ভাঙনের মুখে জি-সেভেন? | বিশ্ব | DW | 08.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জি-সেভেন

ভাঙনের মুখে জি-সেভেন?

ক্যানাডার লা মালবে শহরে জি-সেভেন শীর্ষ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে ক্যানাডা ও ইউরোপ৷ ট্রাম্প নিজেও সংঘাতের পথে যেতে প্রস্তুত৷ জি-সেভেন গোষ্ঠীর ভাঙনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷

শিল্পোন্নত দেশগুলির গোষ্ঠী জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলন এতকাল নানা গোষ্ঠীর প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে পড়তো৷ এবার সেইসঙ্গে সদস্য দেশগুলির মধ্যেই যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে, তা সত্যি তুলনাহীন৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট' নীতির আওতায় বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন৷ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ তুলে ধরে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির উপর বাড়তি শুল্ক চাপিয়ে তিনি প্রবল সমালোচনার পাত্র হয়েছেন৷ গাড়ি আমদানির উপরেও তিনি শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ অ্যামেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি কাটাতে প্রয়োজনে তিনি আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত

আয়োজক দেশ ক্যানাডা ও ইউরোপ ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, তারা এই ভয়ভীতির সামনে নতি স্বীকার করবে না৷ তারা একযোগে ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতার ইঙ্গিত দিয়েছে৷ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ ইংরেজি ভাষায় লেখা এক টুইট বার্তায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একঘরে হয়ে থাকতে হয়তো প্রস্তুত৷ কিন্তু বাকি নেতারাও প্রয়োজনে ৬টি দেশের আলাদা চুক্তি করতে প্রস্তুত৷ তাঁর মতে, এই ৬টি দেশ কিছু মূল্যবোধ ও এক অর্থনৈতিক বাজারের প্রতিনিধিত্ব করে৷ ঐতিহাসিকভাবে এই জোট এক আন্তর্জাতিক শক্তি হয়ে উঠেছে, বলেন মাক্রোঁ৷

ট্রাম্প এমন বার্তার জবাব দিতে বিলম্ব করেননি৷ তিনি এক টুইট বার্তায় মন্তব্য করেন, ‘‘দয়া করে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ও প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁকে বলুন যে, তাঁরা অ্যামেরিকার উপর বিশাল পরিমাণ শুল্ক চাপাচ্ছেন এবং আর্থিক নয়, এমন অনেক বাধা সৃষ্টি করছেন৷'' এ প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বৃত্তের মাত্রা ১৫,১০০ কোটি ডলার৷ ক্যানাডাও মার্কিন কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করে না৷ জি-সেভেন সম্মেলনে তিনি এই সব বিষয় তুলে ধরার ইঙ্গিত দিয়েছেন৷

এমন প্রেক্ষাপটে অনেকে জি-সেভেন কাঠামোয় ভাঙনের আশঙ্কা করছেন৷ অ্যামেরিকাকে বাইরে রেখে জি-সিক্স প্লাস ওয়ান নামের এক কাঠামোর কথাও শোনা যাচ্ছে৷

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল আশঙ্কা করছেন যে, দুই দিনের সম্মেলনের শেষে যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐকমত্য সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে৷ তবে আপোষের বদলে মতপার্থক্য মেনে নিয়ে ঘোষণাপত্র না প্রকাশ করাই সততার পরিচয় হবে বলে তিনি মনে করেন৷ 

এই মুহূর্তে জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের তুলনায় ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে বেশি ব্যস্ত রয়েছেন৷ ওয়াশিংটনে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন৷ জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলন শেষ হবার আগেই শনিবার সকালে তিনি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন৷

জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবে ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির ক্ষেত্রে তাঁর মতবদল করতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ এবারের সম্মেলনে তাঁদের খোলামেলাভাবে ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে দেখা যাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন