বড় পরিসরের বই মেলায় কর্পোরেট কালচারের ছোঁয়া! | বিশ্ব | DW | 15.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বড় পরিসরের বই মেলায় কর্পোরেট কালচারের ছোঁয়া!

এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজনের দিক থেকে সবচেয়ে বড়৷ আর মেলায় নতুন বইও আসছে প্রত্যাশামতো৷ বইপ্রেমীদের সমাগমও ভালো৷ পরিবেশ নিয়েও নেই তেমন সমালোচনা৷ তবে প্রশ্ন উঠেছে মেলার ‘কর্পোরোটপ্রীতি’ নিয়ে৷

বইমেলায় এ পর্যন্ত নতুন বই এসেছে প্রায় দুই হাজার৷ আর আশা করা হচ্ছে, এবার বইমেলায় অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে পাঁচ হাজার নুতন বই আসবে৷ কারণ, মেলার শেষদিকেই বেশি বই প্রকাশ হয়৷ আর সেই হিসেবে প্রথম ১৪ দিনে  এক হাজার ৯শ' ৩২টি নতুন বই প্রকাশ ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়৷

এবারের বই মেলার আয়তন সাড়ে পাঁচ লাখ বর্গফুট৷ আর সাড়ে চারশ' প্রকাশককে দেয়া হয়েছে সাড়ে ৭শ' স্টল৷ মেলার মূল আয়োজন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে৷ ২০১৪ সাল থেকে মেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারিত হয়৷ শ্রাবণ প্রকাশনীর রবিন আহসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবার মেলার পরিবেশ ভালোই৷ নতুন বই আসছে৷ আশা করা যাচ্ছে এবার বইমেলায় পাঁচ হাজারেরও বেশি নতুন বই আসবে৷ তবে এত বই, কিন্তু পড়ার মতো বই কোথায়!’’

অডিও শুনুন 04:35

এবার বই মেলায় কর্পোরেট কালচারের দাপট: রবিন

রবিন আহসান বলেন, ‘‘প্রকাশের দিক দিয়ে কবিতার বই বেশি৷ আর বিক্রির দিক থেকে উপন্যাস বেশি এগিয়ে৷ এখানো হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসই জনপ্রিয়তার শীর্ষে৷ তাঁর উপন্যাসই বেশি বিক্রি হয়৷’’

এবারের মেলার বিস্তৃত পরিসর এবং নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট পাঠক ফাতেমা আবেদীন নজলা৷ তিনি প্রায় প্রতিদিনই বইমেলায় যান৷ তিনি বলেন, ‘‘মেলার বিস্তৃত পরিসরে ঘুরতে বেশ ভালো লাগে৷ ধুলোবালি আছে, তবে সহনীয় মাত্রায়৷ আর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভালো৷ কেউ কেউ এটাকে নিরাপত্তার কিছুটা বাড়াবাড়ি বললেও আমি মনে করি নিরাপত্তা চাইলে আমাদের লাইন দিতে হবে৷’’

অডিও শুনুন 02:29

ধুলোবালি আছে, তবে সহনীয় মাত্রায়: ফাতেমা আবেদীন

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘মেলার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে তেমন প্রচার নাই৷ তাই সবাই জানেন না৷ কিন্তু তথ্যকেন্দ্রে গেলে কোন প্রকাশনী নতুন কী বই এনেছে তা জানা যায়৷ কোন স্টল কোন জায়গায় তা-ও জানা যায়৷’’

লেখক সাদিয়া মাহজাবিন ইমাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বইমেলায় প্রচুর বই আসছে এবং বিক্রিও হচ্ছে ভালো৷ এটা প্রমাণ করে যে, পাঠকরা বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারাননি৷ বরং বাড়ছে৷ বই যদি বিক্রি না হয়, প্রকাশকরা যদি ব্যবসা না করেন, তাহলে এত বই ছাপা হবে কেন?'' তবে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ চাইলে বই চেক করবে, বইয়ে নরদারি করবে, এই বিষয়টি আমার কাছে অরুচিকর ঠেকেছে৷’’

অডিও শুনুন 02:07

পুলিশ চাইলে বই চেক করবে, এই বিষয়টি অরুচিকর ঠেকেছে: সাদিয়া মাহজাবিন ইমাম

আর রবিন আহসান বলেন, ‘‘এবার বই মেলায় কর্পোরেট কালচারের দাপট৷ বিকাশ ছাড়া আর কোনো কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করা যাবে না এই সিদ্ধান্ত বাংলা একাডেমি নিতে পারে না৷ পাঠক বই কিনে বইয়ের দাম কিভাবে পরিশোধ করবেন তা তাঁর বিষয়৷ হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে৷’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘বইমেলা নানা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে৷’’

বাংলা একাডেমির পরিচালক (জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ) অপরেশ কুমার ব্যানার্জী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবার বইমেলার সার্বিক আয়োজন আমরা সুন্দর করার চেষ্টা করেছি৷ মেলায় বইপ্রেমীদের উপস্থিতি ভালো৷ নতুন বই প্রকাশের পরিমাণও আশাব্যঞ্জক৷ তবে মেলায় নতুন ইট বিছিয়ে পথ তৈরি করতে হয়েছে বলে ধূলো কিছুটা আছে৷ আমরা পানি ছিটিয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি৷’’

অডিও শুনুন 01:49

এবার বিকাশ স্পন্সর হলেও আগে অন্যরা ছিল: অপরেশ কুমার ব্যানার্জী

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘বিকাশ পেমেন্ট নিয়ে হাইকোর্ট যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সে ব্যাপারের আমার কোনো মন্তব্য নাই৷ তবে এর সঙ্গে বাংলা একাডেমি জড়িত নয়৷ মেলার স্পন্সরদের বিষয়৷ এবার বিকাশ স্পন্সর হলেও আগে অন্যরা ছিল৷ তখন তাদের বিজ্ঞাপন গেছে৷’’

প্রসঙ্গত গত বছর (২০১৭) বইমেলায় মোট বই বিক্রি হয় ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার৷ মেলায় মোট নতুন বই এসেছিল ৩ হাজার ৬৪৬টি৷

২০১৬ সালে বই মেলায় নতুন বই এসেছিল ৩ হাজার ৪৪৪টি৷ আর সেবার মোট বিক্রি হয়েছিল ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই৷ ২০১৫ ও ২০১৪ সালের বই মেলায় মোট বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ২১ কোটি ৯৫ লাখ ও ১৬ কোটি টাকার বই৷

প্রতিবছরই বই মেলার পরিসর বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যাও বাড়ছে৷ একই সঙ্গে বাড়ছে বই বিক্রি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন