‘ভারতের সমর্থনে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাসনে চলে গেছে′ | বিষয় | DW | 19.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘ভারতের সমর্থনে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাসনে চলে গেছে'

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতের আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশের রাজনীতি প্রসঙ্গে এমনটাই বললেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি৷

ডয়চে ভেলের ইউটিউব টক শো ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়'-এ এবারের প্রশ্ন ছিল, মোদীর সফর: সুবর্ণজয়ন্তী, নাকি ভোটেররাজনীতি? আলোচনায় অংশ নেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং কলকাতা থেকে দ্য বেঙ্গল স্টোরি-র সম্পাদক বিতনু চট্টোপাধ্যায়৷

অনুষ্ঠানে সঞ্চালক প্রশ্ন জানতে চান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তার রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কিনা৷ এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক বিতনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘২০১৯ সালে ২০১৪ সালের চেয়েও বেশি ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি৷ বিজেপির একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারা থাকলেও এই যে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ ওঠে, তা শুধু ভারতকেন্দ্রিক নয়৷ এই ধরনের রাজনীতির উত্থান শুধু এই অঞ্চলে নেই৷ গোটা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে৷ বিজেপি বা মোদীকে সাম্প্রদায়িক হিসাবে দেগে দেওয়ার প্রসঙ্গ দুটো সময়ের ওপর ভিত্তি করে রয়েছে৷ এক, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের বাবরি মসজিদের ঘটনার পরের সময়৷ দ্বিতীয়ত, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পরের সময়৷ তবুও ২০০২ সালের পরে ক্ষমতায় এসেছে ২০১৪ সালে৷ আর ২০১৪ সালের ঠিক আগে কিন্তু এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যার জন্য বলা যায় যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন থেকে লাভ করে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে৷ সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের তাসের কথা এ প্রসঙ্গে অতিসরলীকরণ করা হয়ে যাবে৷ ২০১৯ সালে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও পরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেমন মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি, মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকার গড়তে পারছে না৷ পশ্চিমবঙ্গেও শুধু সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করে জায়গা পায়নি৷ বদলে, বর্তমান শাসক দল তৃণমূলের ত্রুটির বিষয় সামনে এনেছে৷ আজ পর্যন্ত এখনও যা প্রচার চলছে, কোনো মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বা অমিত শাহ কিন্তু তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে, রাজ্য পরিচালনার বিরুদ্ধে কথা বলছে ন৷ আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার গঠন করে ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে৷ সুতরাং, ভারতের সব মানুষের রাজনীতিই যে বিজেপির রাজনীতি, তা নয়৷''

কোনো দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানের ক্ষেত্রে সেদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভূমিকার গুরুত্ব স্বীকার করে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক একটি উপলক্ষ৷  ভারতের অংশগ্রহণ আমাদের মুক্তি সংগ্রামে রয়েছে এবং কৃতজ্ঞতাও রয়েছে৷ ভারতের একজন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, তা স্বাভাবিক৷ কিন্তু সুবর্ণজয়ন্তী প্রসঙ্গে ভারতেরএই প্রতিনিধিকে কেন মানুষ স্বাগত জানাতে পারছে না, তা ভারতের নীতিনির্ধারকদের ভাবা দরকার৷ ভারত তার নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের একটি বিশেষ দলকে বন্ধু ভেবে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে৷ ২০১৪ সাল থেকেই বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাসনে চলে গেছে, যা প্রত্যক্ষভাবে ভারত সমর্থন করেছে৷ মনে রাখতে হবে, উভয় দেশের সাম্প্রদায়িক শক্তিই একে অপরের হাত ধরে চলে৷ কিন্তু ভারতে তবুও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হয়৷ ভারতের বিপুল বৈচিত্রের কারণে আমি মনে করি বিজেপির রাজনীতি সেখানে দীর্ঘকাল চলতে পারবে না৷ এটাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথ৷ কিন্তু এই পথ বন্ধ হয়ে গেলেই তার স্থানে উগ্রতা জায়গা করে নেয়৷''

আজকের পর্বে এছাড়াও আলোচিত হয় ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা আধিপত্যবাদের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব, তিস্তার পানিবণ্টন ও মতুয়াগোষ্ঠীর ভোটের প্রসঙ্গও৷

এসএস/এসিবি

সংশ্লিষ্ট বিষয়