ভারতে করোনা নিয়ন্ত্রণে, মানুষও বিধি মানছেন না | বিশ্ব | DW | 21.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারতে করোনা নিয়ন্ত্রণে, মানুষও বিধি মানছেন না

চার-পাঁচটা রাজ্য বাদ দিলে ভারতে করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। অনেক জায়গায় মাস্ক ব্যবহারও কমে গেছে।

করোনাবিধি শিকেয় তুলে এভাবেই কলকাতায় যাতায়াত করছেন মানুষ।

করোনাবিধি শিকেয় তুলে এভাবেই কলকাতায় যাতায়াত করছেন মানুষ।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ১১৫ জন। মারা গেছেন ২৫২ জন। তবে এর মধ্যে কেরালায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৬৯২, মহারাষ্ট্রে আড়াই হাজার, মিজোরামে এক হাজার ৭৩১ ও  তামিলনাড়ুতে এক হাজার ৮৫১ জন। সবমিলিয়ে এই চার রাজ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজারের বেশি মানুষ। ফলে বাকি ভারতে একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজারের থেকেও কম মানুষ।

বাকি ভারতের ছবিটা হলো উত্তর প্রদেশে ১৭, মধ্য প্রদেশে সাত, দিল্লিতে ২০, রাজস্থানে ১১, হরিয়ানায় ২২, পাঞ্জাবে ৩০, বিহারে ১৪ জন গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য পাঁচশর মতো মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।   দুই কোটির দিল্লিতে মাত্র ২০ জন দিনে করোনায় আক্রান্ত হলে তা খুব একটা ধর্তব্যের মধ্যে আসে না। তেমনই ২৪ কোটির উত্তর প্রদেশে যদি দিনে ১৭ জন করোনায় আক্রান্ত হন তা হলে বলা যেতেই পারে করোনা সেখানে নিয়ন্ত্রণে আছে।

তাই ভারতে সংবাদমাধ্যমের হেডলাইন থেকে করোনা এখন প্রায় উধাও। আগের সেই উদ্বেগ, আতঙ্ক, ভয়ও অনেক কমেছে। তবে করোনা বিধি জারি আছে। এই অবস্থাতেও দিল্লিতে বাড়ির বাইরে প্যান্ডেল করে গণেশ পুজো করতে দেয়া হয়নি। কিন্তু মানুষ অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে প্রবেশ করেছেন।

অগাস্টের শেষের দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন জানিয়েছিলেন, ভারতে করোনা এখন এন্ডেমিক পর্যায়ে চলে গেছে।  এন্ডেমিক মানে যখন মানুষ একটা রোগকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচতে শিখে যায়।  সৌম্যা জানিয়েছেন, ''ভারত এখন এন্ডেমিসিটির এমন পর্যায়ে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে  কম বা মাঝারি সংখ্যায় মানুষ সংক্রমিত হবেন। আগের মতো করোনা লাফিয়ে বাড়বে না।'' তিনি মনে করেন, ২০২২ সালে ভারত করোনার আগের জীবনে ফিরে যেতে পারবে।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞই অক্টোবরে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসবে বলে মনে করেন।

ভারতে ভ্যাকসিন

সোমবারের হিসাব হলো ভারতে প্রায় ৮২ কোটি ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। ২২ শতাংশের বেশি মানুষ দুইটি ডোজ পেয়েছেন। আর ৬৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক  অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন। সম্প্রতি ভ্যাকসিন দেয়ার কাজ গতি পেয়েছে। এখন আর কোনো রাজ্যে ভ্যাকসিনের অভাব নেই। ফলে চিকিৎসকদের মতে, ভারতে করোনা নিয়ন্ত্রণের পিছনে ভ্যাকসিনও কাজ করছে। করোনা কম হচ্ছে। হলেও তা প্রাণঘাতী হচ্ছে না। তবে ভারতে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে।

করোনা প্রটোকল

ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি ভাল হলেও বিধিনিষেধ চালু আছে। বাইরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। সামাজিক দূরত্ব রাখা দরকার। অনেক রাজ্যেই স্কুল কলেজ খুলেছে, তবে পুরোপুরি নয়। পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর পর স্কুল খুলবে।

ভারতে করোনা নিয়ে বই লিখেছেন সাংবাদিক অবন্তিকা ঘোষ। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছেন, ''করোনা প্রটোকল এখনো বহাল আছে। সেই বিধিনিষেধ ভাঙলে পুলিশের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।''

বাস্তব পরিস্থিতি

করোনা নিয়ন্ত্রণে আসার পরেই তার প্রভাব সাধারণ মানুষের মধ্যে পড়ছে। দিল্লির বেশ কিছু জায়গায়, দিল্লির বাইরে হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশে গেলেই মাস্ক ছাড়া মানুষ চোখে পড়ছে। দিল্লিতেও অনেক জায়গায় সামাজিক দূরত্বের বিধি মানা হচ্ছে না। দিল্লির বাঙালি-প্রধান এলাকা চিত্তরঞ্জন পর্কে বিকেল হলেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে, দূরত্ব শিকেয় তুলে ফুচকা খাচ্ছে। পুরনো দিল্লির রাস্তা ভিড়ে ভিড়াক্কার। পোশাকের বাজারেও ভিড়। স্যানিটাইজার সঙ্গে নিয়ে চলার প্রবণতাও কম। পুলিশের মধ্যেও ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে একটা ঢিলেমি এসেছে।

বিহেভিয়ারাল ভ্যাকসিনেশন 

দিল্লির চিকিৎসক পার্থপ্রতিম বসু ফুসফুস বিশেষজ্ঞ। একটি বেসরকরি হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডের প্রধান। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছেন, ''ভ্যাকসিন তো নিতেই হবে। সামাজিক মেলামেশাও করতে হবে। কাজ তো করতেই হবে। সেই সঙ্গে আমরা এখন বিহেভিয়ারাল ভ্যাকসিনেশনের কথা বলছি।'' তার ব্যাখ্যা, ''সহজ ভাষায় তার মানে, করোনা ঠেকাবার জন্য যা যা করনীয় তা করে যেতে হবে। বাড়ির বাইরে মাস্ক পরতে হবে। মেলামেশার সময় দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বারবার হাত ধুতে হবে। ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। অর্থাৎ, ব্যবহারিক ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলতে হবে। না হলে করোনা আবার আক্রমণ করবে।''

পার্থপ্রতিমের মতে, ''করোনা ভাইরাস একটু কমজোর হয়েছে। কিন্তু যে কোনো সময় তা রূপ বদল করে আক্রমণ করতে পারে। অনেকে টিকা নিচ্ছেন। তার একটা প্রভাব পড়ছে। কিন্তু অ্যামেরিকায় প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিন নিচ্ছেন না। এর প্রভাব আমাদের যুবকদের উপরেও পড়ছে। কিন্তু অ্যামেরিকার অনুকরণ না করে সবাইকে ভ্যাকসিন নিতে হবে। এটা খুবই জরুরি। করোনা যে কী করতে পারে, তা দ্বিতীয ঢেউয়ের সময় আমরা দেখেছি। সাবধান না হলে আবার পরিস্থিতি খারাপ হতেই পারে।''

জিএইচ/কেএম(স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়