1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
দিল্লির তিস হাজারি কোর্টের সামনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান৷ ছবিটি ২০১৯ সালের নভেম্বরের৷ ছবি: Imago/Hindustan Times

ভারতে জামিন নিয়ে যত জটিলতা

স্যমন্তক ঘোষ
১৩ আগস্ট ২০২১

কেউ গুরু দোষ করেও জামিন পান, কেউ লঘু দোষে দিনের পর দিন আটকে থাকেন জেলের চার দেওয়ালে৷ কেন?

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%A4-%E0%A6%9C%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BE/a-58854846

ভারতীয় সমুদ্রে মাছ ধরতে বেরিয়ে জলদস্যুর তাড়া খেয়েছিলেন এক মৎসজীবী৷ পালাতে গিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন বাংলাদেশের জলে৷ আটক হয়েছিলেন বিডিআর-এর হাতে৷ এর পরের গল্প লম্বা এবং পরিচিত৷ প্রথমে জেল৷ তারপর আদালত৷ আবার জেল৷ আবার আদালত৷ শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের নিম্ন আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়৷ কিন্তু কাহিনি শেষ হয় না৷ ভারত-বাংলাদেশ বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তিতে কীভাবে যেন দেশে ফেরার সুযোগ হয়ে যায় কার্যত নম্বর হয়ে যাওয়া ওই ব্যক্তির৷ ভারত নিয়ে আসে তাকে৷ কিন্তু বাংলাদেশে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ভারত বাড়ি যেতে দেয় না৷ আটক করে রাখে দেশের জেলে৷ এদিকে, বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে বেকসুর খালাসের রায় হয়ে যায়৷ এতদিনে ফের নম্বর থেকে মৎসজীবী হওয়ার স্বপ্ন ফিরে আসে ওই ব্যক্তির৷ যদিও স্বপ্ন সফল হয়নি এখনো৷ বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় প্রশাসনের হাতে কাগজ এলে তবেই মুক্তি সম্ভব৷ তার আগে নয়৷ দস্যুর তাড়া খাওয়া এক সাধারণ মৎসজীবী অপেক্ষায় আছেন আরো এক নিয়তির মোড় বদলের৷

নিঃশ্বাসের বিরতি নিলেন আইনজীবী৷ আড়চোখে সাংবাদিকের দিকে তাকিয়ে সামান্য ঠোঁট বেঁকিয়ে বললেন, ‘‘এটা কোনো ব্যতিক্রমী গল্প নয়৷ হাজার হাজার মানুষ এভাবেই পড়ে আছেন ভারতীয় জেলে৷ কত মানুষ বেঘোরে মরে গেছেন এভাবেই! মৃত্যুর পর বাড়ির লোক জানতে পেরেছেন, আসলে নির্দোষ ছিলেন বন্দি৷’’

ভারতের ছোট থেকে বড় অসংখ্য আদালতের অলিন্দে অলিন্দে ছড়িয়ে আছে এমন অনেক কাহিনি৷ এই লেখার সূত্রে বহুদিনের পরিচিত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অরিন্দম দাসের সঙ্গে কথা হচ্ছিল৷ ওই মৎসজীবীর গল্প ছাড়াও আরো সব আশ্চর্য গল্প বলছিলেন অরিন্দম৷ বলছিলেন, আসলে সবটাই কীভাবে টাকার উপর নির্ভর করে৷ হ্যাঁ টাকাই৷ যে বন্দির টাকা আছে, ভালো আইনজীবী রাখার সুযোগও আছে তার৷ অরিন্দম বলছিলেন, ফৌজদারি মামলায় আইনজীবীর উপর অনেক কিছু নির্ভর করে৷ যে আইনজীবী যত ভালো আইনের মারপ্যাঁচ জানেন, প্রায় অসম্ভব জামিনকে তিনি সম্ভব করে তুলতে পারেন৷ বিনিময়ে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক তার বরাদ্দ৷ সময় সময় যা কোটি কোটি টাকা৷ উদাহরণ হিসেবে সারদা মামলার কথা বলছিলেন অরিন্দম৷ প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের নাম চার্জশিটে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তারা জামিন পেয়ে গেলেন, আইনের সেই জটিল আলোচনায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই৷ সহজ সত্য হলো, ভালো আইনজীবী রাখার রেস্তো থাকলে কঠিন মামলাতেও জামিন পাওয়া সম্ভব৷ কিন্তু সেই সুযোগ নেওয়ার মতো 'মালদার’ মানুষ আর ক'জন?

উল্টো দিকের চিত্র অবর্ণনীয়৷ ভালো উকিল না থাকলে বছরের পর বছর ঘুরতে থাকে মামলা৷ তারিখের পর তারিখ আসে, শুনানি হয় না৷ যদি বা শুনানি হয়, বন্দির পক্ষে দাঁড়ানো আইনজীবী জামিনের আবেদন পর্যন্ত করেন না৷ আইনজীবী বন্দির সঙ্গে কখনো কোনো কথাই বলেননি, এমনো ঘটনা ঘটেছে৷ অরিন্দম বলছিলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই বহু বন্দি জামিন পেয়েও জেলে আটকে আছেন, কারণ জামিন বন্ডে টাকা দেওয়ার ক্ষমতাটুকু পর্যন্ত তাদের নেই৷

Syamantak Ghosh
স্যমন্তক ঘোষ, ডয়চে ভেলেছবি: privat

এ তো গেল সাধারণ মানুষের কথা৷ এর বাইরে আছে রাজনৈতিক বন্দি৷ সম্প্রতি স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু বিষয়টিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে৷ ভিমা কোরেগাঁও মামলায় আটক হয়েছিলেন স্ট্যান স্বামী৷ প্রৌঢ় ওই বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা করেছিল পুলিশ৷ ইউএপিএ কার্যত রাষ্ট্রদ্রোহের নামান্তর৷ সাম্প্রতিক কালে বহু রাজনৈতিক কর্মীকে এই ধারায় আটক করেছে রাষ্ট্র৷ জেলে কার্যত চিকিৎসার সুযোগ পাননি স্ট্যান স্বামী৷ শেষপর্যন্ত তার মৃত্যু হয়৷

স্ট্যান স্বামীর ঘটনা নতুন নয়৷ বছরের পর বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন জেলে এভাবেই আটকে আছেন বহু রাজনৈতিক বন্দি৷ ৭০ এর অগ্নিগর্ভ সময়ে জেলে মৃত্যু হয়েছিল নকশাল নেতা চারু মজুমদারের৷ সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গে বহু নকশাল নেতাকে ইউএপিএ ধারায় আটক করা হয়েছিল৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি৷ আর মোদীর ভারতে ইউএপিএ নিয়ে যারা লাফাচ্ছেন, কংগ্রেস আমলের কথা তারা ভুলে গেলে ভুল হবে৷

মনে রাখতে হবে, এই ইউএপিএ-তেই এক সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক বিনায়ক সেন৷ রাম জেঠমালানি দাঁড়িয়েছিলেন আদালতে৷ এমন বিতর্ক করেছিলেন, যে আদালত বিনায়ক সেনের জামিন মঞ্জুর করে৷ ইউএপিএ মামলা লড়ছেন এমন এক আইনজীবী নাম প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তে সাংবাদিককে বলছিলেন, এই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে দুটো জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ এক আইনজীবীর নাম এবং দুই তার বিচক্ষণতা৷ রাম জেঠমালানির মতো আইনজীবীরা যখন আদালতে দাঁড়াতেন, বিচারপতিরা তখন অনেক বেশি সচেতন হয়ে যেতেন৷ বড় আইনজীবীদের ধার ও ভারের গুরুত্ব অপরিসীম৷ আরো একটি বিষয় আছে৷ প্রশাসনের চাপ ও প্রভাব৷ সরকার প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ প্রশাসন যে ভাবে চার্জশিট তৈরি করে, আদালত তার উপর বিচার করে৷ বিরোধী রাজনৈতিক বন্দিদের উপর এমন সব চার্জ আনা হচ্ছে যে বড় বড় আইনজীবীও জামিনের ফাঁক খুঁজে পাচ্ছেন না৷ আবার শাসক দলের ঘনিষ্ট নেতা-কর্মীদের ক্ষেত্রে এমন ভাবে চার্জ সাজানো হচ্ছে যে, সহজেই তাদের জামিন মঞ্জুর হয়ে যাচ্ছে৷

আইনজীবীদের মতে, জামিন নিয়ে জটিলতা কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ সমস্যাগুলির সুরাহাও সম্ভব নয়৷ নয় বলেই গত সত্তর বছর ধরে এই বিতর্কের অবসান হয়নি৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

উত্তর কোরিয়া

জাপানের উপর দিয়ে মিসাইল ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ
প্রথম পাতায় যান