ভারতে প্রথম গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন, বন্ধ্যাত্ব নিবারণে নতুন দিগন্ত | বিশ্ব | DW | 21.05.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারতে প্রথম গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন, বন্ধ্যাত্ব নিবারণে নতুন দিগন্ত

গর্ভাশয়ের সমস্যার কারণে যেসব নারী স্বাভাবিকভাবে গর্ভাধারণ করতে অক্ষম, তাঁদের ক্ষেত্রে গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন সবচেয়ে ভালো বিকল্প৷ পুনে শহরে এই প্রথম গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন অপারেশন হলো৷ এ সাফল্যে ভারত জুড়ে তুমুল সাড়া পড়েছে৷

গত ১৮ই মে মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের গ্যালাক্সি কেয়ার ল্যাপ্রোস্কপি ইন্সটিটিউটে ১২ জন ডাক্তারের একটি মেডিক্যাল টিম দেশে প্রথম গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের একট জটিল সার্জারি করে এক অসাধ্য সাধন করলেন৷ মহারাষ্ট্রের সালাপুরের ২১ বছরের তরুণীর জরায়ুতে জন্মগত কিছু ত্রুটি থাকার কারণে তিনি কখনোই গর্ভবতী হতে পারতেন না৷ তরুণীর মায়ের দেওয়া গর্ভাশয়টি ল্যাপ্রোস্কপিক টেকনিকে কেটে বের করে মেয়ের গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়৷ অপারেশন শুরু হয় সকাল ৯টায়, শেষ হয় রাত ৯টায়৷ ডাক্তারা প্রথমে ভেবেছিলেন সাত-আট ঘণ্টা লাগবে কিন্তু লাগে ১২ ঘণ্টারও বেশি৷

পরে ডাক্তাররা জানান, অপারেশন সফল হয়েছে৷ যিনি জরায়ু দান করেছেন, তাঁর স্বাস্থ্য ঠিক আছে৷ প্রতিস্থাপনের পর গ্রহীতা মেয়েকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়৷ তারপর সপ্তাহ খানেক আইসিইউ-তে এবং পরের দুই সপ্তাহ রাখা হবে সাধারণ কেয়ারে৷ সেই সময় মহিলার দেহে প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয় কেমন কাজ করছে, জরায়ুতে নিয়মিত রক্ত সরবরাহ হচ্ছে কিনা, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে সোনোগ্রাফির মাধ্যমে৷ জানালেন হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর শৈলেশ পুন্টামবেকার এবং অপারেশন টিমের অন্যতম সদস্য ডক্টর সঞ্জীব যাদব৷ আশা করা হচ্ছে, সুস্থ হয়ে ওঠার পর তিনি স্বাভাবিকভাবেই গর্ভবতী হতে পারবেন৷

সুইডেনের একটি হাসপাতালে গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে

সুইডেনের একটি হাসপাতালে গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে

পুনের গ্যালাক্সি কেয়ার ল্যাপ্রোস্কপিক ইন্সটিটিউটে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো আছে কিনা তা দেখার পরই মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দপ্তর এই ধরনের জটিল অপারেশনের লাইসেন্স দেয়৷ ১৯ মে অনুরূপ আরেকটি সার্জারি হয়৷ ২৫ বছর বয়সি এক নারীর দেহে গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন করা হয়৷ ‘‘আমার জীবনে সবথেকে সুখকর অভিজ্ঞতা হবে নিজের সন্তানকে ১০ মাস গর্ভে ধারণ করা'', গড়গড় করে সংবাদমাধ্যমকে বলে গেলেন ঐ নারী৷

গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন বন্ধ্যাত্ব চিকিত্সার একটা নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে চিকিত্সা মহল আশা করছে৷ ‘‘এই ধরনের বেশ কিছু সার্জারির পর অদূর ভবিষ্যতে এটা হবে মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের প্রতিকারে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া'', বলেন হাসপাতালের গায়নাকোলজিস্ট ডক্টর মিলিন্দ টেলাং৷ প্রথম দুই-তিনটি গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন সফল হলে ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস রচিত হবে৷

সার্জারির আগে মা ও মেয়েকে সামনাসামনি বসিয়ে কাউন্সেলিং করা হয়৷ যিনি জরায়ু দিচ্ছেন এবং যিনি গ্রহণ করছেন, তাঁদের মানসিক শক্তির মূল্যায়ন করা হয়৷ দেখা হয়, গর্ভাশয় দিতে দাত্রীর উপর কোনোরকম চাপ আছে কিনা৷ শুধু তাই নয়, যিনি নেবেন তাঁর ও তাঁর স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল তা-ও দেখা হয়৷ গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন সার্জারি নিয়ে গোটা দেশে সাড়া পড়ে গেছে৷ এর ভালো-মন্দ দিক নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক৷ বলা হচ্ছে, এই অপারেশন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া৷ বারংবার হাসপাতালে আসতে হয়৷ এই অপারেশন বেশ ব্যয়বহুল৷ এটা একটা অস্থায়ী অঙ্গ প্রতিস্থাপন৷ এর থেকে সারোগেসিবা দত্তক নেওয়া অনেক সহজ৷ যদিও পুনের গ্যালাক্সি হাসপাতালের মতে, গর্ভাশয় প্রতিস্থাপনের সার্জারি প্রক্রিয়া কিডনি, লিভার বা অন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতোই৷ 

গর্ভাশয় প্রতিস্থাপন কিভাবে হয়, কাদের হয়? যে নারীর গর্ভাশয় বাদ দেওয়া হয়েছে বা সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই রকম নারীই হতে পারেন গ্রহীতা৷ ডোনার হতে পারেন মা, বোন কিংবা মেয়ে৷ সার্জারির আগে গ্রহীতার ডিম্বানু এবং তাঁর স্বামীর শুক্রাণু নিষিক্তকরণের পর ভ্রুণ হিমায়িত অবস্থায় রাখা হবে৷ তারপর ডোনারের জরায়ু নিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হবে গ্রহীতার দেহে৷ প্রতিস্থাপনের বছর খানেক পর সেই হিমায়িত ভ্রুণ গ্রহীতার গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হবে৷ সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে৷ সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর প্রতিস্থাপিত গর্ভাশয় আবার কেটে বাদ দেওয়া হয়৷

প্রথম জরায়ু প্রতিস্থাপন করা হয় সৌদি আরবে ২০০২ সালে৷ দ্বিতীয়টা হয় তুরস্কে ২০১১ সালে৷ কিন্তু কোনোটাই সফল হয়নি৷ কারণ দু'টি ক্ষেত্রেই জরায়ু নেওয়া হয়েছিল ‘ব্রেন ডেড' মহিলার৷ তাই গ্রহীতা মহিলার দেহ তা নিতে পারেনি৷ বিশ্বে প্রথম সফল গর্ভাশয় প্রতিস্থাপিত হয় ২০১৪ সালে, সুইডেনে৷ ডাক্তার ম্যাটস ব্রানসস্ট্রম হলেন একমাত্র ডাক্তার যিনি জীবিত মহিলার জরায়ু কেটে অন্য মহিলার দেহে প্রতিস্থাপন করেন এবং সফল হন৷

প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো বন্ধুরা? জানান আমাদের, লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন