ভারতে জঞ্জাল পুনর্ব্যবহারের অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 04.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ভারতে জঞ্জাল পুনর্ব্যবহারের অভিনব উদ্যোগ

প্লাস্টিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে গোটা বিশ্বে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে৷ ভারতে জঞ্জাল সাফাইয়ের এক অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা চলছে৷

ভিডিও দেখুন 05:19

আবর্জনা পরিষ্কারের অভিনব কায়দা

ভারতের অর্থনীতি ফুলেফেঁপে উঠছে৷ সেই সঙ্গে জঞ্জালের পরিমাণও বাড়ছে৷ জার্মান শিল্পপতি ফ্রিটইয়ফ ডেৎসনার দিল্লি গেছেন৷ সেখানে শহরের মাঝেই প্রায় ৩০ বছর ধরে আবর্জনার পাহাড় তৈরি হচ্ছে এবং তা আকার-আয়তনে বেড়েই চলেছে৷ শহরে এখনো জঞ্জাল সাফাইয়ের কোনো কার্যকর প্রণালী নেই৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে সমুদ্রই হলো সুখের জায়গা৷ সেখানেই আমি থাকতে সবচেয়ে ভালবাসি, সব ভুলে শুধু প্রকৃতি উপভোগ করতে পারি৷ তাই এমন সমুদ্রতটে আসতে খারাপ লাগে, যেখানে প্রকৃতির আর বিশেষ কিছু অবশিষ্ট নেই৷ সেখানে সর্বত্র দূষণের ছাপ এবং বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক আবর্জনা ছড়িয়ে রয়েছে৷''

তার বদলে ভারতে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেআইনিভাবে জঞ্জালের স্তূপ ঘেঁটে মূল্যবান উপকরণ বেছে নেয়৷ ‘আই গট গার্বেজ' সংগঠনের শ্রীকৃষ্ণ বালাচন্দ্রন বলেন, ‘‘দিনে এক বা দুই ডলার উপার্জনের আশায় তারা জঞ্জাল ঘাঁটে৷ হাতে কী লাগছে, তা কখনো জানতে পারে না৷ তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য কোনো সরঞ্জাম পরে না৷ অর্থাৎ জীবনে সবকিছু হারালে, কোনো আশা অবশিষ্ট না থাকলেই ময়লা-কুড়ানি হওয়া যায়৷''

এই স্টার্টআপ কোম্পানি তাদের প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ভারতের আবর্জনার সংকট সমাধান করতে চায়৷ ময়লা কুড়ানিরা সেই কাজে সাহায্য করছে৷ পথের বদলে আধুনিক রিসাইক্লিং কারখানায় তারা বিভিন্ন ধরনের জঞ্জাল আলাদা করছে৷ শ্রীকৃষ্ণ বালাচন্দ্রন বলেন, ‘‘প্রায় সাড়ে তিন কোটি কিলো জঞ্জাল আমাদের প্রণালীর মাধ্যমে পুনর্ব্যবহৃত হয়েছে৷ প্রায় ৮,০০০ ময়লা কুড়ানি সেই কাজে হাত লাগিয়েছেন৷ আমরা তাঁদের যতটা সম্ভব এক মর্যাদাপূর্ণ জীবিকা দেবার চেষ্টা করছি৷ তাঁদের নির্দিষ্ট মাসিক বেতন রয়েছে৷ কাজের সময় স্থির করা হয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে৷ এমনকি তাঁদের সন্তানরা স্কুলে যাচ্ছে৷''

জঞ্জালের পুনর্ব্যবহার আরও কার্যকর করে তুলতে এই কোম্পানি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে৷ রিসাইক্লিং কারখানা, ময়লা কুড়ানি, জঞ্জালের উৎস – সবকিছু এক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত৷ সেই তথ্য সবসময়ে ইন্টারনেটে পাওয়া যায়৷ ফ্রিটইয়ফ ডেৎসনার এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, প্রযুক্তি এমন কী সম্ভব করেছে, যা আগে হতো না? উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বালাচন্দ্রন বলেন, ‘‘প্রথমত, সহজে চারিদিকে জঞ্জাল দেখা যেত না৷ জঞ্জাল বরাবর অদৃশ্য থাকতো৷ এমনকি আপনি কত জঞ্জাল সৃষ্টি করতেন, তা জানতেই পারতেন না৷ আপনি বলছেন, আবর্জনার জন্য আমি কেন পয়সা দেব? আমি তো বেশি জঞ্জাল সৃষ্টি করি না! এখন প্রতিদিন তার পরিমাণ মাপা যায়৷ মাসের শেষে দেখতে পারেন, আপনি ৫, ১০ বা ১৫ টন জঞ্জাল সৃষ্টি করেছেন৷ তখন বাস্তব মেনে নিতে হয়৷''

ফ্রিটইয়ফ ডেৎসনার মনে করেন, ‘‘অর্থাৎ সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ যেমনটা ফিটনেস ট্র্যাকার প্রতিদিন আমাদের পদক্ষেপ, হৃদস্পন্দনের মতো তথ্যের পরিমাপ করে৷ সেই তথ্যের ভিত্তিতে নিজের আচরণ বদলানো সম্ভব৷''

ভারতের আবর্জনা সংকটের মূলে রয়েছে প্লাস্টিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার৷ প্লাস্টিক ছাড়া দৈনন্দিন জীবন ভাবাই যায় না৷ সস্তায় উৎপাদন ও সহজে প্রক্রিয়াজাত করা যায়, প্রায় অনন্তকাল ধরে টিকে থাকে৷ কিন্তু সেটাই তো সমস্যা৷ ফ্রিটইয়ফ ডেৎসনার বলেন, ‘‘প্লাস্টিক ব্যবহার করে মোড়ক উৎপাদন করলে তা মাত্র একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়৷ প্লাস্টিকের এই বৈশিষ্ট্য তাই অত্যন্ত খারাপ, কারণ তা কখনো নষ্ট হয় না৷''

এনভিগ্রিন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অশ্বথ হেগড়ে বলেন, ‘‘দুঃখের বিষয় হলো, মানুষ তাদের অভ্যাস বদলাতে প্রস্তুত নয়৷ তাদের নেশা হয়ে গেছে৷ তারা শুধু ইউজ অ্যান্ড থ্রো ব্যাগ ব্যবহার করতে চায়৷ আমরা কিছু বিকল্প চালু করেছি৷ প্লাস্টিকের বদলে আপনি সেটা ব্যবহার করতে পারেন, প্লাস্টিকের দাম বাঁচাতে পারেন৷''

সাধারণ প্লাস্টিক একশো বছর পরেও নষ্ট হয় না৷ এনভিগ্রিন কোম্পানির থলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায়৷ উদ্ভিদজাত তেল ও শাকসবজির ফেলে দেওয়া অংশ থেকে সেগুলি তৈরি হয়৷ অশ্বথ হেগড়ে বলেন, ‘‘২০১৮ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি দেশে পৌঁছনোই আমাদের লক্ষ্য৷ আমরা পুরোপুরি ভারতে তৈরি পণ্য পশ্চিমা দেশগুলিতে রপ্তানি করবো৷ একইসঙ্গে আমরা ইউরোপ বা পশ্চিমা দেশগুলির নতুন শিল্পপতিদের উৎসাহ দিচ্ছি৷ আমরাই তাদের কাঁচামাল সরবরাহ করবো, যা দিয়ে ইউরোপেই ব্যাগ তৈরি করা যাবে৷''

আমাদের প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিণতি এখনো স্পষ্ট নয়৷ এই সমস্যা উপেক্ষা করা যায়, অথবা এই প্রবণতা রুখতে কিছু করা যায়৷

ক্রিস্টিয়ান রোমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন