ভারতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ শিশু হারিয়ে যায় | বিশ্ব | DW | 28.10.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ শিশু হারিয়ে যায়

প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমের পাতায় বা টিভির পর্দায় থাকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বাচ্চাদের খবর৷ পরনে ফুল ফুল ফ্রক, মাথায় বিনুনি, রং ফর্সা, বয়স ৯ বছর৷ অথবা বয়স ১০, পরনে হাফ-প্যান্ট, পায়ে চটি, গায়ের রং কালো, নিখোঁজ গত জুলাই মাস থেকে...

Indien Kinderarbeit

(ফাইল ফটো)

ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই যে প্রতি বছর গড়ে ১৩ লাখের মতো ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে হারিয়ে যায়, শেষ পর্যন্ত তাদের গতি কী হয়, কোথায় যায় তারা, এর পেছনে কারা আছে? এ সব বোঝা হয়ত কঠিন নয়৷

এর পেছনে সক্রিয় আছে বিশাল এক চক্র, যার ডালপালা ছড়িয়ে আছে দেশের গ্রামে-গঞ্জে, উপজাতি বা জনজাতি অঞ্চলে৷ এদের কাজে লাগানো হয় সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যকলাপে, বেগার শ্রমিক হিসেবে, মাদক পাচার চক্রে এবং যৌন শোষণে বা সোজা কথায় দেহ ব্যবসায়৷

এর জন্য আমি দায়ী করবো দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাকে৷ দায়ী করবো লিঙ্গ-ভিত্তিক অবিচারকে৷

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, সম্প্রতি এত শিশু হারানোর বিহিত করতে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানানো হলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির কাছে জবাবদিহি করার নোটিস জারি করে শীর্ষ আদালত৷

রাজধানী দিল্লিতেই গত বছর বেমালুম নিখোঁজ হয়ে যায় ২১ হাজার বাচ্চা, এদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশের এখনো কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি৷

২০০৭ সালে দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশের নিঠারি এলাকার একটি নির্জন বাড়িতে ঘরের কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম থেকে টাকার লোভ দেখিয়ে নাবালিকা মেয়েদের পাচার করে এনে আটকে রাখা হয়৷ তারপর তাঁদের ওপর ঐ বাড়িরই এক বিকৃত কামাতুর ব্যক্তি দিনের পর দিন ঐ সব মেয়েদের ধর্ষণের পর হত্যা করে দেহটাকে টুকরো টুকরো করে কেটে বাড়ির সামনের বড় ড্রেনে ফেলে দেয়৷ শেষ পর্যন্ত সেটা জানাজানি হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে হৈচৈ শুরু করলে পুলিশ ঐ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এবং দীর্ঘদিন মামলা চলার পর ঐ ব্যক্তির ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট৷ শিশু পাচার রোধে স্থানীয় প্রশাসনের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তোলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন৷ এই নারকীয় ঘটনার পর দাবি ওঠে জাতীয় ভিত্তিতে নিখোঁজ বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের ‘ডেটাবেস' বা ডিএনএ ‘ডেটাব্যাংক' তৈরি করার৷ এটা হলে অন্তত ৪০ শতাংশ নিখোঁজ বাচ্চার হদিশ পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়৷ কিন্তু তা আজও হয়নি৷ কেন হয়নি তার কারণ আমি জানতে পারিনি৷

কিন্তু কথা হচ্ছে, প্রতি বছর এত সংখ্যক ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে হারিয়ে যাচ্ছে, অথচ পুলিশ প্রশাসন কেন কিছু করতে পারছে না৷ আমার মতে, বড় বড় রেল স্টেশন, আন্তরাজ্য বাস টার্মিনাসে পাচার করা বাচ্চাদের হস্তান্তর করা হয়৷ পুলিশের নজরদারি কড়া হলে কি তা করতে পারে? তাহলে কি বুঝবো পাচারচক্রের সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের গোপন আতাঁত আছে?

Bildgalerie Bengali Redaktion - Anil Chatterjee

ডয়চে ভেলের নতুন দিল্লি প্রতিনিধি অনিল চট্টোপাধ্যায়

তবে একথাও অস্বীকার করা যায় না যে, এর মূল কারণ দূর করতে গেলে দরকার এক ব্যাপক সক্রিয়তা একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে৷ এর মূল কারণ বলতে আমি বুঝি, শিক্ষার সুযোগ সুবিধার অভাব, শিক্ষার পরিবেশের অভাব এবং দারিদ্র৷ পরিস্থিতিটা উপজাতি এলাকায় আরো বেশি৷ যেমন মধ্যপ্রদেশ৷ ঐ রাজ্যে জনজাতি অঞ্চলে ছেলে ও মেয়ের অনুপাত ভালো৷ সেজন্য মধ্যপ্রদেশে নাবালিকাদের শৈশব নিলাম হয়ে যায় সহজেই৷ তারপর গরু ছাগলের মতো পাচার হয়ে যায় দেশে এমনকি বিদেশেও৷ তবে মনে করলে ভুল হবে যে মধ্যপ্রদেশ থেকে শিশু স্রেফ রপ্তানি হয় না, রাজ্যে আমদানিও হয়৷ এক কথায় আন্তরাজ্য পাচার চক্রের মাধ্যমে৷ রাজ্য সরকার চেষ্টা করেও তা পুরোপুরি রোধ করতে পারছে না৷ তবে হ্যাঁ, সম্প্রতি গণিকালয় থেকে উদ্ধার করে এনেছে ৫৭টি নাবালিকাকে৷ আসলে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক নয়৷ একটা দায় সারা ব্যবস্থা নিয়ে দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে চান৷ সেক্ষেত্রে এর শেষ হাতিয়ারটা সম্ভবত নাগরিক সমাজের সচেতনতা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন