ভারতে নাবালক বিচার সংশোধন বিল পাস | বিশ্ব | DW | 22.12.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে নাবালক বিচার সংশোধন বিল পাস

অবশেষে নাবালক বিচার সংশোধন বিলটি পাস করলো সংসদ৷ নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের অন্যতম অপরাধী স্রেফ নাবালক বলে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ায়, বিলটি নিয়ে চলছিল তুমুল আলোচনা৷ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল – এই নিয়ে জনজীবন তোলপাড়৷

সোমবার ২০১২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দিল্লিতে নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের নাবালক অপরাধীর মুক্তি আটকানোর আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ গণধর্ষণ কাণ্ডের সময় এই নাবালকের বয়স ছিল ১৮ বছর থেকে ছয় মাস কম৷ আদালতের অভিমত, চলতি নাবালক বিচার আইনে তা আটকানো যায় না, যদিও বিচার বিভাগ জনমানসের আবেগ ও প্রতিক্রিয়া উপলব্ধি করতে পারছে৷ এর জন্য আইনগত দিক থেকে প্রথমে নাবালক বিচার আইনের সংশোধন প্রয়োজন, যেটা করতে পারে সংসদ৷ তাতে যদি নাবালক বা নাবালিকার বয়স সীমা বর্তমানের ১৮ বছর থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করা হয়, তবেই তার বিচার এবং শাস্তি প্রাপ্তবয়স্ক ধরে নিয়ে করা সম্ভব৷ আর শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো৷

মঙ্গলবার সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতে নাবালক বিচার আইনের সংশোধনি বিলটি পাশ হলো৷ তাতে ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘৃণ্যতম অপরাধের ক্ষেত্রে সাবালকের বয়স-সীমা ১৮ বছর থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করা হয়েছে৷ বিলটি পেশ করার সময় দর্শকের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন নির্ভয়ার বাবা-মা৷ এর আগে তাঁরা রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের দরজায় দরজায় গিয়ে এই বিলটি দ্রুত পাশ করাবার আবেদন জানিয়ে এসেছেন, বহুবার৷ এখন অবশ্য এই বিল পাশ হলে নির্ভয়ার নাবালক ধর্ষকের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না৷ এই বিল কার্যকর হবে আগামী দিনে৷

Indien Protest Mutter des Opfers Nirbhaya

মঙ্গলবার রাজ্যসভায় নির্ভয়ার মা

বলা বাহুল্য, নির্ভয়ার নাবালক ধর্ষকের মুক্তি পাওয়া নিয়ে জনসমাজে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক৷ সমাজ দ্বিধাবিভক্ত৷ এই রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্ভয়ার মা বলেছিলেন, ‘‘সিস্টেমর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে৷''

ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারও প্রতিবাদ মিছিল অব্যাহত থাকে৷ মহিলা কমিশনের প্রধানের কথায়, ‘‘এই দিনটিকে মহিলাদের কাছে কালো দিন হয়ে থাকবে৷'' তাঁর কথায়, ‘‘এখন মোমবাতির বদলে মশাল হাতে নেবার সময় এসেছে৷''

সমাজের একাংশের মতে, ধর্ষণ এবং খুনের মতো জঘন্য অপরাধ করেও স্রেফ নাবালক বলে ছাড়া পেয়ে যাবে – এটা মেনে নেয়া যায় না৷ অন্যদিকে আরেক পক্ষ মনে করেন, কঠোর শাস্তি দেয়াটাই শেষ কথা নয়৷ শেষ কথা হলো বিপথগামী নাবালকের মানসিকতা সংশোধন করে তাঁকে সমাজে ফিরিয়ে আনা৷

মুক্তি পাবার পর ঐ নাবালক অপরাধীকে এক এজিওর তত্ত্বাবধানে সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়া হয়৷ এই প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক বুদ্ধদেব ঘোষ ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় বলেন, ‘‘আইন ও শাস্তির বিবাদ বহু পুরানো৷ আমরা শাস্তি কেন দেই? দেই যাতে ভবিষ্যতে সে সাবধান থাকে৷ কিন্তু কথা হচ্ছে, যে-সব কারণগুলো একটি নাবালককে অপরাধী করে তুলছে, সেদিকটা আমরা দেখি না৷ শাস্তি দিলেই যে সে আর ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করবে না, সেটাও বলা মুশকিল৷ তাই সমাজের একজন সদস্য হিসেবে নাবালক অপরাধীকে নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে৷ এরপরেও অবশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে, কোনটা ভালো – জেলখানা না সংশোধনাগার?''

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামে একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা বা এনজিও-এর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান মীনাক্ষী গাঙ্গুলি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘একটা বাচ্চা যাতে অপরাধী হয়ে না ওঠে, সেটা দেখার দায়িত্ব অনেকটাই বর্তায় সরকারের ওপর৷ একটা বাচ্চা অপরাধী হয়ে জন্মায় না৷ বরং সমাজব্যবস্থাই তাঁকে অপরাধী করে তোলে৷ তাই আগে দেখতে হবে আইনের শাসন ঠিকমত পালিত হচ্ছে কিনা৷ কড়া শাস্তি দিলেই সব ঠিক হয়ে যায় না৷ তাই যদি হতো, তবে ফাঁসির সাজা দিয়েও তা আটকানো যাচ্ছে না কেন? আসল কথা হচ্ছে, বিপথগামী নাবালকদের মানসিকতায় প্রকৃত সংশোধন হয়েছে কিনা সেটা দেখা জরুরি৷ পাশাপাশি এটাও সত্য যে, কড়া শাস্তি দিলে দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করার আগে অপরাধীকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হবে৷

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই দিল্লির লাগোয়া হরিয়ানা রাজ্যের আদালত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এক নেপালি মহিলাকে ধর্ষণ ও খুন করার অপরাধে৷

বন্ধুরা, নাবালক ধর্ষর্কের শাস্তি কম হওয়া কি উচিত? জানান নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন