ভারতে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি | বিশ্ব | DW | 02.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ভারতে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

মঙ্গলবার ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল কাউন্সিলের ডাকে দেশ জুড়ে ১২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন চিকিৎসকেরা৷ অভিযোগ, সরকার নতুন যে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিলের প্রস্তাব করেছে, তা চিকিৎসক এবং চিকিৎসাশাস্ত্র বিরোধী৷

১২ ঘণ্টার কর্মবিরতি৷ অথৈ জলে রোগীরা৷ বহুদিনের মধ্যে ভারতের হাসপাতালগুলিতে এত বড় কর্মবিরতি দেখা যায়নি৷

নতুন বিল আইনে পরিণত হলে মেডিক্যাল কাউন্সিল ভেঙে যাবে এবং একটি নতুন কাউন্সিল তৈরি হবে৷ মঙ্গলবার সংসদেও বিলটি নিয়ে বিতর্ক হওয়ার কথা৷ সূত্রের খবর, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জেরে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপিডি বন্ধ থাকলেও জরুরি বিভাগের পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটবে না৷

শোনা যাচ্ছে, নতুন বিলের খসড়া প্রস্তাবে বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে৷ অল্টারনেটিভ মেডিসিনের ছাত্ররাও একটি ‘ব্রিজ কোর্সে'-র মাধ্যমে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা করতে পারবেন বলে বিলে প্রস্তাব রাখা হয়েছে৷ যার তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে মেডিক্যাল কাউন্সিলের তরফে৷ অভিযোগ, বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে দেশে ভুয়ো চিকিৎসকের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে৷ অন্যদিকে, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে রোগীদের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে৷ সফদরজং, রাম মনোহর লোহিয়া, এইমসের মতো কেন্দ্রীয় হাসপাতালগুলিতে সেই সার্কুলার ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে৷

মেডিক্যাল কাউন্সিলের বক্তব্য, এই বিল পাশ হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে হবে৷ চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যাদের সম্পর্ক নেই৷ যে কারণে মঙ্গলবার ‘কালাদিবস' পালনের ডাক দিয়েছে তারা৷ মেডিক্যাল কাউন্সিলের নতুন প্রেসিডেন্ট রবি ওয়াংখেদকার বলেছেন, নতুন বিলটি অগণতান্ত্রিক, গরিববিরোধী, চিকিৎসা পরিষেবাবিরোধী৷

দিল্লির মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও মেডিক্যাল কাউন্সিলের কর্মবিরতিকে সমর্থন জানিয়েছে৷ অন্যদিকে, মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বিলটি নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং তাঁদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছেও প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে৷ যেখানে বিলটির নতুন খসড়া তৈরির আবেদন জানানো হয়েছে৷

মাসখানেক আগে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জেরে ভুগেছেন পশ্চিমবঙ্গের রোগীরা৷ তার কারণ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিলসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করেছিলেন বেসরকারি হাসপাতালগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে৷ সেখানে বেশ কড়া ভাষায় তিনি হাসপাতাল প্রতিনিধিদের সচেতন করে দেন৷ ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷ গ্রেফতার করা হয় অসংখ্য ভুয়ো চিকিৎসককে৷ অন্যদিকে চিকিৎসকদের অভিযোগ ছিল, হাসপাতাল ভাঙচুরের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি৷ একতরফা চিকিৎসক এবং বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধেই ব্যস্থা নেওয়া হয়েছে৷ এরই প্রতিবাদে কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়৷ কর্মবিরতি চলাকালীন হাসপাতালগুলিতে কার্যত কোনো পরিষেবাই পাননি রোগীরা৷

এসজি/ডিজি (টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন