ভারতের ব্যাংকে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে!‌  | বিশ্ব | DW | 21.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ভারতের ব্যাংকে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে!‌ 

তিনি বলেছিলেন, ‘‌না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা’‌৷ তাঁর আমলে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্কিং দুর্নীতি!‌ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের মুখে কুলুপ৷ স্বভাবতই বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে আক্রমণ শাণাচ্ছে বিরোধীরা৷

ভারতে জনগণের টাকা লোপাট করে নিরাপদে গা-‌ঢাকা দিচ্ছেন একের পর এক শিল্পপতি৷ ললিত মোদী, বিজয় মালিয়ার পর এবার নীরব মোদী৷ একে একে বেরিয়ে আসছে আরও জালিয়াতি৷ নীরব মোদী, মেহুল চোকসির পর এবার ‘‌রোটোম্যাক’‌ কলম নির্মাতা বিক্রম কোঠারি৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রোটোম্যাকের জালিয়াতির পরিমাণ প্রায় ৩,৬৯৫ কোটি টাকা৷
 
১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লুট!‌ দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা৷ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন৷ সমাজের উচ্চবিত্ত ও নেতাদের মধ্যে আস্থা অর্জন করে টাকা নিয়ে চম্পট৷ ব্যাংকের নজরে দুর্নীতি আসার আগেই বিদেশে পগারপার নীরব মোদী৷ জারি হয়েছে ‘‌লুক আউট’‌ নোটিস৷


পিএনবি জালিয়াতি-‌কাণ্ড নিয়ে রুজু হওয়া জনস্বার্থ মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানিতে সম্মত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট৷ সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, এই মামলার শুনানি হবে শুক্রবার৷ মামলার দাবি করা হয়েছে, নীরব মোদীকে দু-‌মাসের মধ্যে দেশ থেকে তাড়ানো হোক৷ পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক এবং রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া-‌র উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক৷
 

দেশের বৃহত্তম ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় গোটা দেশ৷ কিন্তু এখনও এ বিষয়ে টুঁ শব্দ করেননি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী৷ নানা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী টুইট করছেন বটে, কিন্তু নীরব প্রসঙ্গে তিনি আশ্চর্যজনকভাবে নীরব৷ তদন্তকারী সংস্থার মতে, নীরব গা-ঢাকা দিয়েছেন দুবাইতেই৷

অডিও শুনুন 06:50

‘সরকারের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদত ছাড়া এতবড় ব্যাংক জালিয়াতি মোটেই সম্ভব ছিল না’

 

রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের কথায়, ‘‌‘২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী  নরেন্দ্র মোদী নিজেকে ‘‌চৌকিদার’‌ বলেছিলেন৷ তিনি নাকি দেশের অর্থ‌নীতির পাহারাদার হবেন, যাতে জনগণের সম্পত্তি কেউ তছরুপ না করতে পারে৷ দেশের প্রত্যেক জনগণের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন৷ তারপর তো কালোটাকা, নোট বাতিল, জিএসটি ইত্যাদির সাক্ষী থেকেছে দেশবাসী৷ সম্প্রতি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের যে দুর্নীতি সামনে এসেছে, তার তদন্তে দেখা গেছে নোট বাতিলের পরে নগদ টাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা ও হীরে কেনা হয়েছিল৷ সরকারের প্রশ্রয় ছাড়া এটা কি সম্ভব?‌’‌’

দুর্নীতির জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের মুম্বাইয়ে ব্র্যাডি রোডের শাখাটি৷ বিজয় মালিয়া ও নীরব মোদীর নাম করে বিজেপিকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ তিনি মোদীকে পুরোনো কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘‘‌না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা৷’‌’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‌‘‌এই প্রতিশ্রুতি কি তাহলে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়ে ছিলেন ?‌ তাহলে কি এসবের কিছুই দাম নেই?‌ এত বড় কাণ্ড হয়ে যাওয়ার পরেও মোদী নীরব কেন?’’‌‌

‘‌অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার কনফেডারেশন’‌-‌এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক সৌম্য দত্তর মতে, ‘‘‌এটা কোনও দু্র্নীতি নয়৷ তবে, সরকারের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদত ছাড়া এতবড় ব্যাংক জালিয়াতি মোটেই সম্ভব ছিল না৷ ছোটখাটো ঋণখেলাপিদের সংবাদপত্রে ছবি ছাপা হয়৷

অডিও শুনুন 03:58

‌‘২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় নরেন্দ্র মোদী দেশের অর্থ‌নীতির পাহারাদার হবেন বলেছিলেন’

কিন্তু, রাঘব বোয়ালরা বেমালুম ব্যাংকের টাকা হজম করে বসে থাকেন৷ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ওপর মানুষের বিশ্বাস অটুট রাখতে হলে কর্পোরেট জগতের ‘‌উইলফুল ডিফলটার’‌-‌দের তালিকা প্রকাশ করে হাতেনাতে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এজন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলাও করা হয়েছে৷

কিন্তু, সেখানে রিজার্ভ ব্যাংক মুখবন্ধ খামে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, তালিকা প্রকাশ করা যাবে না৷ কারণ, তাতে নাকি দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট হবে! ফলে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে অনাদায়ী ঋণ আদায় করতে হবে৷ অন্যদিকে, নিয়ম থাকলেও ব্যাংক পরিচালনা কমিটির বোর্ডে কোনও কর্মী ও অফিসার ডাইরেক্টর নেই৷ তাহলে কাদের কেন ঋণ দেওয়া হচ্ছে তা বাইরে আসে না৷’‌’

ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাংকিং দুর্নীতির পরও ব্যাংকের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখেছেন মোদী৷ লিখেছেন, ‘‌‘‌ব্যাংকের টাকা ফেরত পাওয়ার তাড়াহুড়ো আমার ঋণ মেটানোর সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে৷ যে পরিমাণ বকেয়ার কথা ব্যাংকের তরফে বলা হচ্ছে, তার থেকে কম বকেয়া আছে৷ বকেয়ার পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা৷’‌’‌ প্রশ্ন উঠেছে, কাদের ছত্রছায়ায় বসে মোদী এইসব অসম সাহসী কাজ করছেন?‌

নীরবের যুক্তি, বকেয়ার পরিমাণ অনেক বেশি দেখানোর ফলে সংবাদমাধ্যমে হইচই পড়ে গেছে৷ দেশজুড়ে তার হীরে ব্যবসার শো-‌রুমে তল্লাশি হচ্ছে৷ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে বহু সামগ্রী৷ গোটা বিশ্বে রে রে পড়ে গেছে৷ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে ‘‌ফায়ারস্টার ইন্টারন্যাশনাল’‌ এবং ‘‌ফায়ারস্টার ডায়মন্ড ইন্টারন্যাশনাল’‌ কোম্পানি দুটি৷ ভাবমূর্তিও তলানিতে৷ এই কারণেই নাকি তাঁর টাকা ফেরতের ক্ষমতা নষ্ট হয়েছে৷ প্রসঙ্গত, গত ২৯ জানুয়ারি সিবিআইয়ের কাছে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ৷ অভিযোগে বলা হয়, ১১,৭৩৯ কোটি ৬০ লাখ ২৮ হাজার টাকা জালিয়াতি করা হয়েছে৷ ১১টি রাজ্যের ৩৫টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন গোয়েন্দারা৷ উদ্ধার হয়েছে ৫৪৯ কোটি টাকার হীরে ও সোনা৷ নীরব মোদীর ৫,৬৪৯ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি৷ তার ২১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে ইডি৷ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৮টি সম্পত্তি৷ সেই সঙ্গে ৪ সপ্তাহের জন্য বাতিল করা হয়েছে তার পাসপোর্টও৷

ঋণখেলাপিদের তালিকায় ৭৭ শতাংশ নামই বড় ব্যবসায়ী!‌ হীরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীকে বিপুল অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দিতে ব্যাংকের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ লেনদেন ব্যবস্থাকেই এড়িয়ে গিয়েছিলেন পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের মুম্বাই শাখার তদানীন্তন ডেপুটি ম্যানেজার গোকুলনাথ শেট্টি৷ নীরব যাতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির বিদেশি শাখা থেকে যথেচ্ছ ঋণ নিতে পারেন, সে জন্য ৭ বছরে প্রায় ১৫০টি গ্যারান্টি ইস্যু করেছিলেন পিএনবি-র মুম্বাই শাখার তৎকালীন ডেপুটি ম্যানেজার গোকুলনাথ শেট্টি৷ সবমিলিয়ে একের পর এক ব্যাংক কেলেঙ্কারি এবং নীরর মোদী এবং মেহুল চোকসির দুর্নীতির ধাক্কা থেকে নিজেদের সামলাতে মোদী সরকার দিশেহারা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন