ভাইরাল ভিডিওর পর মিশরে নারী অধিকার বিতর্ক | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.01.2022
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মিশর

ভাইরাল ভিডিওর পর মিশরে নারী অধিকার বিতর্ক

সহকর্মীদের সঙ্গে নেচেছিলেন৷ ভাইরাল হয় সেই ভিডিও৷ তারই খেসারত দিতে হলো আইয়া ইউসুফ নামে মিশরের বছর তিরিশের এক প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকাকে৷ তিন সন্তানের মা আইয়ার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করলেন তার স্বামী৷

(ফাইল ছবি) টিকটকে শেয়ার করা ভিডিওর কারণে ২০২০ সালে এই দুই নারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল মিশরের আদালত

(ফাইল ছবি) টিকটকে শেয়ার করা ভিডিওর কারণে ২০২০ সালে এই দুই নারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল মিশরের আদালত

শুধুমাত্র নাচের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত পর্যন্ত করা হয়েছে তাকে৷ ঘটনার পর ফের প্রশ্নের মুখে নারীদের অধিকার৷ ভিডিওতে দেখা গিয়েছে হেডস্কার্ফ পরে রয়েছেন তিনি৷ পরনে লম্বা হাতা জামা এবং পায়জামা৷ নীল নদে একটি ক্রুজ পার্টিতে সহকর্মীদের সঙ্গে নাচ করতে দেখা গিয়েছিল তাকে৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ বলেছেন, রক্ষণশীল পরিবারের কথা ভাবা উচিত ছিল আইয়ার৷ অনেকে প্রশংসাও করেছেন৷ সাম্প্রতিক সময়ে মিশরে একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীদের হেনস্থা করা হয়েছে৷

২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট আবদেল-ফাতা আল-সিসি মসনদে আসার পর এ জাতীয় ঘটনা বেড়েই চলেছে৷ একটি সাক্ষাত্কারে আইয়া জানিয়েছেন, স্বতস্ফূর্তভাবে নাচ করছিলেন তিনি ও তার সহকর্মীরা৷ আল-ওয়াতন সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি জানিয়েছেন, কে এমন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দিল তিনি জানেন না৷ বিনা অনুমতিতে এই ভিডিও পোস্ট কে বা কারা করেছেন জানলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন আইয়া৷

টুইটারের এক ব্যবহারকারী এই ভিডিও দেখে মন্তব্য করেন, একজন বিবাহিতার পক্ষে এভাবে নাচ করা ঠিক নয়! একজন লেখেন, লজ্জাজনক৷ এরপরই প্রশ্ন উঠছে, স্বাধীনভাবে একজন মানুষ হিসেবে কোনও মহিলা কি বাঁচতে পারেন না?

যদিও এই ঘটনা নিয়ে হইচই হওয়ার পর কাজে পুনর্বহাল করা হয়েছে আইয়াকে৷ মিশরের নারী আন্দোলন কর্মী নিহাদ আবু আল কাসমান কটাক্ষ করে বলেন, আদালতের কাছে নাচের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে৷ তাহলে বাড়ির কোনও অনুষ্ঠানেও মহিলারা তা মেনে চলবেন৷

১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি ৯০ ভাগ মিশরীয় মহিলা ২০১৯ সালে হেনস্থার মুখোমুখি হয়েছেন, এমনটাই জানাচ্ছে আরব ব্যারোমিটার রিসার্চ নেটওয়ার্ক৷ ২০২১ সালের জুলাই মাসে কায়রোর আদালতে ‘জনগণের মনপসন্দ নীতি ভঙ্গ করার অপরাধে’ ছয় থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে দু'জন নারীর৷

গত কয়েক দশকে মিশরে একের পর এক নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে৷ আরও বেশি রক্ষণশীল হয়ে উঠেছে মিশর৷

আরকেসি/জেডএইচ (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন