ভারতীয় বিয়ের বাজারে বাড়ছে গোয়েন্দাগিরি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 10.07.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ভারতীয় বিয়ের বাজারে বাড়ছে গোয়েন্দাগিরি

ভারতে বর্তমানে চাহিদা বাড়ছে বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর৷ আর এই চাহিদা বিশেষ করে বিয়ের বাজারেই বেশি৷ পাত্র-পাত্রী সন্ধান, সম্ভাব্য বর-কনের গোপন তথ্যের সন্ধানেই মানুষ শরণাপন্ন হচ্ছে এসব গোয়ন্দাদের৷

detectives, India, Marriage, Bride, Groom, AIDS, Love, ভারত, বিয়ে, গোয়েন্দাগিরি

দুই সপ্তাহ পরেই বিয়ে৷ বড় মাপের জ্যোতিষীর সাথে পরামর্শ করেই বিয়ের তারিখ-সময় ঠিক করা হয়েছে৷ ভারতীয় প্রথা অনুযায়ী মহাধুমধামেই চলছে সবকিছুর আয়োজন৷ কিন্তু হঠাৎ করেই শোনা গেল বিয়ের আগ্রহ হারিয়েছে বর৷ স্বাভাবিক সন্দেহ, অন্য কোন মেয়ের সাথে নিশ্চয়ই প্রেম ছিল৷ তবে কারণ যা-ই হোক এতো সহজে তো আর ছেড়ে দেওয়া যায় না৷ ডাকা হলো বেসরকারি গোয়েন্দাদের৷ মাঠে নামলো গোয়েন্দা সংস্থা এএমএক্স৷ বলে রাখা ভালো, সংস্থাটির স্লোগানে লেখা - ‘বিয়ে হচ্ছে এক জুয়া খেলা৷'

যাহোক, গোয়েন্দারা জানিয়ে দিলেন - নির্ভরযোগ্য খবর হলো বরের দেহে সম্প্রতি ধরা পড়েছে এইডস৷ আর এই গোপন তথ্য কি করে পাওয়া গেল? এএমএক্স ছদ্মবেশে বরের কাছে পাঠিয়েছিল এক সুন্দরী মেয়েকে৷ বরের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে সেই ছদ্মবেশী গোয়েন্দা৷ আর ঘরে গিয়ে উদ্ধার করে এইডসের ওষুধ৷ শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয় তার গোপন অসুখের খবর৷ গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রধান বালদেভ কুমার পুরি জানান, স্বাভাবিকভাবেই ঐ বিয়ে বাতিল হলো৷ আর গোয়েন্দা তথ্যের পর এমন ঘটনা ঘটছে প্রায় ২০ শতাংশ৷ তিনি আরো বলেন, বিয়ের আগে এমন গোয়েন্দাগিরি করে সব খবর নিয়ে রাখাটা আসলেই দায়িত্ব৷ তাছাড়া বিয়ের পর এমন গোয়েন্দাগিরি হয় বেশ ব্যয়বহুল৷

Symbolbild Detektiv

পুরির মতোই একই কথা বললেন কানওয়ার বিক্রম সিংহ৷ নতুনদিল্লি ভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা ল্যান্সার্স এর প্রধান সিংহ৷ তিনি বলেন, বর্তমানে ভারতে বিয়ের প্রথায় বেশ পরিবর্তন আসছে৷ ঘটছে অনেক সামাজিক পরিবর্তন৷ ফলে এ ধরণের বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজও বেড়েছে৷ বিশেষ করে গত পাঁচ বছরে বেশ উন্নতি হয়েছে এই শিল্পে৷ সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় বর কিংবা কনের খোঁজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি৷ আর এসব বিজ্ঞাপনে বিশ্বাসও করছেন অনেক অভিভাবক কিংবা বিয়ের পাত্র-পাত্রী৷ তবে এসব বিজ্ঞাপনে প্রায়ই বেশ অতিরঞ্জিত তথ্য দেওয়া হয়৷ যেকারণে এখন এসব পাত্র-পাত্রী সম্পর্কে আসল খবর পেতে আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে এধরণের গোয়েন্দা সংস্থার৷

তবে এসব গোয়েন্দা তথ্যের জন্য অভিভাবকদের গুনতে হচ্ছে বেশ মোটা অঙ্কই৷ ক্ষেত্র বিশেষে খরচ পড়ছে ১৫ হাজার থেকে তিন লাখ রুপি৷ আর প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে সময় লাগে ৭ থেকে ১০ দিন৷ খরচের ক্ষেত্রে অবশ্য অভিভাবকদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার বিষয়টিও মাথায় রাখে সংস্থাগুলো, অন্তত কর্তৃপক্ষের তেমনটিই দাবি৷

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক