ভারতে নির্বাচন জিততে ইশতাহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ? | বিশ্ব | DW | 10.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারতে নির্বাচন জিততে ইশতাহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

বৃহস্পতিবার থেকে ভারতে সাত দফায় লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে৷ ইতিমধ্যে বিজেপি ‘সংকল্প' নামে আর কংগ্রেস ‘ন্যায়' নামে তাদের ইশতাহার প্রকাশ করেছে৷

দুই দলের ইশতাহারের মধ্যে সাদৃশ্য হলো, উভয়েই নাগরিকদের ‘‌নগদ'‌ অর্থ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়েছে৷ কংগ্রেস, বিজেপির মতো অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলিও প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিচ্ছে৷

নতুন দিল্লির মসনদ দখলের এই লড়াইয়ে একদিকে বিজেপি‌কে চাপে রেখে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে কল্পতরু কংগ্রেস৷ অন্যদিকে, গত পাঁচ বছরের উন্নয়ন, রাম মন্দির নির্মাণ, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, নাগরিকপঞ্জি এবং সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-‌এ ধারার অবলুপ্তিকে ফোকাস করেছে বিজেপি৷ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘‌হিন্দুত্ব'‌ লাইন থেকে কিছুতেই সরছে না তারা৷

এখন প্রশ্ন, ৯০ কোটি ভোটারের কতজন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আগে রাজনৈতিক দলগুলির ইশতাহার খতিয়ে দেখেন?‌ আদৌ ভোটারের কাছে ইশতাহার পৌঁছয়?‌ 

অডিও শুনুন 02:57

দলগুলি বুঝে গেছে প্রতিশ্রুতি পালন না করলে পরে ভুগতে হবে: বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‌‘‌নানা মাধ্যমে ভোটারের কাছে ইশতাহার পৌঁছে যায়৷ অন্তত ইশতাহারের মূল বিষয়গুলি তো বটেই৷ রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা মাঠে-‌ঘাটে যে সভা-‌সমিতি করেন তাতে দলীয় ইশতাহারের কথাই বেশি বলেন৷ তাছাড়া সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল এবং ইদানিং সোশাল সাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দলের ইশতাহারের মূল বিষয়গুলি জনতে পারেন৷'‌'‌ তিনি উদাহরণ দেন, কংগ্রেস এবার ‘‌ন্যায়'‌ প্রকল্পকে সামনে রেখে প্রচারে ঝাঁপিয়েছে৷ গ্রামে-‌গঞ্জে সেকথাই বলা হচ্ছে৷ একইভাবে বিজেপি নেতারাও তাদের মূল ইস্যুগুলি তুলে ধরছে৷

কিন্তু, ইশতাহারের প্রতিশ্রুতিগুলো কী বাস্তবায়িত হয়?‌ জবাবে তিনি বললেন, ‘‌‘‌আশি-‌নব্বইয়ের দশকের পরিস্থিতি এখন আর নেই৷ এখন দলগুলি বুঝে গেছে প্রতিশ্রুতি পালন না করলে পরের বার ভুগতে হবে৷ যেমন নরেন্দ্র মোদীকে ‘‌কালোটাকা'‌ ইস্যুতে খোঁচা সহ্য করতেই হচ্ছে৷ কংগ্রেস কর্মসংস্থান ও কৃষি নিয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ক্ষমতায় এলে তাদের সেগুলি করে দেখাতেই মরিয়া হতে হবে৷'‌'

‌ক'‌দিন আগে দলীয় প্রতীক ‘‌হাত'‌-‌এর পাঁচ আঙুল দেখিয়ে দলের নির্বাচনি ইশতাহার প্রকাশ করে ৫টি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন রাহুল গান্ধী৷ দারিদ্র, কৃষি, বেকারত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারী সুরক্ষা৷ ‘‌ন্যায়'‌ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২০ শতাংশ দরিদ্রতম পরিবারকে বার্ষিক ৭২ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদানের কথা বলা হয়েছে৷ রাহুলের কথায়, ‘‌‘‌গত ৫ বছরে অনেক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি শুনেছে দেশ৷ এবার তাদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি পালন করে দেখাবে কংগ্রেস৷'‌'‌ প্রশ্ন ছিল, বিজেপি'‌র হিন্দুত্ব ও দেশপ্রেম - এইসব ইস্যুর মোকাবিলা কীভাবে করবেন?‌ রাহুলের জবাব, ‘‌‘‌এই ধরণের বিভিন্ন ইস্যুর আড়ালে লুকোতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ কিন্তু, উনি শত চেষ্টা করলেও পালাতে পারবেন না৷ আমরা ওঁকে হারাবই৷'‌'‌

অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টির ইশতাহারে ছত্রে ছত্রে তুলে ধরা হয়েছে জাতীয়তাবাদ, হিন্দুত্ব ও গত ৫ বছরের উন্নয়নকে৷ তাদের থিম ‘‌সংকল্পিত ভারত, সশক্ত ভারত'৷ গত বাজেটে নরেন্দ্র মোদী সরকার ঘোষণা করেছিল, ২ হেক্টরের কম কৃষি জমির মালিকদের বছরে ৬ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে৷ এবার ইশতাহারে আরও একধাপ এগিয়ে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় এলে জমির উর্ধ্বসীমা নয়, এবার সমস্ত কৃষককে বছরে ৬ হাজার টাকা দেবে মোদী সরকার৷ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের ৬০ বছর বয়সের পর পেনশন দেওয়া হবে৷ এক লক্ষ পর্যন্ত কৃষিঋণ হবে সুদহীন৷ ২০২২-‌এর মধ্যে কৃষকের আয় দ্বিগুন করার প্রতিশ্রুতি আরও একবার উল্লেখ করা হয়েছে৷

অডিও শুনুন 04:30

‌নির্বাচনি ইশতাহার অনেক সময় দলের কর্মীরাই পড়ে দেখেন না: দীপ্তেন্দ্র রায়চৌধুরি

‌রাজনৈতিক বিশ্লেষক দীপ্তেন্দ্র রায়চৌধুরি বলছেন, ‌‘‌‘‌নির্বাচনি ইশতাহার অনেক সময় দলের কর্মীরাই পড়ে দেখেন না৷ এ ব্যাপারে একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা বোঝা যাবে৷ উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি ও রাষ্ট্রীয় লোকদলের মধ্যে ‘‌মহাজোট'‌ হয়েছে৷ কংগ্রেসের ইশতাহার প্রকাশের কয়েকদিন পর আরএলডি প্রধান তথা মুজফ্‌ফরনগরের প্রার্থী চৌধুরি অজিত সিংকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কংগ্রেসের ইশতাহারে কী আছে?‌ তিনি জবাব দিয়েছেন, তিনি ইশতাহার পড়েননি৷ ভারতে এবার সাধারণ নির্বাচন হবে নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে ও বিপক্ষে৷ মোদীর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই হতে চলেছে৷'‌‌'

‌ইশতাহারে কংগ্রেস দাবি করেছে, তারা ক্ষমতায় এলে প্রস্তুত হবে পৃথক কৃষি বাজেট৷ বোঝাই যাচ্ছে, অন্যান্য বারের মতো কৃষি ও কৃষক এবার নির্বাচনের বড় বিষয়৷ কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে কংগ্রেসের ইশতাহারে৷ মোদীকে কটাক্ষ করে তাঁর ‘‌বছরে দু কোটি চাকরি'‌র কথা স্মরণ করিয়েছে কংগ্রেস৷ রাহুলের দাবি, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে প্রথম বছরেই সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ২২ লক্ষ শূন্যপদ পূরণ করা হবে৷ সেইসঙ্গে পঞ্চায়েতে আরও ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে৷ যুবারা ‘‌স্টার্ট আপ'‌ ব্যবসা খুলতে চাইলে প্রথম ৩ বছর কোথাও কোনো অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন হবে না৷ এছাড়া মনমোহন সিং জমানার ‘‌মনরেগা'‌ প্রকল্পে ১০০ দিনের কাজ বাড়িয়ে ১৫০ দিন করা হবে৷

ওদিকে, দেশের উত্তর-‌পূর্বে নাগরিকত্ব বিল ও নাগরিকপঞ্জি দুই নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷ নাগরিকত্ব বিল বিষয়ে অসম-‌সহ উত্তপূর্বের রাজ্যগুলিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে৷ বিপুল সংখ্যক মানুষের নাগরিকত্বের প্রশ্ন জড়িত রয়েছে৷ নাগরিকপঞ্জির তীব্র বিরোধিতা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷‌‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন