ভর্তি-দুর্নীতি রুখতে অবশেষে কড়া পদক্ষেপ | বিশ্ব | DW | 06.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

ভর্তি-দুর্নীতি রুখতে অবশেষে কড়া পদক্ষেপ

কলেজে ছাত্র ভর্তি নিয়ে দুর্নীতি রুখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে সরিয়ে দেওয়া হলো তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভানেত্রীকে৷

মেধা তালিকায় নাম থাকলেও কলেজে ভর্তি হতে গেলে মোটা টাকা দাবি করছিল ছাত্রনেতারা৷ না দিলে ধমকি থেকে হুমকি, সবই পাচ্ছিলেন ছাত্র-ছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকরা৷ এই অরাজকতা চলছিল কলেজের ফটকে বসে৷ ছাত্র-ছাত্রীরা যখন কলেজে আসছিলেন বাছাই তালিকা দেখতে, কাউন্সেলিংয়ের জন্য এবং ভর্তির টাকা জমা দিতে, তখনই ওইসব মাতব্বর ছাত্রনেতাদের খপ্পরে পড়ছিলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই দুর্নীতির খবর পেয়ে অত্যন্ত বিরক্ত হন এবং তাঁর নির্দেশে সক্রিয় হয় প্রশাসন৷

বিভিন্ন কলেজের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়৷ কিন্তু তাতেও দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছিল না৷ তখন আক্ষরিক অর্থেই রাস্তায় নামেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আচমকা চলে যান দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজ পরিদর্শনে৷ তাঁর নির্দেশে কলকাতার পুলিশ কমিশনারও কয়েকটি কলেজ ঘোরেন৷ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেন, দোষী ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে৷ যেসব কলেজে সমস্যা হচ্ছে, সেখানে দরকার হলে ছাত্রসংসদ ভেঙে দিতে৷ এবং চূড়ান্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে বুধবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভানেত্রী জয়া ঘোষকে পদ থেকে সরিয়ে মমতা কার্যত বার্তা দিলেন, তিনি কাউকে ছেড়ে কথা বলবেন না৷

অডিও শুনুন 01:03

ছাত্র সংসদের নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া নির্বুদ্ধিতাই শুধু নয়, অজ্ঞানতাও বটে: প্রদীপ ভট্টাচার্য

এর পাশাপাশি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার৷ বদলানো হলো কলেজে ভর্তির একাধিক নিয়ম, যা চালু হয়ে গেল অবিলম্বে৷ ভর্তি-দুর্নীতি নিয়ে ডয়চে ভেলের প্রথম রিপোর্টে প্রাক্তন ছাত্রনেতা রঞ্জিৎ সাহা সমস্যা থেকে মুক্তির ঠিক যে যে উপায় বলেছিলেন, সরকারি সিদ্ধান্তে কার্যত সেই ভাবনারই প্রতিফলন দেখা গেল৷ আগেই চালু হয়েছিল অনলাইনে ভর্তির আবেদন৷ এবার বাছাই তালিকা প্রকাশও কলেজের ওয়েবসাইটেই হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো৷ সেই সঙ্গে বাতিল করা হলো কলেজে হাজির হয়ে কাউন্সেলিং এবং নথি যাচাইয়ের পদ্ধতিও৷ নতুন ব্যবস্থায়, মেধা তালিকার ভিত্তিতেই সরাসরি ভর্তি করে নেওয়া হবে৷ কাউন্সেলিং এবং নথি যাচাই হবে ক্লাস চালু হয়ে যাওয়ার পরে৷ কলেজে এসে টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও বাতিল হলো৷ এবার থেকে টাকা জমা দেওয়া যাবে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে৷ এজন্য কলেজগুলিকে তাদের ব্যাঙ্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠাতে বলা হয়েছে৷

প্রাক্তন ছাত্রনেতা রঞ্জিৎ সাহা নিজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য-সমর্থক হয়েও আগের দিন কলেজের ছাত্র সংসদের নির্বাচন তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার ফলে কলেজে কোনো বিরোধী পক্ষ থাকছে না৷ এর সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ছাত্রনেতা, যারা শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত, তারা যথেচ্ছাচার করছে৷ আরেক প্রাক্তন ছাত্রনেতা, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্যও ডয়চে ভেলেকে একই কথা বললেন৷ তাঁর মন্তব্য, কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির নির্বুদ্ধিতাই শুধু নয়, অজ্ঞানতাও বটে৷ এ কারণে কলেজে যে শৃঙ্খলা ছাত্র-ছাত্রীরাই বজায় রাখতে পারে, সেটা আজ আর সম্ভব হচ্ছে না৷

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন