ভারতে বিপ্রতীপ রায় – যাদব দোষী, রাজা-কানিমাড়ি নির্দোষ | বিশ্ব | DW | 27.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ভারতে বিপ্রতীপ রায় – যাদব দোষী, রাজা-কানিমাড়ি নির্দোষ

পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে গেলেন আরজেডি ‘সুপ্রিমো' লালু প্রসাদ যাদব৷ অন্যদিকে টু-জি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি মামলায় ছাড়া পেয়ে গেলেন তৎকালীন টেলিকম মন্ত্রী এ. রাজা ও ডিএমকে সাংসদ কানিমোড়ি৷

পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি তদন্তের থাবা কুড়ি বছর ধরে তাড়া করে চলেছে অবিভক্ত বিহারের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলেরর প্রধান লালু প্রসাদ যাদবকে৷ তদন্ত শুরু হতেই লালু প্রসাদকে ইস্তফা দিতে হয় ১৯৯৭ সালে৷ পশুখাদ্য এবং গবাদি পশুর ওষুধ-পত্র কেনার ভুয়ো বিল দেখিয়ে দেওঘর ট্রেজারি থেকে ৮৫ কোটি টাকা তছরুপ করার মামলায় লালুপ্রসাদ যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) রাঁচির বিশেষ আদালত৷ সঙ্গে সঙ্গে তাকে জেলেও পাঠানো হয়৷ তবে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ কত দিনের হবে তা জানা যাবে আগামী ৩রা জানুয়ারি৷ ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে দেওঘর, চাঁইবাসার মতো বিভিন্ন ট্রেজারি থেকে টাকা লোপাটের অভিযোগে একাধিক মামলা ঝুলছে লালু প্রসাদসহ অন্যান্য মন্ত্রী আমলার বিরুদ্ধে৷ দেওঘর ট্রেজারি থেকে এই টাকা তছরুপ করার অভিযোগে দায়ের করা ঐ মামলায় মোট অভিযুক্ত ৩৪ জন৷ এদের মধ্যে ছিলেন বিহারের আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্র৷ তিনি অবশ্য বেকসুর খালাস পেয়ে যান৷ মুক্তি পান আরও পাঁচজন অভিযুক্ত৷

এর আগে ২০১৩ সালে চাঁইবাসা ট্রেজারি থেকে টাকা নয়ছয় করার অভিযোগে লালু প্রসাদকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিশেষ সিবিআই আদালত৷ দণ্ডিত আসামি বলে তিনি আগামী পাঁচ বছর কোনো নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না৷ চাঁইবাসা ট্রেজারি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর, রাঁচি হাইকোর্ট লালু যাদবের বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা পশুখাদ্য সংক্রান্ত একই ধরনের অন্য মামলাগুলি রদ করার নির্দেশ দেয়৷ এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে যায়৷ এ বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট লালু প্রসাদের জামিন মঞ্জুর করলেও রাঁচি হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ করে রায় দেয় যে, পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির অন্যসব মামলার বিচার হবে পৃথকভাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই রায়কে ঘিরে বিহার তথা গোটা দেশে শুরু হয় লালুর রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে জল্পনা৷ কংগ্রেস পার্টি বলেছে, তারা লালু এবং তার আরজেডি দলের পাশেই থাকবে৷ বিজেপি একে কটাক্ষ করেছে দুর্নীতিগ্রস্তদের জোট বলে৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি নাড্ডা মন্তব্য করেছেন, কংগ্রেস আর আরজেডি আঁতাত করে দেশের মানুষের সঙ্গে যে প্রতারণা করছে, যা কিনা আদালতের রায় থেকেই স্পষ্ট৷ কংগ্রেস নেতা মণীশ তেওয়ারি মন্তব্য করেন, ফৌজদারি মামলা এবং রাজনৈতিক জোট দু'টি ভিন্ন বিষয়৷ তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, লালু প্রসাদ যতবারই জেলে গেছেন, ততবারই রাজনৈতিক পুঁজি বেড়েছে তার৷

২০১৩ সালে জেল থেকে জামিন পাবার পর, ২০১৫ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে লালুর দল একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়৷ তৈরি হয় আরজেডি, সংযুক্ত জনতা দল (জেডি ইউ) এবং কংগ্রেস মিলে মহাজোট৷ বিহারে গঠিত হয় সেই মহাজোটের সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী হন সংযুক্ত জনতা দলের নীতীশ কুমার, যদিও সেই মহাজোট বেশিদিন টেকেনি৷ লালু যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সিবিআই তদন্ত শুরু করলে সরকারে ভাঙন দেখা দেয়৷ মন্ত্রিসভায় লালু যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী৷ দুর্নীতির অভিযোগে তাকে পদত্যাগ করতে বলায় তিনি রাজি হন না৷ ফলত আরজেডি-র সমর্থন ঝেড়ে ফেলতে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার দ্রুত বিজেপি শিবিরের সঙ্গে হাত মেলান৷ বিজেপির সমর্থন নিয়ে বিহারে এখন জেডি ইউ-বিজেপি সরকার৷

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের অভিমত, অভিযুক্ত হলেই রাজ্য রাজনীতির ‘ক্যানভাস' থেকে লালু যাদবের মতো পোড়া খাওয়া রাজনীতিককে এত তাড়াতাড়ি মুছে ফেলা যাবে না৷ তাই আরজেডি নেতা-কর্মীদের আশা, ২০১৯ সালে সাধারণ নির্বাচনে লালুর জেলযাত্রার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাবে৷ আরজেডি-র ভোট ব্যাংক হবে চাঙ্গা৷

অন্যদিকে ২০১২ সালে মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস জোট সরকারের বিরুদ্ধে ওঠে টু-জি স্পেকট্রাম বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগ৷ বলা হয়, ঐ কেলেঙ্কারিতে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্বের ক্ষতি হয়৷ মনমোহন সিং মন্ত্রিসভার টেলিকম মন্ত্রী এ. রাজা এবং ডিএমকে দলের সাংসদ কানিমোড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ সাত বছর ধরে শুনানির পর গত ২১শে ডিসেম্বর বিশেষ আদালতে৷ রাজা ও কানিমোড়িসহ ৩৫ জনকে নির্দোষ বলে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়৷ বিচারপতি তাঁর রায়ে মন্তব্য করেন, সিবিআই তার চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু প্রমাণই করতে পারেনি৷ সব অভিযোগই মনে হয়েছে যেন অনুমান, গুজব আর জনাবেগের ভিত্তিতে আনা হয়েছে৷ উল্লেখ্য, টু-জি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি গুজরাট নির্বাচনের পর মোদী সরকারের জন্য একটা বড় ধাক্কা৷ এই সুযোগে বিজেপিকে কোণঠাসা করার মওকা হাতছাড়া করতে চাইছেন না কংগ্রেসের নতুন সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ তাঁর মন্তব্য, টু-জি স্পেকট্রাম কাণ্ডে এ. রাজা, কানিমোড়ি এবং অন্যান্যরা নির্দোষ সাব্যস্ত হওয়ায় বিজেপির মিথ্যাচারের ছবিটাই স্পষ্ট হয়েছে৷তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অবশ্য এর কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি৷ সিপিএম-এর মন্তব্য, এই রায় জবাবের চেয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেশি৷ আর দিল্লির রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন – দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ুর ডিএমকে দলের বয়োবৃদ্ধ নেতা অসুস্থ করুণানিধিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দেখতে যাওয়া কি আগামী সংসদীয় নির্বাচনে ডিএমকে-র সঙ্গে বিজেপি-র হাত মেলানোর ইঙ্গিত?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়