মাওবাদী পরিবারদের ক্ষতিপূরণ৷ প্রথম শর্তটি মেনে ওড়িষা সরকার ইতিমধ্যেই মাওবাদীদের বিরুদ্দে অভিযান বন্ধ রেখেছে৷

ভারতের সাতটি রাজ্য মাওবাদী কবলিত৷ অভিযোগ, সশস্ত্রবিপ্লবের নামে এরা নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিচারে৷ শুধু গত বছরেই মাওবাদীদের হাতে নিহত হয় ১১৮০ জন৷ প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারংবার বলে আসছেন, মাওবাদী সহিংসতা দেশের নিরাপত্তার সব থেকে বড় হুমকি৷ যেহেতু বলা হচ্ছে, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনজাতিদের উন্নয়নের প্রতি সরকারের উদাসীনতা মাওবাদী সংগঠনের জন্ম দিয়েছে, তাই সরকার মাওবাদীদের কড়া হাতে দমন করার পাশাপাশি উপজাতিদের বিকাশের দ্বিমুখী অভিযান চালিয়েছে৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের শিলদা, জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা, ছত্তিশগড়ে দান্তেওয়াড়া ও নারায়ণপুরে মাওবাদী হামলা সরকারকে নাড়িয়ে দেয়৷

কেন মাওবাদীদের কাবু করা যাচ্ছেনা ? নানা মহল থেকে প্রশ্নটা উঠেছে৷ গরিব ও প্রন্তিক মানুষরা মাওবাদীদের শিকার হওয়া সত্ত্বেও একটা বড় অংশ এখনো এদের মদৎ দিয়ে যাচ্ছে৷এটাই কী কারণ ? রাষ্ট্র-শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালাবার জন্য টাকাপয়সা ও অন্যান্য রসদ পাচ্ছে তারা কোথা থেকে ? এক নির্ভরযোগ্য হিসেবে বলা হয় মাওবাদীদের বার্ষিক আয় ১৫০০ থেকে ১৬০০ কোটি টাকা৷ এই অর্থ এরা জোর করে আদায় করে বেসরকারি সংস্থা, কোম্পানি, কলকারখানা এবং সর্বোপরি সরকারের উন্নয়ন তহবিল থেকে৷ টাকা আদায় করে ওড়িষা, ঝাড়খন্ডে অবৈধ খনিজ সম্পদের কারবারিদের কাছথেকে৷ টাকা তোলে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার পাথর খাদান ও কয়লা পাচারকারীদের কাছ থেকে৷ শুধু জঙ্গলমহলে বছরে মাওবাদীরা খরচ করে কমপক্ষে এক কোটি টাকা৷ মাথাপিছু ক্যাডারদের বেতন মাসে দু থেকে তিন হাজার টাকা৷গুলিবারুদ ও অন্যান্য উপকরণ বাবদ ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা তারা ব্যয় করে বলে মনে করেন ওয়াকিবহাল মহল৷

প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুনদিল্লি

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন