ভারতে টুইটারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ | বিশ্ব | DW | 16.06.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারতে টুইটারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

ভারত সরকারের সঙ্গে সংঘাত চলছিলই। এবার টুইটারের বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশে মামলা হলো। আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে কেন্দ্রও।

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

টুইটারের বিরুদ্ধে এ বার সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ আনা হলো। উত্তরপ্রদেশ সরকার এ বিষয়ে টুইটারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে, এবার টুইটারের বিরুদ্ধে আরো বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের রক্ষাকবচ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যে কোনো বিষয়েই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে।

রক্ষাকবচ কী

টুইটার, ইউটিউব, ফেসবুকের মতো সংস্থাগুলিকে আইনি ভাষায় মধ্যস্থতাকারী সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ, এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ তাদের নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করতে পারে। মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলিকে এক ধরনের আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হয়। যার ফলে যে কেউ যে কোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধারায় মামলায় করতে পারে না। টুইটারের ক্ষেত্রে সেই আইনি রক্ষাকবচ তুলে নেওয়া হয়েছে।

বিরোধের সূত্রপাত

দিনকয়েক আগে উত্তরপ্রদেশে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। দৃশ্যত মুসলিম ওই ভদ্রলোককে প্রথমে কয়েকজন ঘিরে ধরে প্রবল মারধর করে। পরে তার দাড়ি কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। টুইটারে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়। বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক বলে মন্তব্য করেন বেশ কিছু ব্যক্তি। উত্তর প্রদেশ সরকারের বক্তব্য, ওই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিষয় জড়িত নয়। টুইটারকে ওই মন্তব্যগুলি সরিয়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু টুইটার তা করেনি। তারপরেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারের দাবি

উত্তরপ্রদেশ সরকারের দাবি, সাম্প্রদায়িক কারণে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়নি। ওই ব্যক্তি তাবিজ-কবচ বিক্রি করতেন। তা নিয়েই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তার বচসা হয়। যারা মারধর করেছে, তাদের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম সকলেই আছে।

বিরোধীদের অভিযোগ

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এবং নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তাদের গায়ে হাত না দিয়ে টুইটারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই কাজের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশ সরকার নিজেদের সাম্প্রদায়িক চরিত্র স্পষ্ট করছে। এর আগেও উত্তর প্রদেশে একের পর এক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার টুইটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছে।

পুরনো বিতর্ক

টুইটার সহ একাধিক সামাজিক মাধ্যম সংস্থার সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্ক চলছে। দিল্লি পুলিশ, যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে, কিছুদিন আগে গুরুগ্রামে টুইটারের অফিসে রেডও করেছিল। কেন্দ্রের বক্তব্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্কের ডেটা প্রয়োজনে সরকারকে দিতে হবে। কিন্তু টুইটার স্পষ্ট জানিয়েছিল, এ কাজ বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। তারা সে কাজ করতে পারবে না। প্রতিটি সংস্থাকে বলা হয়েছিল, ভারতে তাদের একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করতে হবে, কেন্দ্র যার কাছে জবাবদিহি চাইতে পারবে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লির সঙ্গে টুইটারের সংঘাত চলছে। বিজেপি সরকারের বক্তব্য, অন্য সংস্থাগুলি তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করলেও টুইটার করছে না। সাম্প্রতিক ঘটনা সেই সংঘাতকে আরো অনেকটা বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

এসজি/জিএইচ (পিটিআই)