‌ভাঙড়:‌ ক্রমশ শক্ত হচ্ছে প্রশাসন | বিশ্ব | DW | 04.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌ভাঙড়:‌ ক্রমশ শক্ত হচ্ছে প্রশাসন

ভাঙড়ে কৃষিজমির ওপর দিয়ে উচ্চক্ষমতার বিদ্যুতের লাইন যাওয়া নিয়ে আন্দোলনে রাশ টানতে এবার মরিয়া রাজ্য সরকার৷ ইন্ধন জোগানোর দায়ে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বহিরাগতদের৷

বৃহস্পতিবার, ভাঙড় থেকে অনেক দূরে, বাগুইহাটির চিনার পার্ক এলাকায় পুলিশ হঠাৎই ঘিরে ফেলে প্রায় ৭০-৮০ জন কমবয়সি ছেলে-মেয়েকে৷এদের মধ্যে অনেকেই যাদবপুর এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া৷ রাজনৈতিকভাবে বামপন্থি ধারার বলে পরিচিত এই তরুণ-তরুণীরা ভাঙড়ে জীবন ও জীবিকা কমিটির সভায় যাচ্ছিলেন৷ একই তৎপরতায় জড়িত সন্দেহে অসম থেকে আসা ১০-১২ জন নকশালপন্থি কর্মীকেও আটক করা হয়৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এদিন যখন বীরভূমের কেঁদুলিতে জয়দেব মেলার উদ্বোধন করছেন, ভরা জনসভায় কথা বলছেন বাংলার লোক সংস্কৃতি নিয়ে, তখনই খবর এলো যে, ভাঙড়ের প্রস্তাবিত জনসভায় জনা দশেক লোক মাত্র এসে পৌঁছাতে পেরেছে৷ এর আগে মুখ্যমন্ত্রী ভাঙড়ে গিয়ে বলে আসেন, যাঁদের কৃষিজমির ওপর দিয়ে হাই টেনশন লাইন যাবে, তাঁদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে৷ এই ঘোষণার আড়ালে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, পাওয়ার গ্রিডের কাজ বন্ধ থাকবে না, চলবে৷

তবে মুখ্যমন্ত্রীর সফর এবং আশ্বাস ভাঙড়ে শান্তি ফেরাতে পারেনি৷ গত মঙ্গলবার, ঘটনাচক্রে সেদিনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের কৃষকদের সম্বর্ধিত করছিলেন, ‘তৃণমূল মদতপুষ্ট' বলে পরিচিত একদল গুন্ডা ভাঙ্গড় দু'‌নম্বর ব্লকের পদ্মপুকুর এবং খামারাইত গ্রামে হামলা করে৷ প্রায় এক ডজন বাড়িতে তারা ভাঙচুর চালায়, জখম হন অন্তত ৫ জন বাসিন্দা, বেশ কিছু বোমা পড়ে এবং গুলিও চলে বলে অভিযোগ৷ অবশ্য স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক, প্রাক্তন বাম নেতা রেজ্জাক মোল্লা পাল্টা অভিযোগ আনেন, তৃণমূল কর্মীরাই সেদিন আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাঁর দাবি, হামলা করেছিল মাওবাদীরা৷

বস্তুত বহিরাগত অতি বামপন্থিরাই ভাঙ্গড়ে জমি আন্দোলনের অশান্তিতে ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে শুরু থেকেই৷ এবং নিয়মিতভাবে ধর-পাকড় চালাচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসন, যাতে এই বহিরাগতদের ভাঙড়ের বাইরে রাখা যায়৷ মুখ্যমন্ত্রী ভাঙড় ঘুরে আসার পর সেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও জোরদার হয়েছে৷ যুক্ত হয়েছে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার তৎপরতা, যা স্পষ্ট বোঝা গেল বৃহস্পতিবারের তৎপরতায়৷

এদিকে অন্য একটি বিতর্কও এই সঙ্গে মাথা চাড়া দিয়েছে৷ ভাঙড় আন্দোলনের শুরু থেকেই একটা অংশ বলে আসছে, ৪৪ হাজার ভোল্টের হাই টেনশন বিদ্যুতের লাইন থেকে প্রাণীশরীরে কোনও ক্ষতি হয় না বা কৃষিজমির ফসলের ক্ষতি হয় না, যেমনটা দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা৷ যদি ক্ষতি হতো, তা হলে, দেশের বহু শহর, গ্রামে এ ধরনের বিদ্যুৎবাহী তার এবং টাওয়ার থাকে, সেখানেও ক্ষতির স্বরূপটা বোঝা যেতো৷ কাজেই বিদ্যুৎবাহী তারের বিকীরণ থেকে ক্ষতির অভিযোগ শুধু অবৈজ্ঞানিকই নয়, অবশ্যই উদ্দেশ্য প্রণোদিত৷

এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী যে ঘোষণা করে এলেন, যাঁদের জমির ওপর দিয়ে হাই টেনশন লাইন গেছে, তাঁরা সরকারি ক্ষতিপূরণ পাবেন, তাতে নতুন বিতর্ক ঘনিয়েছে যে, কার্যত এক অবৈজ্ঞানিক তত্ত্বকেই স্বীকৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এবং এই ক্ষতিপূরণের ঘোষণা, ভবিষ্যতের আরও অনেক যুক্তিহীন, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন দাবির রাস্তা খুলে দিল না তো?‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন