ভারতে করোনায় মৃত ১০৯ | বিশ্ব | DW | 06.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারতে করোনায় মৃত ১০৯

ভারতে করোনায় মৃতের সংখ্যা একশ ছাড়ালো। আক্রান্ত চার হাজার ৬৭ জন। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর ডাকে রোববার পালিত হলো করোনা-দীপাবলি।

ভারতে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এখন চার দিনের সামান্য বেশি সময়ে করোনাআক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক অবশ্য এর জন্য তাবলিগের জমায়েতকে দায়ী করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লাভ আগরওয়াল বলেছেন, ''তাবগিল না হলে সাতদিনের একটু বেশি সময়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হতো। তাবলিগের জমায়েতের কারণে করোনা সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়েছে। এখন ৪ দশমিক ১ দিনে দ্বিগুণ হচ্ছে।'' কারণ যাই হোক না কেন, এই প্রবণতা ভয়ঙ্কর। চীন, ইটালি, স্পেন, অ্যামেরিকার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, করোনা আক্রান্তের হার এ ভাবেই ক্রমশ বেড়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসাব, ভারতে এখন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ৬৭। মারা গিয়েছেন ১০৯ জন। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন ৩২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯৩ জন। দুইটি ক্ষেত্রেই রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে। তাবলিগের জমায়েতের কারণে দিল্লিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫০৩। এক নম্বরে মহারাষ্ট্র, সেখানে আক্রান্ত ৬৭০ জন, তামিলনাড়ু দুই নম্বরে, সেখানে আক্রান্ত ৫৭১ জন। পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত ৮০ জন।

এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক করোনা রুখতে একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। যে সব জায়গায় করোনার বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, সেই এলাকাগুলি এক মাসের জন্য সিল করে দেওয়া হবে। সেখানে কেবল জরুরি পরিষেবা দেওয়া হবে। এই জায়গাগুলিকে বলা হচ্ছে, হাই রিস্ক জোন বা যেখানে বিপদের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি, এমন এলাকা। এখনও পর্যন্ত দেশের ২৭৪টি জেলায় করোনা ঢুকে পড়েছে। প্রতিটি রাজ্যেই হট স্পট জোন চিহ্নিত করা হচ্ছে। দিল্লিতে নিজামুদ্দিন সহ দুইটি এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এমনতিকে করোনা ২২ মার্চের তুলনায় তিন গুণ বেশি গতিতে বাড়ছে। এই অবস্থায় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ২০ পাতার রিপোর্টে বলা হয়েছে, যদি চিহ্নিত এলাকায় এক মাসে নতুন করে কেউ করোনায় আক্রান্ত না হন, তা হলে বোঝা যাবে, সেখানে এই ভয়ঙ্কর রোগকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। পর পর দুই বার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তারপরেই হাসপাতালে থেকে আক্রান্তরা ছাড়া পাবেন। যাঁদের করোনার অল্পস্বল্প রোগলক্ষণ থাকবে, তাঁদের স্টেডিয়ামেরাখা হবে, আর যাঁদের একটু বেশি রোগলক্ষণ আছে, তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হবে। যাঁদের বাড়াবাড়ি হচ্ছে, তাঁদের বিশেষভাবে চিহ্নিত ও চিকিৎসার সুবিধাযুক্ত হাসপাতালে পাঠানো হবে। ওই সব এলাকা ও তার আশাপাশের এলাকায় কোনও স্কুল, কলেজ, অফিস খোলা থাকবে না। কোনও যানবাহনও চলবে না।

অবশ্য দেশে যখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে রোববার রাতে কার্যত দীপাবলি পালিত হলো। প্রধানমন্ত্রী মোদী মোমবাতি, প্রদীপ বা মোবাইলের টর্চ দ্বালাতে বলেছিলেন।  বাস্তবে দেখা গেল, রাত নয়টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে লোকে বারান্দায় বা বাইরে সার সার মোমবাতি বা প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছেন। তার সঙ্গে শুরু হলো বাজি ফাটানো। মিনিট পনেরো ধরে ফাটতে শুরু করলো আলোর ও শব্দের বাজি। সেই সঙ্গে ক্রমাগত, শাঁখ বাজতে থাকলো, লোকে কাঁসর-ঘন্টা বাজাতে শুরু করলেন। এমনকী হাততালির আওয়াজেও ভরে গেল চারপাশ। এতদিন রাত মানে ছিল শুনশান স্তব্ধতা। সেই স্তব্ধতা খান খান করে উৎসবের মেজাজ চলে এল। এর ফলে করোনা কী ভাবে আটকানো যাবে, তা বিশেষজ্ঞদেরও বোধগম্য হয়নি, তবে শব্দ ও বায়ুদূষণ বাড়বে বলেই আশঙ্কা

নয় মিনিটের এই আলো ও শব্দের উৎসবের পর শুরু হলো সামাজিক মাধ্যমে তার ছবি পোস্ট করা। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তাঁর প্রদীপ জ্বালানোর ছবি পোস্ট করলেন। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ থেকে সাধারণ মানুষের প্রদীপ বা মোমবাতি জ্বালানোর ছবি সামাজিক মাধ্যমে চলে এলো।  দেখা গেল হাসপাতাল থেকে শুরু করে দেশের সর্বত্র সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে আলো জ্বালিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন। 

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই)

বিজ্ঞাপন