ভারতে কঠোর হচ্ছে মোটরযান আইন | বিশ্ব | DW | 17.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারতে কঠোর হচ্ছে মোটরযান আইন

ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের আদলে পরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার৷ একই সঙ্গে মোটরযান আইনকেও কঠোর করার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গাডকারি৷

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় দেড় লাখ মানুষের৷ গড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে  চার হাজার মানুষ৷ আহতের সংখ্যা হয় দুই থেকে পাঁচ কোটি৷ কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, ভারতের ৩০ শতাংশ ড্রাইভিং লাইসেন্সই ভুয়া৷ দায় স্বীকার করেছেন মন্ত্রী নিজেই৷ সংসদে তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে আমার ব্যর্থতা হল, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে পারিনি৷'

সরকার মনে করছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বর্তমান ট্রাফিক নিয়মে বেশকিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন৷ তাতে দুর্ঘটনার মাত্রা কমবে বলেও মনে করছে বিজেপি সরকার৷ পরিবেশ দূষণ রোধ এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও সরকারের লক্ষ্য৷ তাই ১৯৮৮-র আইন পরিবর্তন করতে মোটরযান (সংশোধনী) বিল, ২০১৯ সংসদে তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

ভারতের নিয়ম অনুযায়ী লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাশ হওয়ার পর বিলটি পাঠানো হবে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে৷ তাঁর ছাড়পত্র পেলেই আইনে সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে৷

অডিও শুনুন 01:41

পরিবহনের পুরো বিষয়টিই রাজ্য সরকারের অধীনে রয়েছে:সৌগত রায়

 

বিলটির বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, ‘‘পরিবহনের পুরো বিষয়টিই রাজ্য সরকারের অধীনে রয়েছে৷ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স ইত্যাদি বিষয়েও যদি কেন্দ্রিয় সরকার হস্তক্ষেপ করে, তাহলে রাজ্যগুলো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে৷ তাই কেন্দ্র-রাজ্য সম্মিলিত ভাবে কাজ করা উচিত৷''

তবে নীতিন গাডকারি চিন্তাটা ভিন্ন৷ সংসদে তিনি বলেন, ‘‘গোটা বিশ্বে ভারতই একমাত্র দেশ, যেখানে অতি সহজে ড্রাইভিং লাইসেন্স মেলে৷ এরফলে ফি-বছর দেড় লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান৷ এ জন্যসড়ক পরিবহনে আমূল পরিবর্তন এনে ভারতে ‘লন্ডন পরিবহন মডেল'চালু করা হবে৷''

বিরোধীরা বলছেন, ‘‘মোটরযান কঠোর হচ্ছে হোক৷ সেইসঙ্গে বেহাল সড়কের মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিক সরকার৷''


অডিও শুনুন 03:01

আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা নিয়ে নিতে চাই:সায়ন্তন বসু

তৃণমূল এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দুষছেন শাসক দল বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা নিয়ে নিতে চাই৷ এমন সরকারের হাতে ক্ষমতা থাকা উচিত নয়৷ কেন্দ্রিয় সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে সবকটি দলের উচিত তাকে সাধুবাদ জানানো৷ দুর্ঘটনা কমাতে সরকার যখন উদ্যোগী, তখন রাজনৈতিক স্বার্থে তার বিরোধিতা করছে তৃণমূল৷''

বর্তমান আইনে গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে দেরি হলে জরিমানা একশো টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে৷ মোটরযান আইনে ট্রাফিক নিয়ম অমান্যকারীদের জরিমানার পরিমাণ ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার৷ হেলমেটবিহীন চালকের জরিমানা একশো থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকার করার ইচ্ছে সরকারের৷ গতিসীমা ছাড়ালে জরিমানা ছিল পাঁচশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার৷ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে জরিমানা দু-হাজার টাকা৷ এবার তা ১০ হাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ কোনো নাবালক চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করলে তার দায় নিতে হবে অভিভাবককে অথবা গাড়িক মালিককে৷ বাতিল করা হতে পারে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন৷ আর ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ২০ বছর থেকে কমিয়ে ১০ বছর করারও সুপারিশ করছে সরকার৷ ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের গাড়ির লাইসেন্স দেয়া হবে পাঁচ বছরের জন্য৷ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে তিন মাসের মধ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে সংশোধিত আইনে৷

এর আগে ২০১৬ সালে আইনটি সংশোধন করতে চেয়েছিল সরকার৷ ২০১৭ সালের এপ্রিলে লোকসভায় পাশও হয়৷ কিন্তু দেশজুড়ে পরিবহন ধর্মঘট ডাকে একাধিক সংগঠন৷ তার জের ধরে, বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করা হলেও পাশ হয়নি৷ এরমধ্যে সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে৷ তাই আবার নতুন করে বিলটি এনেছে সরকার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন