ভারতে দারিদ্র্য কমছে দ্রুত | বিশ্ব | DW | 01.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ভারতে দারিদ্র্য কমছে দ্রুত

বৈশ্বিক দারিদ্র্যরেখার মানদণ্ডে ভারতে চরম দারিদ্র্যের হার যথেষ্ট কমেছে বলে ব্রুকিং ব্লগের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে৷ সমীক্ষা অনুসারে, প্রতি মিনিটে ৪৪ জন ভারতীয় বেরিয়ে আসছে দারিদ্র্য সীমা থেকে৷

তবে এই দাবি কতটা সত্যি, কিভাবে তা পরিমাপ করা হচ্ছে, তাই নিয়ে ভারতীয় অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ আছে৷

ভবিষ্যৎ বিকাশ সম্পর্কে ব্রুকিং ব্লগের এক সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়, গরিবী রেখার নীচে বসবাসরত জনসংখ্যার হার ভারতে দ্রুত কমে আসছে৷ প্রতি মিনিটে ৪৪ জন ভারতীয় এই গরিবি রেখা থেকে বেরিয়ে আসছে, যেটাকে বলা যায় বিশ্বের দ্রুততম৷ এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের দারিদ্র্যের কালিমা একেবারে মুছে যাবে ২০৩০ সাল নাগাদ৷ এ বছরের মে মাসে নাইজেরিয়া বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ বলে চিহ্নিত হয়েছে৷ সে দেশের মোট জনসংখ্যার ৮ কোটি ৭০ লাখ থাকবে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে৷ কারণ, নাইজেরিয়ায় প্রতি মিনিটে ছয় জন গরিবী রেখার নীচে নেমে যাচ্ছে৷ দ্বিতীয় স্থানে আছে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো৷ সেই অনুপাতে ভারতের স্থান তৃতীয়৷ ভারতের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে এখন ৭ কোটি ১০ লাখ থাকবে গরিব৷ তবে সেটা ক্রমাগত কমতে থাকবে৷ তবে চরম দারিদ্র্য পরিমাপের মানদণ্ড কী? তার হিসেব হয় কিভাবে? চরম দারিদ্র্যরেখা থেকে বেরিয়ে এসেছে মানেটা কী? সবার ক্রয় ক্ষমতা এখন কি বেশি হয়েছে ?

অডিও শুনুন 02:54
এখন লাইভ
02:54 মিনিট

‘ভারতে নব্য ধনীদের সংখ্যা অনেক বাড়ছে’

একটা বেশি গরু বা সাইকেল কিনতে পারছে? কিভাবে মাপা হচ্ছে এই সূচক? ব্রুকিং ব্লগ সমীক্ষা অনুসারে, তাঁরাই গরিবি রেখার নীচে যাঁদের জীবন ধারণের ব্যয় রোজ ১ দশমিক ৯ ডলার বা তার কম৷ সেই হিসেবে ২০২২ সাল নাগাদ ভারতে চরম দারিদ্র্য রেখার নীচে থাকবে জনসংখ্যার মাত্র তিন শতাংশ৷ আর ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতে গরিবি রেখা বলে কিছু থাকবে না৷ একেবারেই মুছে যাবে৷ গরিবি রেখার এই হিসেব কিন্তু ভারতীয় অর্থনীতিবিদের হিসেবের সঙ্গে মেলে না৷ হিসেব নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন৷ যেমন, বিশিষ্ট ভারতীয় অর্থনীতিবিদ রতন খাসনবিশ ব্রুকিং ব্লগের এই হিসেবকে আমলই দিলেন না৷ ডয়চে ভেলের কাছে তাঁর সোজাসাপটা উত্তর, ‘‘যেসব অকাট্য তথ্য কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না, তা হলো ভারতের জাতীয় নমুনা সমীক্ষা যেটা সর্বশেষ হয়েছিল ২০১১-১২ সালে৷ আরেকবার হবে ২০১৮-১৯ সালে৷ এর বাইরে দারিদ্র্য কতটা কমবে বা না কমবে তা সবই অনুমানভিত্তিক৷ জাতীয় নমুনা সমীক্ষার মতো এত ব্যাপক সমীক্ষা আর কেউ করতে পারেনি৷ বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুঙ্ক্ষানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করে বলেছে ভারতীয়রা কতটা টাকা ব্যয় করতে পারে৷ ক্রয় ক্ষমতা কতটা বেড়েছে সেটা জাতীয় নমুনা সমীক্ষাই সঠিক বলতে পারে৷ মিডিয়া বা অন্যসব সূত্রে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা বাস্তবতাবর্জিত৷ কাজেই বিশ্বাসযোগ্যতা সন্দেহাতীত নয়৷ আমাদের দেশের দারিদ্র্য মাপার কাজ প্রথমে হাতে নেন অধ্যাপক দান্ডেকর এবং অধ্যাপক রথ ১৯৭১ সালে৷ সরকার শুরু করে ১৯৭৮ সাল থেকে৷ গোড়ার দিকে ৫১ শতাংশ দিয়ে দারিদ্র্য মাপার কাজ শুরু হয়৷ সেটা কমতে কমতে এখন দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশে৷ তবে এ কথা সত্যি, আমাদের কাজটা শুরু হয়েছিল দেরিতে৷ আমাদের পরে শুরু করে বাংলাদেশ ভালো করেছে৷ আমাদের পরে শুরু করে ভালো করেছে চীন৷ কাজেই ভারতে গরিবি কমছে এটা বলার কোনো মানে হয় না৷ অনেকদিন ধরেই দারিদ্র্যের হার কমছে৷ এর আরেকটা দিক হলো, ভারতে নব্য ধনীদের সংখ্যা অনেক বাড়ছে৷ জানেন কি, ভারতে বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা সবথেকে বেশি৷ প্রতি বছর এই সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে৷ তার মানে এই নয় যে, ভারতের লোকেরা খেতে-পরতে পাচ্ছে না৷'' ডয়চে ভেলেকে সাফ সাফ বললেন অর্থনীতিবিদ রতন খাসনবিশ৷ভারতীয় অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কেউ কেউ এই সমীক্ষায় সায় দিয়ে বলেছেন, ‘‘এটা সম্ভব, কারণ, ১৯৯১ সালের আর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়৷ দারিদ্র্যের হার কমতে থাকে৷'' বলেছেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক ফিন্যান্স অ্যান্ড পলিসির অর্থনীতিবিদ এন. আর ভানুমূর্তি৷ গত ১০ বছরের উন্নয়নের নিরিখে বলা য়ায়, এই গতি ধরে রাখতে পারলে ২০৩০ সাল নাগাদ ভারত চরম দারিদ্র্য রেখা থেকে যে বেরিয়ে আসতে পারবে সেটা বাস্তবসম্মত৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও