ভারতে ′ইসলামোফোবিয়া′ নিয়ে সরব মুসলিম বিশ্ব | বিশ্ব | DW | 21.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারতে 'ইসলামোফোবিয়া' নিয়ে সরব মুসলিম বিশ্ব

ভারতে ইসলামোফোবিয়া বাড়ছে বলে বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইসলামিক কো-অপারেশন। পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে ভারতও।

করোনা সংক্রমণ এবং লকডাউনকে কেন্দ্র করে ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়া বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। সম্প্রতি অরুন্ধতী রায়ও ডয়চে ভেলেকে এ বিষয়ে তাঁর মতামত জানিয়েছেন। এ বার তা নিয়ে সরব হলো ৫৭টি মুসলিম দেশের কনফেডারেশন-- অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন। নিন্দা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের এক সদস্যও। পাল্টা বিবৃতি প্রকাশ করেছে ভারত।

অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশনের মানবাধিকার সংগঠন আইপিএইচআরসি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, 'করোনা কালে ভারতে মুসলিম বিদ্বেষ বাড়ছে বলে রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করি। করোনার সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট করে মুসলিমদের দায়ী করা হচ্ছে। গণমাধ্যমেও নেতিবাচক রিপোর্ট হচ্ছে। সরকার এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক।'

এখানেই শেষ নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজ পরিবারের এক সদস্য সম্প্রতি এ বিষয়ে টুইট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, 'আরবে বহু ভারতীয় কাজ করেন। প্রতি বছর শুধু মাত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ৫৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেন ভারতীয়রা। যার লাভ পায় ভারতও। মুসলিম দেশগুলিতে কাজ করে বছরে ১২০ বিলিয়ন ডলার রোজগার করেন ভারতীয়রা। এই সমস্ত দেশে হিন্দু ভারতীয়দের সম্মানের সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়। কিন্তু ভারতে মুসলিমদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার হচ্ছে, তা এখন স্পষ্ট।'

মুসলিম বিশ্ব থেকে এ হেন বিবৃতি দেখার পরে ভারতও তার জবাব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নাকভি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, 'মুসলিমদের কাছে ভারত এক স্বর্গীয় স্থান। এখানে মুসলিমদের সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। সমানাধিকার দেওয়া হয়। কোনও রকম বিদ্বেষমূলক আচরণ করা হয় না।' বস্তুত কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একটি টুইট করেছিলেন। যাতে বলা হয়েছিল, কোভিড-১৯ ধর্ম দেখে আক্রমণ করে না। সকলে একসঙ্গে মিলে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

কোন প্রেক্ষিতে মোদী এই টুইট করেছিলেন? বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, দেশ জুড়ে ভেদাভেদের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেটা বুঝতে পেরেই মোদী এ কথা বলেছিলেন। কারণ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে নেতা-মন্ত্রীদের বিবৃতি, সর্বত্রই বিভাজন দেখা যাচ্ছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যেও বিভাজনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। আরবের রাজ পরিবারের সদস্যের টুইটের বিরোধিতা করে বহু ভারতীয় যে মন্তব্য করছে তার মধ্যেও বিদ্বেষের বিষ রয়েছে বলে অনেকের অভিমত। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতও সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সচেতন করে দিয়েছেন। টুইটে তিনি বলেছেন, 'ভারত এবং ইউএই বিদ্বেষে বিশ্বাস করে না। যে কোনও রকম বিদ্বেষ এই দুই দেশে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে ইউএই তে বসবাসকারী ভারতীয়রা এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।'

রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ করার সময় থেকেই দেশ জুড়ে বিদ্বেষ ছড়াতে শুরু করে। হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ প্রকট হয়। দিল্লি দাঙ্গায় তা আরও বাড়ে। করোনা পরিস্থিতিতে সাময়িক ভাবে সেই আবহ খানিকটা থিতিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাবলিগের জমায়েতকে সামনে রেখে সরকার এবং বিজেপি যে ভাবে তাদের দেশে করোনা সংক্রমণের জন্য দায়ী করেছে, তাতে সেই বিদ্বেষ ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যে, গুজরাতে একটি হাসপাতালে হিন্দু এবং মুসলিমদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সে কথা স্বীকারও করেছিলেন। যদিও পরে বিষয়টি অস্বীকার করে সরকার। উত্তরপ্রদেশে একটি হাসপাতাল কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে বলেছে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট থাকলেই একমাত্র মুসলিমদের সেখানে ভর্তি নেওয়া হবে। সোমবারও কেন্দ্রীয় সরকার দেশে ৩০ শতাংশ করোনা সংক্রমণের জন্য তাবলিগকে দায়ী করেছে। কিন্তু এড়িয়ে গিয়েছে সেই একই সময়ে অন্যান্য ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সমাবেশের প্রসঙ্গ। কেন গোড়া থেকে বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা হয়নি, কী ভাবে তাবলিগের সভায় বিদেশ থেকে প্রতিনিধিরা এসে যোগ দিলেন, কেন তাঁদের বিমানবন্দরে পরীক্ষা হয়নি, এ সব বিষয়েও সরকার কোনও মন্তব্য করছে না। পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম এলাকা সম্পর্কে কোনও কোনও বিজেপির নেতা যে সমস্ত মন্তব্য করছেন, তাতেও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এমন পরিস্থিতিতে সংহতি প্রয়োজন। নাগরিক সমাজের একাংশ বার বার সে কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টুইটেও তার আভাস আছে।

এসজি/জিএইচ (পিটিআই, এনডিটিভি) 

বিজ্ঞাপন