ভারতে কনডম কেন অজনপ্রিয়? | বিশ্ব | DW | 26.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারতে কনডম কেন অজনপ্রিয়?

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসেবে ভারতে কনডম একেবারেই জনপ্রিয় নয়৷ কিন্তু জনসংখ্যার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে যৌনরোগের প্রকোপ৷ তাই এর ব্যবহার বাড়াতে এবার ভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার৷ চালু করা হয়েছে অনলাইনে কনডম বিক্রির ব্যবস্থা৷

ভারতের অনেক এলাকায় জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে বেশিরভাগ মানুষ সচেতন নন৷ সরকারি নানা প্রচার-প্রচারণার পরও গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহারে তেমন কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়নি৷ আগামী ছ'বছরে দেশটির জনসংখ্যা চীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আশংকা রয়েছে৷ এখন ভারতের জনসংখ্যা ১৩২ কোটি, চীনের বর্তমান জনসংখ্যা ১৩৭ কোটি৷ ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির জনসংখ্যা ১৭০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

ইউরোপের দেশগুলোর ৩০ ভাগ মানুষ যেখানে কনডম ব্যবহার করে, ভারতে সেখানে ৬ ভাগেরও কম মানুষ কনডম ব্যবহার করে৷ অথচ বিশ্বে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর দিক থেকে ভারতের অবস্থান তৃতীয়৷ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত আট বছরে কমডম ব্যবহারের হার ৫২ শতাংশ কমে গেছে৷ ভ্যাসেক্টমি করার সংখ্যাও কমে গেছে ৭৩ ভাগ৷ এছাড়া গর্ভনিরোধক পিলের ব্যবহারও কম৷

ভারতের জনস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রীনাথ রেড্ডি ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘এই ‘ট্রেন্ড' আসলেই খুব উদ্বেগজনক৷ নিরাপদ যৌন সম্পর্কের পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে আমাদের আরো প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে৷''

সামাজিক কুসংস্কার এবং গোপনীয়তা

সামাজিক কুসংস্কার এবং দোকান থেকে কনডম কেনার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে প্রধান প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷ এছাড়া প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে যৌনস্বাস্থ্য এবং নিরাপদ যৌন সম্পর্কের বিষয়ে সচেতন নয় মানুষ৷ এগুলো নিয়ে তারা খোলাখুলি আলোচনাও করে না৷ এছাড়া বিয়ের আগে যৌনমিলনকে আজও প্রথা বিরুদ্ধ মনে করা হয় ভারতে৷ ফলে তরুণ-তরুণীরা অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়৷

সরকার সম্প্রতি কনডম বিক্রির জন্য একটি অনলাইন সেবা চালু করেছে৷ এতে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে৷ এ পর্যন্ত অনলাইনে ১০ লাখ মানুষ কনডমের অর্ডার দিয়েছে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে এত সংখ্যক মানুষের অর্ডারই প্রমাণ করে ভারতীয়রা দোকানে গিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রক কিছু কিনতে লজ্জা পান৷ সাবেক স্বাস্থ্য সচিব জে. ভি. আর. প্রসাদ রাও ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘জনগণকে সচেতন করে তুলতে হলে আরও উদ্যোগ এবং মার্কেটিং দরকার৷''

এইচআইভি জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে কাজ করছেন ডাক্তার প্রীতি কুমার৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে যদি কনডম ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ে, তাহলে তা নির্দ্বিধায় গর্ভনিরোধে সাহায্য করবে, পাশাপাশি কমাবে যৌনরোগের বিস্তার৷''

মুরালি কৃষ্ণান/এপিবি

এ বিষয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন