ভারতের অবিশ্বাস্য জয় | বিশ্ব | DW | 19.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

ভারতের অবিশ্বাস্য জয়

প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করলেন ভারতের ক্রিকেটাররা। কার্যত বি টিম নিয়ে চতুর্থ টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৩২৮ রান তাড়া করে জিতল ভারত।

অবিশ্বাস্য জয়। অ্যাডিলেডে মাত্র ৩৬ রানে অলআউট হওয়ার পর যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল ভারত এবং ব্রিসবেনে চতুর্থ ইনিংসে ৩২৮ রান তাড়া করে জিতল, এক কথায় তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ৩৬ অল-আউটের লজ্জা ও হারের ধাক্কার পরের টেস্টই ভারত আট উইকেটে জিতেছে। তৃতীয় টেস্টে মাটি কামড়ে থেকে ড্র করেছে। শরীর খারাপ। দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে। তাও চার ঘণ্টা ধরে হনুমা বিহারী এবং সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে রবিচন্দ্রন অশ্বিন লড়াই করে টেস্ট ড্র করেছেন। এরপর চতুর্থ টেস্টে এলো রূপকথার জয়। ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়া না কি হারে না। চতুর্থ ইনিংসে তিনশর বেশি রানের লক্ষ্য দিয়ে তো নয়ই। সেখানে শেষ ইনিংসে ৩২৮ করে জিতলেন ঋষভ পন্থ, চেতেশ্বর পূজারারা।

চেতেশ্বর পূজারার শরীরে অন্তত বার পনেরো বল আছড়ে পড়ল। শর্ট পিচ ও বাউন্সার আছড়ে পড়েছে তাঁর হেলমেট, কাঁধ ও পাঁজরে। সে সব উপেক্ষা করে পূজারা লড়ে গেলেন। হাফ সেঞ্চুরি পেলেন। আর মাত্র ২৩ বছর বয়সী ঋষভ পন্থের অপরাজিত ৮৯ ও শুভনম গিলের ৯১ রান ভারতকে জয় এনে দিল।

কীভাবে খেলতে হয়েছে ভারতকে? ক্যাপ্টেন ও এই সময়ের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি নেই। প্রথম টেস্ট খেলার পর তিনি চলে গেছিলেন তখন সন্তানসম্ভবা স্ত্রী অনুস্কার পাশে থাকতে। পরে অনুস্কা মেয়ের জন্ম দিয়েছেন। শেষ টেস্টে ভারতের প্রধান বোলাররা আঘাত পেয়ে বাইরে। মহম্মদ সামি, বুমরা নেই। অশ্বিন বাইরে। একটাও টেস্ট না খেলা ওয়াশিংটন সুন্দর, একটি টেস্ট খেলা শার্দুল ঠাকুর কী খেলাটাই না খেললেন! মাত্র দুইটি টেস্ট ম্যাচ খেলা মহম্মদ সিরাজ ভেঙে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং মেরুদণ্ড। এই সিরাজই বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েও থেকে গেছিলেন খেলার মাঠে, তাঁর বাবার স্বপ্ন সফল করতে। অবাক করা আত্মবিশ্বাস ও স্কিল দেখিয়েছেন এই তরুণ ক্রিকেটাররা, যাঁদের অনেকের বয়স ২২-২৩ বছর।

গ্লেন ম্যাকগ্র বলছিলেন, ভারতের এই তরুণ ক্রিকেটারদের মনে ভয় নেই। এই সিরিজ জিতে ভারত বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি রেখে দিতে পারল।

আর গাভাস্কার এই জয়ের পর জানিয়েছেন, ''ভারতে এভাবেই এখন ক্রিকেট খেলা হয়। এটাই কেরিয়ার অপশন। রঞ্জি খেললে যা টাকা পাওয়া যায়, তাতে ভালোভাবে জীবন চলে যাবে। তাই ক্রিকেটাররা আস্থা নিয়ে নির্ভয়ে খেলতে পারেন।''

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কমেন্ট্রি করেন সাবেক লেফটন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ হলো বিশ্বের অন্যতম সেরা। কামিন্স সহ চার বোলার মিলে টেস্টে এক হাজার একশ উইকেট নিয়েছেন। আর ভারতের পাঁচ বোলার মিলে পেয়েছেন ১৩টি টেস্ট উইকেট। তা সত্ত্বেও কী অসাধারণ বল করলেন তাঁরা। আর ব্রিসবেনে খেলা হচ্ছে, যেখানে গত ২২ বছরে অস্ট্রেলিয়া হারেনি। উৎপলবাবুর মতে, এই জয়ের সঙ্গে পোর্ট অফ স্পেনে ৪০৪ রান তাড়া করে জেতার তুলনা করা যায়। তবে সেখানে গাভাস্কার, বিশ্বনাথ, গায়কোয়াড় সহ পুরো দল ছিল। আজ তো কার্যত ভারতের বি টিম হারালো অস্ট্রেলিয়াকে।

গাভাস্কারের মতে, ''আইপিএল-র পর ভারতের ক্রিকেটে বদল হয়েছে।'' আসলে আইপিএল ভারতের তরুণ ক্রিকেটারদের ভয় ভেঙে দিয়েছে। তাঁরা বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে ও বিরুদ্ধে খেলছেন। তাঁরা শিখছেন, জয়ের জন্য কীভাবে ঝাঁপাতে হয়। তাই প্রথম দলের সব পেসার চলে গেলেও পরের সারির ফাস্ট বোলাররা অসাধারণ খেলেছেন।

উৎপলবাবুও মনে করেন, আইপিএলের অবদান প্রচুর। নটরাজন, মহম্মদ সিরাজ, ওয়াশিংটন সুন্দররা তো আইপিএলে ভালো খেলার সুবাদেই দলে সুযোগ পেয়েছেন।

আর অস্ট্রেলিয়া তো জেতার জন্য চেষ্টা কম করেনি। বহুদিন পর আবার দেখা গেল বডিলাইন বোলিং। ভারতের অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভয় দেখাতে বডিলাইন বোলিং-কে অস্ত্র করেছিল তারা। শরীর লক্ষ্য করে শর্ট পিচ বল করে যাও। বাউন্সারে বাউন্সারে অস্থির করে দাও। তার সঙ্গে মাঠের ভিতর সমানে স্লেজিং ও দর্শক আসন থেকে বর্ণবাদী মন্ত্যব্যের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছে ভারতকে। এত কিছুর পর অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে হারিয়ে সিরিজ জিতে ঘরে ফেরা তাই এত মধুর। এই তরুণ ক্রিকেটাররা বুঝিয়ে দেয়েছেন, তাঁরা এখন অপ্রতিরোধ্য। দলে  সুযোগ পেলে পারফর্ম করার ক্ষমতা আছে তাঁদের। আর এই জয় হলো টিম ইন্ডিয়ার জয়। প্রত্যেকে কিছু না কিছু করে দেখিয়েছেন। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার দর্প খানখান করে দিয়ে আসতে পেরেছেন এই অনভিজ্ঞ কিন্তু প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটাররা।

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই)

সংশ্লিষ্ট বিষয়