ভাইরাসের সংক্রমণে ত্বকের ক্যানসার | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 31.10.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

ভাইরাসের সংক্রমণে ত্বকের ক্যানসার

বেশ কিছু ভাইরাসের মাধ্যমে ক্যানসারের মত রোগেরও সৃষ্টি হয়৷ যেমন পাপিলোমা ভাইরাস সারভিক্যাল বা গর্ভাশয়ের ক্যানসারের জন্য দায়ী৷ খুব সম্ভবত এক ধরনের পাপিলোমা ভাইরাস ত্বকের ক্যানসারের জন্যও দায়ী৷

পাপিলোমা ভাইরাস সারভিক্যাল বা গর্ভাশয়ের ক্যানসারের জন্য দায়ী

পাপিলোমা ভাইরাস সারভিক্যাল বা গর্ভাশয়ের ক্যানসারের জন্য দায়ী

সার্ভিক্যাল ক্যানসার বা গর্ভাশয়ের ক্যানসারের মত আরো বহু ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে ভাইরাসরা৷ জার্মান ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক হারাল্ড সুর হাউজেন এই আবিষ্কারের জন্য অন্য দুই বিজ্ঞানীর সঙ্গে তিন বছর আগে নোবেল পুরস্কার পান৷ খুব সম্ভবত ত্বকের ক্যানসারেরও উদ্দীপক এক ধরনের ভাইরাস৷ হাইডেলব্যার্গের ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্রের গবেষকরা এখন এই বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন৷ বিশেষ করে হোয়াইট স্কিন ক্যানসার বা বেসাল সেল কারসিনোমা'এর উদ্দীপক এক ধরনের পাপিলোমা ভাইরাস বলে মনে করেন তাঁরা৷ ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্রের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ লুটত্স গিসমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এই নামটি খুব একটা খাপ খায়না৷ কেননা টিউমারগুলি মোটেও সাদা রঙ এর নয়৷ দেখতে অনেকটা বড় আঁচিলের মত৷ যা থেকে অনেক সময় হালকা রক্তপাতও হয়৷''

সচরাচর দেখা যায় হোয়াইট স্কিন ক্যানসার

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ত্বকে এই ধরনের ক্যানসারই দেখা দেয়৷ জার্মানিতে প্রতি বছর এক লাখ সত্তর হাজার মানুয আক্রান্ত হন হোয়াইট স্কিন ক্যানসারে৷ তবে ব্ল্যাক স্কিন ক্যানসার বা মেলানোমার তুলনায় এটি খুব কম ক্ষেত্রেই মানুষকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়৷

Humane Papillomviren

ভয়াবহ পাপিলোমা ভাইরাস

বেসাল সেল কারসিনোমা থেকে মেটাস্টেসিস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও থাকে খুব কম এবং সহজেই অপারেশন করে কেটে ফেলা যায়৷ তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুখমণ্ডলে ক্যান্সার হওয়ার কারণে রোগীদের বেশ মানসিক চাপ সৃষ্টি করে৷ অনেকদিন ধরেই গবেষকরা সন্দেহ পোষণ করছিলেন, সূর্যরশ্মি ছাড়াও ভাইরাস দ্বারা এই ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে৷ গবেষক গিসমান জানান, ‘‘সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি বা আল্ট্রা ভায়োলেট রে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ৷ বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ মানুষদের জন্য এবং যে সব দেশে সূর্যের তাপ খুব প্রখর৷ যেমন অস্ট্রেলিয়ায় ত্বকের ক্যানসারের হার ইউরোপের তুলনায় ৫ গুণ বেশি৷ এটা খুবই স্পষ্ট যে সূর্যরশ্মির একটা বিশেষ ভূমিকা রয়েছে সেখানে৷ আমাদের ধারণা এক্ষেত্রে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ও ভাইরাসের সম্মিলিত পদক্ষেপ থাকতে পারে৷''

ভাইরাসরা ক্যানসারের পথ সুগম করে

গবেষকদের অনুমান, ভাইরাসরা স্কিন ক্যানসারের পথটা প্রশস্ত করে দেয়৷ সংক্রমণ দ্বারা তারা ত্বকের কোষে সূর্যরশ্মির প্রবেশ পথকে সুগম করে৷ গবেষকরা ইঁদুর নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাদের অনুমানের সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন৷ তাঁরা কিছু ইঁদুরের জিনে এমনভাবে পরিবর্তন ঘটান, যেন তারা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত৷ পরে গবেষণাগারের অন্যান্য ইঁদুরের সঙ্গে এই সব ইঁদুরকে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আনা হয়৷ ফলাফল: জিন পরিবর্তন করা ইঁদুরগুলি ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হয় অন্যগুলি সুস্থ থাকে৷ লুটত্স গিসমানের ভাষায়, ‘‘আমাদের ধারণা ভাইরাস দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত চর্মকোষগুলিতে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি সহজেই প্রবেশ করে টিউমার সৃষ্টি করতে পারে৷ সম্ভবত ভাইরাস ছাড়াও এইরকমটি হতে পারে, তবে তা খুব কম ক্ষেত্রেই৷''

Lutz Gissmann Deutsches Krebsforschungszentrum

ভাইরাস বিশেষজ্ঞ লুটত্স গিসমান

পাপিলোমা বিভিন্ন রকম হতে পারে

গর্ভাশয়ের ক্যানসারের তুলনায় প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ ভিন্নরকম৷ সেখানে প্রায় সব টিউমারের কোষেই ভাইরাসের জিন পাওয়া গেছে৷ কিন্তু ত্বকের ক্যানসারে ভাইরাসের জিন খোঁজা হলেও পাওয়া যায়নি৷ এই দুই ক্যানসারের ভাইরাস পাপিলোমা হলেও সম্ভবত তারা ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের৷ গর্ভাশয়ের ক্যানসার প্রতিষেধক টিকাও বের হয়েছে ইতোমধ্যে৷ প্রশ্ন এই যে, ত্বকের ক্যানসারের ক্ষেত্রে কী প্রতিরোধক বের করা সম্ভব? এ প্রসঙ্গে গবেষক গিসমান জানান, ‘‘এ জন্য এখনও বহু মাইল যেতে হবে৷ ১০ বা ২০ বছরের মধ্যে প্রতিষেধক বের করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করিনা৷ ব্যাপারটি খুব সহজ নয়৷ কোনো ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে এক্ষেত্রে বিনোয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে৷ সুস্পষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও গর্ভাশয়ের ক্যানসারের প্রতিষেধক বের করতে কতটা সময় ব্যয় হয়েছিল সেকথা চিন্তা করলে ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধকের ব্যাপারে আমি কিছুটা সন্দিহান৷''

তবে টিকার মাধ্যমে পাপিলোমা ভাইরাস দমন করে হোয়াইট স্কিন ক্যানসারের হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া গেলে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ পাওয়া যাবে যে, এই ভাইরাস ত্বকের ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে৷ কেননা প্রাণীর ওপর পরীক্ষা নিরীক্ষা এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা আনতে পারেনা৷ লুটত্স গিসমানের ভাষায়, ‘‘একটি ইঁদুর হল একটি ইঁদুর আর একজন মানুষ হলেন একজন মানুষ৷ তাই বিষয়টি বেশ জটিল৷ এখনও অনেক অনেক বাধা বিপত্তি পার হতে হবে৷ সে পর্যন্ত একটি বিষয় নিশ্চিত করে বলা যায়: খুব বেশি সূর্যস্নান স্বাস্থ্যকর নয়৷''

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন