ভারতে বাণিজ্যিকভাবে গর্ভ ভাড়া নিষিদ্ধ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারতে বাণিজ্যিকভাবে গর্ভ ভাড়া নিষিদ্ধ

সংসদে সারোগেসি নিয়ন্ত্রণ বিল পাশ হয়েছে৷ এতে অর্থের লোভ দেখিয়ে মহিলাদের গর্ভের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে৷

তবে সন্তানহীন নিকট আত্মীয়ের জন্য বিনা লাভে সারোগেসি বৈধ৷ শর্ত হলো, নিঃসন্তান দম্পতিকে ডাক্তারি সার্টিফকেট দেখাতে হবে যে, তাঁরা সন্তানের জন্ম দিতে অক্ষম৷ যিনি ধাত্রী মা হবেন, তাঁকে হতে হবে তাঁদের নিকট আত্মীয়৷ ফলে বিদেশি দম্পতিরা ভারতে এসে গর্ভ ভাড়া নিতে পারবেন না৷

শুধুমাত্র নিঃসন্তান দম্পতির নিকট আত্মীয় সারোগেট বা ধাত্রী মা হতে পারবেন. তবে শর্ত হবে, সেই দম্পতির বিবাহ পাঁচ বছর পার হয়ে গেছে এবং ডাক্তারি সার্টিফিকেট অনুসারে ভবিষ্যতে দম্পতির সন্তান হবার সম্ভাবনা নেই৷ তবে সেই সারোগেসিতে টাকা-পয়সার লেনদেন থাকবে না৷

ভারতীয় দম্পতির আগে সন্তান থাকলেও তাঁরা সারোগেসির সুযোগ নিতে পারবেন না৷ শুধুমাত্র ভারতীয় দম্পতিরা ছাড়া বিদেশিরা গর্ভ ভাড়া নিতে পারবেন না৷ এছাড়া, সিঙ্গেল কিংবা লিভ-ইন পার্টনার অথবা সমকামিদের ক্ষেত্রেও সারোগেসি নিষিদ্ধ৷ অনাবাসিক ভারতীয়রাও এরমধ্যে পড়বেন৷ সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় জোর তর্ক-বিতর্কের পর ঐতিহাসিক সারোগেসি নিয়ন্ত্রণ বিলটি পাশ হয়৷ বিলের বিভিন্ন সংস্থান নিয়ে কিছু কিছু আপত্তি ওঠে৷

তৃণমূল কংগ্রেসের কাকলি ঘোষ দস্তিদার বিলের পরিসর আরো বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন৷ সংসদে রাখা তাঁর বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘সারোগেসির অপব্যবহার ভারতে অনেকদিন ধরেই চলছে৷ সারোগেসি কাকে বলে ? যে মহিলা নিজের গর্ভে সন্তান ধারণ করতে অক্ষম, তিনি একজন ধাত্রী মায়ের সাহায্য নিতে পারেন৷ মেডিক্যাল কারণে সেটা তো হতেই পারে৷ যেমন ধরুন, কারো ক্যান্সার হয়েছে, কারো ইউট্রাস নেই, কারো টিউমার আছে. এটা মেডিক্যাল সারোগেসির মধ্যে পড়ে৷ এটা অনুমোদিত৷ কিন্তু আসলে যা হচ্ছিল, বিদেশিরা ভারতে এসে টাকা দিয়ে গর্ভ ভাড়া নিচ্ছে৷ এটা  সবথেকে বেশি হয় গুজরাটের আনন্দ এলাকায়৷ গ্রামকে গ্রাম মহিলারা আসে এখানে গর্ভ ভাড়া দিয়ে রোজগারের ধান্দায়৷ এদের স্বামী কিংবা বাড়ির অন্য কারোই তেমন রুজি-রোজগার নেই৷ গর্ভ ভাড়ার টাকাতেই তাঁদের জীবন নির্বাহ হচ্ছে৷ কিংবা গর্ভ ভাড়া দেবার জন্য যে টাকাটা পাচ্ছে, ধরুন ৩-৪ লাখ টাকা, সেটা নিয়ে বাড়ির লোকেরা ব্যবসা শুরু করছে৷ কিন্তু সারোগেট মা তার কিছুই পাচ্ছে না৷ শুধু গর্ভ ধারণের কষ্টটা ছাড়া৷''

অডিও শুনুন 05:44

‘সারোগেসির বাণিজ্যকরণ বন্ধে অনেকদিন ধরে ভাবনা-চিন্তা চলছিল’

তিনি জানান, ‘‘এর আরো একটা দিক আছে৷ এজেন্সি বা দালাল চক্র৷ তারা বিদেশি দম্পতির কাছ থেকে মোটা টাকা, ধরুন, লাখ দশেক নিলো, কিন্তু সারোগেট মা-কে দিলো বড় জোর লাখ তিনেক টাকা৷ এটা একটা রমরমা ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ সারোগেসির এই বাণিজ্যকরণ বন্ধ করার জন্য অনেকদিন ধরেই ভাবনা-চিন্তা চলছিল৷ মেডিক্যাল সারোগেসি এবং বাণিজ্যিক সারোগেসির মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখার কথাই সংসদে আমার বক্তব্যে ছিল৷''

তৃণমূল কংগ্রেসের এই রাজনীতিবিদ আরো বলেন, ‘‘সংসদে আমার বক্তব্যে একটা নতুন অনুচ্ছেদ যুক্ত করার কথা তুলি৷ সেটা হলো ফ্যাশন সারোগেসি৷ অনেক মহিলা নিজের দেহ সৌন্দর্য ধরে রাখতে ফ্যাশান সারোগেসির আশ্রয় নিয়ে থাকেন৷ যেমন ফিল্ম স্টার, খুব সু্ন্দরী মহিলা নিজের ফিগার টিকিয়ে রাখতে এটা করে থাকেন৷ এটাকেও বন্ধ করা উচিত৷''

কাকলী ঘোষ দস্তিদার জানান, ‘‘সাংসদ হিসেবে আরো একটা বিষয় তুলে ধরি. যেমন, ধরুন, ১৯৫৬ সালে টেস্ট টিউব বেবির কোনো ধারণাই ছিল না৷ অনেক গবেষণায় মেডিক্যাল সায়েন্সের উন্নতি হয়েছে৷ সারোগেসিতে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করতে গেলে আগে তো টেস্ট টিউব বেবি তৈরি করতে হবে৷ সেজন্য টেস্ট টিউব বেবির নিয়ম-কানুন থাকা দরকার৷ সরকার সেটা করেনি৷ ফলে ঘোড়ার আগে গাড়ি জোতার মতো অবস্থা. তাই না?''

নিকট আত্মীয় কারা হবেন? এ প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‘সেটা নিজেকেই ঠিক করে নিতে হবে৷ কাদের নিকট আত্মীয়, কাদের দুর সম্পর্কের আত্মীয় বলে গণ্য করা হবে, সেটা নির্ধারনের জন্য একটি ধারা এই বিলে যুক্ত হওয়া উচিত ছিল৷ কারোর যদি নিকট আত্মীয় যেমন, মা, দিদি, বৌদি, জা, ননদ না থাকে, তাহলে সেই জায়গাটা পূরণ করবে কে? তারও সংস্থান রাখার কথা বলেছি আমি৷ পাশাপাশি আরো একটা কথাও আমি বলেছি- যিনি সারোগেট করছেন তাঁর মেডিক্যাল ব্যয় ছাড়াও তিনি যদি চাকুরিরতা হন বা অন্য কোনো পেশায় থাকেন, তাহলে সন্তানের জন্মদানের পরও যে মাস তিনেক তাঁর বিশ্রামে থাকার কথা, সেই সময়ের আর্থিক ক্ষতিপূরণের ধারাও বিলে থাকা উচিত ছিল৷ রুপান্তরকামী, ডিভোর্সি বা বিধবারাও বাচ্চা চাইতেই পারেন৷ সেটাও বিলে রাখার কথা বলেছিলাম, কিন্তু রাখা হয়নি৷ বিলে এই ধরনের আরো অনেক কিছু থাকা দরকার ছিল, কিন্তু তা হয়নি৷ আরো নিখুঁত করার সুযোগ ছিল৷ সরকার চাইলে এখনো ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে পারেন৷''

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি নাড্ডা বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দল ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই বিলকে স্বাগত জানিয়েছে৷ সারোগেসি আইন লঙ্ঘন করলে কী শাস্তি হবে, বিলে তার উল্লেখ আছে৷ মহিলাদের সুরক্ষার পাশাপাশি সারোগেট বাচ্চাদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকছে এই বিলে৷ বিলটি আইনে পরিণত হলে জাতীয় সারোগেসি বোর্ড এবং রাজ্য স্তরে রাজ্য সারোগেসি বোর্ড গঠন করা হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন