ভারতে অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হলে চরম দুর্দশা | বিশ্ব | DW | 18.10.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ভারতে অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হলে চরম দুর্দশা

অ্যাসিড সন্ত্রাস আজও এক কঠিন বাস্তব৷ ক্রোধ, ঘৃণা বা প্রতিশোধের কারণ দেখিয়ে অ্যাসিড ছুড়ে কারও মুখচ্ছবি নষ্ট করে দেওয়ার মতো ঘৃণ্য, জঘণ্য অপরাধ রুখতে ভারতে আরও কড়া আইন পাশ করা হয়েছে৷

রেশমা কুরেশির বয়স এখন ১৮৷ এক পারিবারিক বিবাদের জের ধরে এক আত্মীয় ও তার বন্ধুরা তাঁর মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে৷ হামলার পর চিকিৎসার জন্য আত্মীয়-স্বজনদের অনেক ঋণ নিতে হয়েছে৷ ডাক্তাররা বলেছেন, আরও ১০টি অপারেশন করতে হবে৷ আদালত রেশমার জন্য এক লক্ষ ভারতীয় টাকার ক্ষতিপূরণের রায় দেয়৷ রাষ্ট্রকেই সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷ কিন্তু এর পর প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে৷ রেশমা একটি পয়সাও হাতে পাননি৷ অ্যাসিড হামলার ফলে তাঁর একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে৷ বদলে গেছে জীবনযাত্রা৷ বিকৃত মুখ নিয়ে রেশমা বাড়ির বাইরে যেতে চান না৷ অথচ হামলার আগে পর্যন্ত বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে হইচই করতে ভালোবাসতেন এই তরুণী৷

আদালত ও সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও যারা অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার, তাদের জীবনযাত্রায় কোনো উন্নতি আসেনি বলে দাবি করছে অনেক সংগঠন৷ নতুন দিল্লি ভিত্তিক ‘স্টপ অ্যাসিড অ্যাটাক্স ক্যাম্পেন গ্রুপ'-এর কর্মী অলোক দিক্ষীত সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো যথেষ্ট সচেতনতার অভাব রয়েছে৷ কর্তৃপক্ষও সময় নষ্ট করছে৷ ভারতের সর্বোচ্চ আদালত – সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের জুলাই মাসে অ্যাসিড বিক্রির উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছিল৷ অথচ আজও সহজেই অ্যাসিড কেনা যায়৷ যারা অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার, তাদের জন্য আদালত ৩ লক্ষ ভারতীয় টাকা ক্ষতিপূরণেরও নির্দেশ দিয়েছিল৷ হামলার ১৫ দিনের মধ্যেই তার এক-তৃতীয়াংশ হস্তান্তর করার কথা৷ অলোক দিক্ষীত বলেন, তাঁর কাছে যে খবর এসেছে, সেই অনুযায়ী ১০০ জনের মধ্যে মাত্র দু'জন ক্ষতিপূরণের পুরো অঙ্ক হাতে পেয়েছে৷ সেই প্রক্রিয়ায়ও অনেক বিলম্ব ঘটেছে৷

অ্যাসিড হামলার ক্ষেত্রে ভারতে পুলিস ও প্রশাসনের মনোভাবের কড়া সমালোচনা শোনা যায়৷ অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও তাদের শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ গড়িমসি করে৷ আদালতে মামলাও সহজে শেষ হতে চায় না৷ এই অবস্থায় অ্যাক্টিভিস্টরা সরকার ও প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে ‘ক্রাউডফান্ডিং' বা জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করার পথে এগোচ্ছেন৷ যেমন ‘মেক লাভ নট স্কার্স' নামের এক অভিযানের আওতায় রেশমার জন্য প্রায় ২,২০০ ডলার সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে৷ তবে হাসপাতালের খরচ আরও বেড়ে যাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

এসবি/ডিজি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন