ভবিষ্যতে পুষ্টির সহজ উৎস হতে পারে তেঁতুলপানা | অন্বেষণ | DW | 25.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ভবিষ্যতে পুষ্টির সহজ উৎস হতে পারে তেঁতুলপানা

খাদ্য হিসেবে কচুরিপানার কথা ভাবা যেতে পারে কি? ক্ষুদিপানা বা তেঁতুলপানা কিন্তু অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য হয়ে উঠতে পারে৷ জার্মানির বিজ্ঞানীরা ডাকউইড চাষ ও খাদ্য হিসেবে তা প্রচলনের লক্ষ্যে কাজ করছেন৷

আকারে ছোট, ছায়া পেলেই  জলাশয়ের উপর ছড়িয়ে পড়ে৷ পুকুর মালিক মাত্রই ঘৃণা করেন৷ কারণ এগুলির দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে৷ ক্ষুদিপানা বা তেঁতুলপানা নামেই এই উদ্ভিদ বেশি পরিচিত৷ ইংরেজি ভাষায় তার পোশাকি নাম ডাকউইড৷

এই ব্যক্তি কিন্তু খাদ্য হিসেবে এই উদ্ভিদের গুণাগুণ নিয়ে মুগ্ধ৷ তাঁর কাছে এই উদ্ভিদ যাকে বলে ‘মিব়্যাকল প্লান্ট' – অর্থাৎ অসাধারণ গুণসম্পন্ন এক গাছ৷ উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ক্লাউস আপেনরোট বলেন, ‘‘ডাকউইড গোত্রের সব উদ্ভিদই অবহেলিত৷ অথচ মানুষের পুষ্টির ক্ষেত্রে এগুলি অভাবনীয় অবদান রাখতে পারে৷''

ক্লাউস আপেনরোট-এর কাছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ডাকউইড উদ্ভিদের সংগ্রহ রয়েছে৷ তাঁর গবেষণাগারে প্রায় ৫০০ পরিচিত প্রজাতির উদ্ভিদ বেড়ে উঠছে৷ সাধারণত সেগুলির মধ্যে এক ধরনের ফাঁপা পাতা থাকে৷ ফলে সেই উদ্ভিদ পানির উপর ভাসতে পারে৷

ভিডিও দেখুন 04:15

কচুরিপানা দিয়ে সার তৈরি

মাত্র এক দিনের মধ্যেই এর আকার দ্বিগুণ হতে পারে৷  ক্লাউস আপেনরোট এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছেন৷ তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘সব ডাকউইড প্রজাতির মধ্যে প্রোটিনের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি, শুকনো অবস্থায় যা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ৷ কিন্তু তার মান আরও বিস্ময়ের কারণ৷ কারণ অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে উপাদানগুলির অনুপাত খুবই ভালো৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেমনটা পরামর্শ দিয়ে থাকে৷''

 ডাকউইড-এর মাধ্যমে ভারতের খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধানের লক্ষ্যে ক্লাউস আপেনরোট সে দেশের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করছেন৷ গবেষকরা প্রোটিন-সমৃদ্ধ নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রজাতির মধ্যে পরিকল্পিত প্রজননের মাধ্যমে ফ্যাটি অ্যাসিডের অনুপাতও বাড়াতে চান৷

 থাইল্যান্ড ও লাওসে বেশ কয়েক শতাব্দী ধরে খাদ্য হিসেবে ডাকউইড কাজে লাগানো হয়৷ জার্মানিতে না হলেও ভারতে সারা বছর ধরেই খোলা আকাশের নীচে ডাকউইড চাষ করা সম্ভব৷ ক্লাউস আপেনরোট বলেন, ‘‘এখানে একাধিক সমস্যা রয়েছে৷ প্রথমত এখানে একটাই মরসুম রয়েছে৷ অর্থাৎ মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আগস্টের শেষ, কখনো সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ডাকউইড চাষ করা যায়৷ শীতকালে খোলা আকাশের নীচে চাষ করা সম্ভব নয়৷''

তাছাড়াপার্মাকালচার বা টেকসই কৃষি মুক্ত প্রকৃতির মাঝে ডাকউইড ক্ষতিকারক পদার্থ নিঃসরণ করে এবং অনেক জায়গা দখল করে৷ ডাকউইড যেখানে গজায়, সেখানে অন্য কোনো উদ্ভিদ টিকতে পারে না৷

জার্মানির কালকার শহরের দুই বিশেষজ্ঞ এই সমস্যার সমাধান করতে চান৷ এক পদার্থবিজ্ঞানী ও এক উদ্ভিদ প্রজননকারী গ্রিনহাউসে ডাকউইড উৎপাদন করতে এক অসাধারণ প্রকল্পে অংশ নিচ্ছেন৷ পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে কার্ল মিশায়েল স্মিট বলেন, ‘‘তিনি বলেন, আমি গাদা করে ডাকউইড রাখতে পারি৷ পানিতে যত বেশি আয়রন চেলেট দেবো, বৃদ্ধি ততই ভালো হবে৷ সেটা অবশ্যই আয়রন, সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতি ও লো লাইট টলারেন্সের সমন্বয়ে এই প্রভাব দেখা যায়৷ এমন প্রভাবের কথা শুনে পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে আমি বিশাল উৎসাহ পেয়ে এই প্রকল্পে জড়িয়ে পড়ি৷''

আয়রন বা লোহা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পদার্থ, যা সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতির জন্য প্রয়োজন হয়৷ আয়রন ডাকউইডকে এমনকি কম আলোর মধ্যেও সালোকসংশ্লেষ করতে সাহায্য করে৷ ডাকউইড ছায়ার মধ্যেও বেঁচে থাকার ক্ষমতা রাখে৷ কার্ল মারিয়া স্মিট ও হ্যারমান ইয়োসেফ ভিলহেল্ম এই আবিষ্কার কাজে লাগাচ্ছেন৷

তাঁরা এমন প্লান্ট তৈরি করেন, যার মধ্যে ডাকউইড উপর-নীচে বেশ কয়েকটি তলায় রাখা সম্ভব৷ ফলে মাত্র এক বর্গ মিটার জায়গায় তাঁরা ৫ থেকে ১০ বর্গমিটার পরিমাণ উপযুক্ত প্রজাতির ডাকউইড উৎপাদন করতে পারেন৷ ক্লাউস আপেনরোট বলেন, ‘‘ডাকউইডের নিজস্ব কোনো স্বাদ নেই বলা চলে৷ ফলে সুবিধা হলো সব ক্ষেত্রেই তা কাজে লাগানো যায়৷''

খাদ্য হিসেবে ডাকউইড অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর৷ অমলেট বা স্মুদি হিসেবে তা খাওয়া চলে৷ হয়তো অদূর ভবিষ্যতে রেস্তোরাঁর খাদ্য তালিকায়ও এমন পদ যোগ হবে৷

বারবারা পেটারমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন